ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

অজিদের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা টাইগারদের

মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০০:১৪, ২০ জুন ২০২৪

অজিদের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা টাইগারদের

নেপালকে ধসিয়ে দেওয়ার নায়ক তানজিম সাকিবকে (মাঝে) ঘিরে সতীর্থদের উদ্যাপন

কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়াম অ্যান্টিগার নর্থ সাউন্ডে। বাংলাদেশ দল এখানেই টি২০ বিশ^কাপের সুপার এইটে দুটি বড় ম্যাচ খেলবে। পরপর দুই দিন এখানে শিরোপা জয়ে হট ফেভারিট দুই দল অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচ দুটির ফলাফলই বলে দেবে নতুন কোনো ইতিহাস রচিত হবে কি না নাজমুল হোসেন শান্তদের দ্বারা। ইতোমধ্যে আগের যে কোনা টি২০ বিশ^কাপ আসরের চেয়ে এবার সেরা সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা।

প্রথমবার কোনো একটি আসরে ৩ জয় পেয়েছে। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা ব্যাটারদের জন্য কঠিন উইকেটে। ম্যাচটি শুক্রবার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। এই ভেন্যুতে সাধারণত পেসাররা দাপট দেখান। তবে বড় দলগুলো খুব কমই ম্যাচ খেলেছে এখানে। যখনই খেলেছে তখনই ব্যাটিং দুর্দশাই দেখা গেছে। এবার জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সদের মতো তারকা পেসারদের সামনে বাংলাদেশের বিপর্যস্ত ব্যাটিং লাইনআপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে। একইভাবে এই আসরে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগও দুর্দান্ত। তাই বোলারদের লড়াই হবে এবং জমজমাট একটি ম্যাচ হওয়ার প্রত্যাশা সবার।

বাংলাদেশ এবার গ্রুপ পর্বের ৪ ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেটে জয়ের পর শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তীব্র লড়াইয়ের পর ¯œায়ু টানটান ম্যাচে মাত্র ৪ রানে হার দেখে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়ে সুপার এইটের পথে এগিয়ে যায়। শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টে সোমবার ১৯.৩ ওভারে ১০৬ রানে থেমে গিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু তানজিম হাসান সাকিবের রেকর্ডময় বোলিং ও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্ধর্ষ পারফরমেন্স সব শঙ্কা উড়িয়ে ২১ রানের জয় এনে দেয়।

দুজনই ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ৭ রান দেন। তানজিম ২ মেডেনসহ ৪টি ও মুস্তাফিজ ১ মেডেনে ৩টি উইকেট নেন। ২১ রানের এই জয়ের মাধ্যমে সুপার এইট সুনিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে টি২০ বিশ^কাপ ইতিহাসে সেরা সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আগের ৮টি আসরে কোনোবারই বাংলাদেশ ২টির বেশি জয় পায়নি। ৩ আসরে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। ৪ আসরে দুটি করে ও এক আসরে একটি ম্যাচ জিতেছে। এখন পেয়েছে সেরা সাফল্য।

তবে সুপার এইট পর্বে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ-১ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম লড়াই শুক্রবার ভোরে অ্যান্টিগায়। এই ভেন্যুতে বাংলাদেশ ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ^কাপে দুই ম্যাচ খেলেছে। প্রথমবার এই মাঠে নেমেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১০ উইকেটে হেরে পরে নিউজিল্যান্ডের কাছেও ৯ উইকেটে পরাস্ত হয়।

২০১৮ সালে একটি টেস্টে ইনিংস ও ২১৯ রানে এবং ২০২২ সালে সর্বশেষ এই মাঠে খেলা ম্যাচ, সেটিও টেস্টে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই বছর পর নিজেদের জন্য বিভীষিকাময় এই ভেন্যুতে অজিদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টাইগাররা। 
এই বিশ^কাপে বাংলাদেশের বোলাররা দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। ডানহাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিব, লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন ও বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান দারুণ ফর্মে আছেন। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠগুলোও তাদের বেশ সুবিধা দিচ্ছে। অ্যান্টিগার উইকেটে কিছুটা বাড়তি বাউন্স রয়েছে এবং পেসাররা বেশ সুইং আদায় করে নিতে পারেন। এ কারণে পেসাররা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সেজন্য ঠিক লাইন-লেংন্থে বোলিং করতে পারলে বেশ সমস্যাই হবে ব্যাটারদের। ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস ও টিম ডভিডের মতো মারকুটে ব্যাটারদের বিপক্ষে অবশ্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে তানজিম-মুস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদের জন্য। যদিও গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে তারা দুর্দান্তই ছিলেন। এ ছাড়া উভয় দলের জন্য বড় ফ্যাক্টর হতে পারেন দুই লেগস্পিনার এডাম জাম্পা ও রিশাদ হোসেন। দুজনই বেশ ফর্মে আছেন এবারের বিশ^কাপে।

এই ম্যাচে পূর্ণ শক্তি নিয়েই নামবে অজিরা। হ্যাজলউড ও কামিন্স খেলেননি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে। তারা এবার নামবেন। বাংলাদেশের টপঅর্ডাররা নিয়মিতই হতাশা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। এবারও তারা অজি বোলিংয়ের সামনে কতখানি ভালো করতে পারবেন তা নিয়ে আছে সংশয়। কারণ অ্যান্টিগার এই ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত কোনো টি২০ খেলেনি বাংলাদেশ দল।

অস্ট্রেলিয়া চলতি বিশ^কাপে প্রথমবার এই ভেন্যুতে টি২০ খেলেছে নামিবিয়ার বিপক্ষে এবং ৭৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়েছে মাত্র ৫.৪ ওভারে। একই দলের বিপক্ষে নামিবিয়াও বৃষ্টি বিঘিœত ম্যাচে ১০ ওভারে ১২২ রান তুলেছে। তাই বড় দলগুলো এখানে রান করতে পারে সেই উদাহরণও সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যচেও বৃষ্টির বাগড়া থাকবে। এর মধ্যে অজিদের দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা বাংলাদেশের বোলারদের। আর ব্যাটারদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রার্থনা নিশ্চিতভাবেই করবে বাংলাদেশের তাঁবু।
অ্যান্টিগায় এখন পর্যন্ত অবশ্য ২৯ টি২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে যার অধিকাংশই খেলেছে সহযোগী সদস্য দেশ বিশ^কাপ বাছাইয়ে। আগে ব্যাট করা দল ১৪ বার জিতেছে আর পরে ব্যাট করা দল জিতেছে ১৩বার। আগে ব্যাট করে গড় দলীয় রান ১২৩ এবং পরে ব্যাট করা দলের গড় রান ১০৫। তাই টস জেতা এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১০ বার টি২০ ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ৪ বার জিতলেও হেরেছে ৬ বার। সর্বশেষ ৬ মোকাবিলাতেই ৪ জয় বাংলাদেশের। সেটি মিরপুরের কঠিন উইকেটে।

কিন্তু ৫ বিশ^কাপে দুই দলের মুখোমুখিতে প্রতিবারই সহজ জয় পেয়েছে অজিরা। তাই এবারও তাদের জয় পাওয়টাই থাকবে লক্ষ্য। সুপার এইট পর্ব দুদলই শুরু করবে এই ম্যাচ দিয়ে। এজন্য জয় পেতে উন্মুখ হয়েই নামবে দুদল। নিশ্চিতভাবেই বিজয়ীরা সেমিফাইনালের রেসে এগিয়ে যাবে অনেকখানি। কারণ সুপার এইটের দুই গ্রুপ থেকে ২টি করে দল উঠবে সেমিতে। সব দলকে খেলতে হবে ৩টি করে ম্যাচ। এসব হিসাব কষেই জয় দিয়ে শুরু করতে চায় উভয় দল। বিশ^কাপ মঞ্চে প্রথমবার অজিদের হারিয়ে নিজেদের সাফল্যটাকে আরও রঙিন করার সুযোগ শান্তদের।

×