ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

তাপপ্রবাহের কবলে দেশ

নাজনীন বেগম

প্রকাশিত: ২১:১৮, ৫ জুন ২০২৩

তাপপ্রবাহের কবলে দেশ

গ্রীষ্মের খরতাপে নিতান্ত দগ্ধে জনজীবন নাজেহাল

গ্রীষ্মের খরতাপে নিতান্ত দগ্ধে জনজীবন নাজেহাল। কবিগুরুর ভাষায় ‘তাপস নিঃশ্বাস বায়ে’র মাস বৈশাখের যবনিকা পাতে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝিতে সারাদেশ যেন চরমভাবাপন্ন রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকায়ও চলছে তাপপ্রবাহের নিদারুণ জ্বালা। আর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জনজীবনকে নাভিশ্বাস পর্যায়ে নিয়ে যেতে যেন মরিয়া। বৈশাখ মাসের কাল বৈশাখীর ঝাপটায় মাঝে মধ্যে বৃষ্টির দেখা মিললেও এখন প্রকৃতি যেন খরার আবর্তে অসহায়। মানুষ মাত্রাতিরিক্ত তাপের শিখায় জ্বলন্ত পরিবেশে কোনোমতে মানিয়ে নিচ্ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং- পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ঘাটতি।

ইতোমধ্যে দেশের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কয়লার অভাবেই পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা দৃশ্যমান হতে সময়ও লাগবে না। সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে, সেখানে অসহনীয় গরমে সাধারণ মানুষ লাগাতার বিপন্নতার আবর্তে। বিদ্যুৎ সংকট সামলাতে যে আইপিএস সেটাও সাধারণ মানুষের ঘরে না থাকার বিসদৃশ্যই প্রতীয়মান। মোটকথা এই সময় দেশে যে তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, তাতে সিংহভাগ মানুষের অত্যধিক গরমের কষ্ট সহ্য করে যাওয়া  ছাড়া বিকল্প নেই। তার ওপর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাকাল হয়ে উঠবে তাতে সন্দেহ নেই।

শুধু যে কয়লার অভাব তা কিন্তু নয় বরং ডলার সংকটে বাইরে থেকে কয়লা আমদানিও থমকে আছে। যা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে নিয়ে যায়। এই রুদ্র রোষে প্রকৃতি যে তাপপ্রবাহ বিতরণে ব্যস্ত, সেখানেও আধুনিক যন্ত্র সভ্যতারই চরম বিকিরণ। কয়লা বিদ্যুৎ এবং কার্বন নিঃসরণে প্রকৃতির রুক্ষ মূর্তি ধারণ, তাও নতুন উদ্ভাবনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। প্রকৃতির এমন বিসদৃশ্য জ্বলন্ত অবয়বকে থামাতে গেলে যন্ত্র সভ্যতার লাগাম টেনে ধরাও এখন সময়ের দাবি। 
ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে আওয়াজ উঠেছে ‘ধরিত্রী বাঁচাও’ স্লোগানে। প্রাক শিল্প যুগের তুলনায় প্রাকৃতিক উষ্ণতা দেড় থেকে ২ ডিগ্রির ওপরে তোলাই যাবে না। এমন সতর্ক ও সাবধান বাণী সেই গত শতাব্দীর ক্রান্তিলগ্ন থেকেই উচ্চারণ করে আসছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। কয়লা বিদ্যুতের বিপরীতে প্রকৃতি সহায়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সচেতন দায়বদ্ধতা। প্রচ- খরতাপে সৃষ্ট দাবানলে কোথাও কোথাও বন-বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে, যা সহজাত প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। বিপন্ন  হচ্ছে জনজীবন। প্রচণ্ড খরতাপে নদী, নালা, পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়াই নয়, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াও পরিবেশের নিদারুণ দুঃসহ চিত্র।

খরা, জলোচ্ছ্বাস অতিবর্ষণ, অনাবৃষ্টির শিকার হয়ে দিন দিন মানুষের স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় রুষ্ট প্রকৃতি ধরণিকে বসবাসের অযোগ্য করতেও সময় নেবে না। যন্ত্র সভ্যতার বিকাশমান দাপটে সবুজ প্রকৃতি তার সহনীয় রূপকে যে মাত্রায় দূষণের পর্যায়ে দাঁড় করাচ্ছে, তা যেন মানুষের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার অবধারিত বিপাক। 
সমুদ্র পরিবেষ্টিত ও নদী¯œাত বাংলাদেশও এখন চরম উষ্ণতার কোপানলে আবর্তিত। তার ওপর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি পরিস্থিতিকে যে ভয়াবহ অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে, সেটি নিয়েও ভাবার অবকাশ রয়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার দুরবস্থা পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। অত্যধিক গরমে চরম দুঃসময় কাটাচ্ছে সারাদেশের মানুষ। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে নিত্য ভোগ্যপণ্যের বাজারদর। সেখানেও যেন আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে। রমজানের আগে থেকে পেঁয়াজ, চিনি, ভোজ্যতেলের যে বাড়তি দাম তা গত কয়েক মাসে দফায় দফায় বেড়েছে। কোনো জিনিসের দাম একবার বাড়লে সেটা তো কমেই না, বরং কিছু উৎসব আর পার্বণকে কেন্দ্র করে নিয়মিত বাড়ানোই যেন অবধারিত নিয়ম হয়ে উঠেছে। সামনে ঈদুল আজহা আজহা।

পেঁয়াজের দাম তার আগে থেকেই লাগামহীন। রসুন-আদার দামও চড়া। ঈদুল আজহা বলে কথা। এই ঈদে কোরবানির মাংসের বিষয় তো থাকেই। তাই রান্নায় প্রয়োজন পড়ে রকমারি মসলার। সেখানেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। ফলে, ক্রেতারা সেগুলো উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তার ওপর ২০২৩-২৪ সালের নতুন বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে। সামনের অর্থবছর জনগণ কতখানি স্বস্থিতে পার করবে তেমন জবাব অবশ্যই সময়ের হাতে। সব দুঃসময় আর অস্বস্তিকর পরিবেশ যেন চেপে বসে অসহায় অতি সাধারণ জনজীবনে। দেশের সিংহভাগ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তারাই পড়ে চরম বিপাকে। অবশ্য ফল পাকার ভরা মৌসুমে আম জাম কাঁঠালের দাম সহনীয়। তীব্র তাপপ্রবাহ ছাড়া ফল পাকার স্বাভাবিক পরিবেশ যেন থাকেই না।

সংগতকারণে পাকা ফলের মহাসমারোহে নিদাঘ মধ্যাহ্নও প্রকৃতির সঙ্গে মিলে মিশে একাত্ম হয়। তবে মৌসুমি ফলের এমন মধুমাস চলে যেতেও সময় নেয় না। মাসখানেকের মধ্যেই পাকা ফলের রঙিন রস যেন ফুরিয়েও যায়। 
শস্য, শ্যামল বর্ণিল প্রকৃতির নির্মল ছায়ায় আবহমান বাংলা অপরূপে সজ্জিত এক নৈসর্গের রানী। কবি, শিল্পীদের বন্দনায় চিরস্থায়ী রূপশৌর্যও উর্বর পলিমাটির শাশ^ত বাংলাকে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার নিত্যনতুন উদ্ভাবনে সেই সবুজ, স্নিগ্ধ প্রকৃতি আজ রুদ্রতার দুঃসহ জাঁতাকলে। সেখানেও এসেছে অসহনীয় দুর্ভোগ। বিদ্যুৎ সংকটের চরম বিপন্নতায় পরিবেশ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাও দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। যখন থেকে প্রকৃতিকে বিজ্ঞান জয় করেছে, তখন থেকেই নাকি শুরু হয়েছে নৈসর্গের ওপর অবিচার, অনিয়ম। সেও প্রায় অনেক কাল আগের ঘটনা।

১৭৬০ সালে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব দুনিয়াজুড়ে যে চমক সৃষ্টি করে, তারই ধারাবাহিকতায় প্রকৃতি চরম প্রতিশোধ নিতে বিভিন্নভাবে জনজীবন বিপন্ন করে চলেছে। সংশ্লিষ্ট প-িত আর বিজ্ঞানীরা বলছেন বিকাশমান সভ্যতা যতখানি এগিয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞও পিছু হটেনি। বরং সমানতালে প্রকৃতিকে নয়-ছয় করতে যান্ত্রিক কলাকৌশলের গতি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার নয়। আদিম গুহাবাসী মানুষ ক্ষুধায়, অন্নজলে কষ্ট পেত তেমনই বর্ণিত আছে ইতিহাসে। সংগতকারণে নিত্য জীবনপ্রবাহ স্বস্তি ও স্বাভাবিক ছিল না। দারিদ্র্যতা মানুষকে সেভাবে রেহাই দিত না। তেমন দুঃসময় এখন অবধি সিংহভাগ মানুষের কাটেইনি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র।

মানুষের ন্যায্য চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো অনেকের কাছে বেশিরভাগ সময় অধরাই থেকে যায়। এর সচিত্র প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসতেও সময় লাগে না। ধারণা করা হচ্ছে, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা মুষ্টিমেয় মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আর স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তাকে স্পর্শ করতে যথাসম্ভব দূরেই থেকেছে। কিন্তু অবধারিত বিজ্ঞানের পাশর্^প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো প্রকৃতি তার সহজাত বৈশিষ্ট্য হারাতে থাকে, সেখানেও চরম দুর্বিপাকের জালে পড়ে সেই সিংহভাগ সাধারণ মানুষই। যারা শুধু প্রতিনিয়ত দারিদ্র্যতার মোকাবিলাই করছে না, অসহনীয়ভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও শিকার হচ্ছে। এমন অভিমত বিদগ্ধ সমাজ-বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের।

তাদের মতে, সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খায়। বিদ্যুৎ সংকটে তারাই পড়ে সবার আগে বিপাকে। প্রাকৃতিক দূষণ আর বিপর্যয়ে অসহায় মানুষ সংগ্রাম করে টিকে থাকে। অর্থাৎ বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুফলগুলো উপভোগ করে মুষ্টিমেয় সচ্ছল মানুষ। আর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় আবর্তিত হয় অতি সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী। তারা প্রচ- তাপপ্রবাহে জ¦লে পুড়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে নিজের যথার্থ শ্রমের দাম কিংবা মর্যাদাটুকুও পায় না।
প্রাকৃতিক দূষণ প্রক্রিয়ায় ঝড়, বৃষ্টি, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, খরার সঙ্গে সমুদ্র কিংবা নদীগর্ভে বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়াও পরিস্থিতির নির্মম পরিহাস। উপকূলবাসী সাধারণ জনগোষ্ঠী প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করে টিকে থাকে। এই সংগ্রাম যেন তাদের জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী ছিল কোনোভাবেই প্রকৃতির সহজাত ক্ষমতাকে বিনষ্ট করা যাবে না। নৈসর্গ যখন রুষ্ট হয়ে ওঠে তখন তার চরম মূল্য গুণতে হয় নি¤œবিত্ত সাধারণ মানুষদের। যাদের যথার্থ আশ্রয়স্থল নেই, ঠিকানা নেই, বিত্ত বৈভবের জৌলুস নেই। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো সূচকে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে অনুপ্রবেশের অধিকার পর্যন্ত নেই। সত্যিই যথার্থ এবং অকাট্য যুক্তি।

এখানে আরও একটি নির্ভেজাল সত্য উপস্থাপন জরুরি। শুধু যে মানুষে মানুষে প্রভেদ তা কিন্তু নয়, বিশ^জুড়ে ধনী-দরিদ্র দেশের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় আমাদের মতো ক্ষুদ্র দেশ কার্বন নিঃসরণ করে কমই। কিন্তু তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া থেকে আমরা আসলে সেভাবে সুরক্ষিত নই। কয়লা বিদ্যুতের দূষণে প্রকৃতি যখন রুষ্ট হয়, তখন বাংলাদেশের মতো দেশগুলো তেমন বিপর্যয়কে সামলাতে সত্যিই হিমশিম খায়। সংগতকারণে বাংলাদেশও এখন উষ্ণ ভাবাপন্ন দেশ হিসেবে ক্রমান্বয়ে প্রাকৃতিক সংহারকে সামলাচ্ছে। শৈশবে-কৈশোরে এত উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম কিনা মনে পড়েছে না। গত শতাব্দীর ক্রান্তিকালে নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্ত ভাবাপন্ন পরিবেশের দ্বারপ্রান্তেই ছিল।

উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে অনেক প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে। কিন্তু উষ্ণতার এমন প্রকোপ গত শতাব্দীর অন্তিম সময়ে সারাবিশে^ ঝড় তোলে। তখন থেকেই বাংলাদেশের চরম বিপত্তিকালের দুঃসময়ে অনুপ্রবেশ। সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদরা বলছেন, সাধারণ মানুষের আওতার বাইরে প্রকৃতিকে তার জায়গা থেকে সরানোর সক্ষমতা রয়েছে প্রভাবশালী মুষ্টিমেয় দেশ এবং মানুষের। সংগতকারণে খরতাপ, অতিবর্ষণ, অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস সবই হচ্ছে উন্নত দেশ এবং অপেক্ষাকৃত এগিয়ে থাকা মুষ্টিমেয় সফল ব্যক্তির কর্মকান্ডেই। তাই লড়াইটা বিশ^ব্যাপী হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ২০২১-২২ সালে কপ সম্মেলনের ২৬-২৭ অধিবেশন পার হয়ে গেল। এমন সম্মেলনে শুধু ‘ধরিত্রী বাঁচাও’ বার্তা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ, কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও অত্যন্ত জরুরি। 

লেখক : সাংবাদিক

×