ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

ক্যারিবীয়দের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন হোপ

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৩৬, ২৩ জুন ২০২৪

ক্যারিবীয়দের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন হোপ

৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হওয়া রোস্টন চেইসের উল্লাস

ঘরের মাঠে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-সি থেকে দাপটের সঙ্গেই সুপার এইটে উঠে আসে রোভমান পাওয়েলের দল। কিন্তু সেরা আটে প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খায় ক্যারিবীয়রা। ‘ডিফেন্ডিং’ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে হারে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। সেমিফাইনালের রেসে টিকে থাকতে জিততেই হবে, এমন ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে উইন্ডিজ।

বার্বাডোজে সহ-আয়োজকদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা। কেনসিংটন ওভালে ১ বল বাকি থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে ১২৮ রানে অলআউট করে রোভমান পাওয়েলের দল সেটি পেরিয়ে গেছে ৯ উইকেট ও ৫৫ বল হাতে রেখে। ৩৯ বলে অপরাজিত ৮২ রানের টর্নোডে ইনিংসের পথে ৪ চারের বিপরীতে ৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন শাই হোপ! অবশ্য ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন স্পিনিং-অলরাউন্ডার রোস্টন চেইস।
যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেবল সেমির রেসেই ফেরেনি, নেট রান রেটেও ইংলিশদের তিনে নামিয়ে দুইয়ে উঠে এসেছে ক্যারিবীয়রা (+১.৮১৪, পয়েন্ট ২)। হারলেই বাদ এই সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং, বোলিংয়ে নিজেদের মেলে ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  রোস্টন চেইস, আন্দ্রে রাসেলরা দারুণ বোলিংয়ে লক্ষ্যটা রাখেন নাগালের মধ্যে। এরপর খুনে ব্যাটিংয়ে বাকি কাজটা সারেন শাই হোপ। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় জনসন চার্লসকে নিয়ে পাওয়ারপ্লেতে ৫৮ রান এনে দেন হোপ।

সপ্তম ওভারের শেষ বলে চার্লস ব্যক্তিগত ১৫ রানে আউট হলেও এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের ওপর দিয়ে ‘মহাপ্রলয়’ বইয়ে দিয়েছেন হোপ ও পুরান। ৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ১ উইকেট ৭৫। জয়ের জন্য দরকার ৭২ বলে ৪৯। হোপ-পুরান এখান থেকে বাকি কাজ সেরেছেন মাত্র ১৭ বলেই। পাঁজরের চোটে ব্র্যান্ডন কিং ছিটকে না গেলে এই ম্যাচে হয়তো খেলাই হতো না শাই হোপের। সেই হোপ ঘরের মাঠ বার্বাডোজে সুযোগের সদ্ব্যবহার কী দারুণভাবেই না করলেন! ওপেনিংয়ে নেমে একাই মারলেন ৮ ছক্কা। ৩ ছক্কা মেরে তাতে যোগ দিলেন নিকোলাস পুরান।

হোপ ৩৯ বলে ৮২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন। আন্তর্জাতিক টি২০তে এটি তাঁর ক্যারিয়ারসেরা। ছক্কা মারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেশা মতো, সবার জানা। এ ম্যাচ সেটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল তারা। চারের (৭টি) চেয়ে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসে ছক্কার (১১টি) সংখ্যাই বেশি।  
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে স্টিফেন টেলরকে হারালেও আন্দ্রিস গাউস ও নীতিশ কুমারের দারুণ ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লেতে তোলে ৪৮ রান। কিন্তু সপ্তম ওভারে এ জুটি ভাঙতেই মার্কিনদের ইনিংসে মড়ক লাগে। ঝড় তোলা গাউসকে (৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৯) পরের ওভারে বিদায় করেন আলজারি জোসেফ। চেইস ও রাসেলের ছোবলে এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

গাউস ও নীতিশ ছাড়া দলটির আর কোনো ব্যাটসম্যান যেতে পারেননি ২০ পর্যন্ত। সব ব্যাটসম্যান যেন আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত ১২৮ রান করতে পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে থামানোর জন্য তা মোটেও যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচসেরা হয়েছেন বার্বাডোজের আরেক সন্তান রোস্টন চেইস। এই অফ স্পিন অলরাউন্ডার করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

×