ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

উয়েফা ইউরোপা লিগ, সাতবার ফাইনালে খেলে প্রতিবারই শিরোপা জয়ের রেকর্ড স্প্যানিশ ক্লাবের, প্রথম ট্রফি জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে ইতালিয়ান ক্লাবের

রোমাকে কাঁদিয়ে সপ্তম স্বর্গে সেভিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪১, ২ জুন ২০২৩

রোমাকে কাঁদিয়ে সপ্তম স্বর্গে সেভিয়া

শিরোপা হাতে উল্লাস সেভিয়ার ফুটবলারদের

ফাইনালে উঠে আসা মানেই সেভিয়ার শিরোপা জয়। এ যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। আরও একবার ট্রফি জয় করে এ প্রমাণ রেখেছে ১৩৩ বছরের ঐতিহ্যাবাহী ক্লাবটি। বুধবার রাতে উয়েফা ইউরোপা লিগের ২০২২-২৩ মৌসুমের রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল মহারণে ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমাকে ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবে ভেসেছে সেভিয়া। এর ফলে ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা আসরে সাতবার ফাইনালে খেলে প্রতিবারই ট্রফি জয়ের উল্লাস করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। 
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসক্যাস অ্যারানায় অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটসহ মোট ১২০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকে। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দারুণ প্লেসিং শটে গোল করে রোমাকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা। বিরতির পর ৫৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে যেয়ে রোমার ইতালিয়ান সেন্টার ব্যাক জিয়ানলুকা ম্যানচিনি নিজেদের জালেই বল জড়ালে সমতা ফেরায় সেভিয়া। এরপর অনেক নাটকীয়তা শেষে টাইব্রেকারে শেষ হাসি হেসেছে অধিনায়ক জেসুস নাভাসের দল।  
টাইব্রেকারে সেভিয়ার চার জন শট নিয়ে সবাই গোল করেন। আর অসাধারণ সেভ করে নায়ক বনে যান তাদের বিশ্বকাপ মাতানো মরক্কোন গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। রোমার মাত্র একজন জালের দেখা পান। তিনি হচ্ছেন ইতালিয়ান মিডফিল্ডার ব্রায়ান ক্রিস্টান্টে। তাদের দ্বিতীয় শট নেওয়া জিয়ানলুকা ম্যানচিনির প্রচেষ্টা পা দিয়ে রুখে দেন বোনো। রজার ইবানেজের নেয়া তৃতীয় শটেও গোল পায়নি রোমা। প্রতিহত হয় সাইডবেঞ্চে লেগে। সেভিয়া এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে। তাদের চতুর্থ শট নিতে আসা আর্জেন্টাইন রাইটব্যাক গঞ্জালো মন্টিয়েলের শট পোস্টে লাগলে ক্ষনিকের জন্য আশা জাগে রোমার।

তবে শট নেয়ার আগেই রোমার পর্তুগীজ গোলরক্ষক রুই প্যাট্টিসিও গোললাইন থেকে এগিয়ে যাওয়ায় আবার শট নেয়ার সুযোগ পান মন্টিয়েল। এবার কোনো ভুল করেননি তিনি। জোরালো শটে বল জালে জড়ালে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় সেভিয়ার। মজার বিষয় হচ্ছে, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটিও করেছিলেন মন্টিয়েল। এই হারে হৃদয়ভাঙ্গার বেদনায় কাতর হয়ে মাঠে অঝোরে কাঁদতে থাকেন দিবালা, পেলেগ্রিনিরা। 
ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় সেভিয়া আগে ছয়বার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল। ফাইনালে শতভাগ সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতা এবারও ধরে রেখেছে তারা। অন্যদিকে রোমার তারকা কোচ জোশে মরিনহো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আগে পাঁচবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই পেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ। এবার তাকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। যে কারণে ম্যাচ শেষে রানার্সআপ ট্রফি গ্রহণ করেননি স্পেশাল ওয়ান। ৬২ বছর বয়সী সেভিয়া কোচ কোচ জোশে লুইস মেনডিলিবারের অধীনে বদলে যাওয়া সেভিয়ার জন্য এই শিরোপা দারুণ এক অর্জন। গত মার্চে মেন্ডিবিলিয়ার সেভিয়ার দায়িত্ব নেন। দুই মাসেই বড় শিরোপা স্বাদ নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই স্প্যানিশ কোচ। 
যদিও আগামী মৌসুমে সেভিয়াতে তার থাকা নিয়ে শঙ্কা আছে। শিরোপা জয়ের পর মেন্ডিবিলিয়ার বলেন, আমরা এখন এই শিরোপা জয় উদযাপন করবো। কারণ এর পিছনে অনেক শ্রম রয়েছে। আমি এখনো জানিনা চুক্তি নবায়ন করব কিনা। এ নিয়ে অবশ্য চিন্তা করছি না। অভিজ্ঞ এই কোচের অধীনে লা লিগায় সেভিয়া রেলিগেশন এড়িয়েছে। আর এখন ইউরোপীয়ান শিরোপা ঘরে তুলেছে। মেন্ডিবিলিয়ার আরও বলেন, আমি যখন এই ক্লাবে আসি তখন খেলোয়াড়দের বলেছিলাম তারা সবাই অত্যন্ত ভাল মানের খেলোয়াড়। কিন্তু মানসিকভাবে তাদের সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে হবে। আমার দায়িত্ব ছিল সেই জায়গায় তাদের সহযোগিতা করা। দিনের শেষে তারা প্রমাণ করেছে আসলেই তারা ভালো খেলোয়াড়। অন্যদিকে হতাশ রোমা কোচ মরিনহো বলেন, এই হার মেনে নেয়া কষ্টের। কেননা ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে। তাদের জন্য আমার বেশি খারাপ লাগছে। 
উল্লেখ্য, ফাইনালে পুরো ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ১৩টি হলুদ কার্ড পেয়েছে। যা উয়েফা ইউরোপা লিগের কোন ম্যাচে সর্বোচ্চ।

×