ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

অ্যামাজন, শেভরন, উবার বোয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ২৮ মে ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়াতে চায়

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজন শেভরন উবার বোয়িং কোকাকোলা ও মাস্টার কার্ডের মতো অন্তত ১৫টি কোম্পানি বাংলাদেশে নতুন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে সফররত মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা।

তারা জানিয়েছে, বিনিয়োগে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা এবং উৎপাদিত পণ্য ও সেবা রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে এদেশে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে করনীতির ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করে মার্কিন প্রতিনিধিরা। 
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সফররত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্টিভেন কোবোসের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রতিনিধি দলটি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক আরও গভীর হবে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমেই। এ জন্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে উভয়দেশ জোর দিয়েছে। 
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স খাতের বড় প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া জ্বালানি খাতের অন্যতম কোম্পানি শেভরন, এক্সিলেরেট এনার্জি, জনপ্রিয় পানীয় ব্র্যান্ড কোকাকোলা, ড্রিংকওয়েল, পরিবহন সার্ভিস দেওয়া প্রতিষ্ঠান উবার, ফেসবুক কোম্পানি মেটা, ব্যাংকিং সেবা খাতের বড় প্রতিষ্ঠান মাস্টার কার্ড, ভিসা, এইচএসবি, কৃষিখাতের এগ্রিসাইন্স, বিমান প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইডেলম্যান গ্রুপ, ডানাহার গ্রুপ, কর্টেভা ও ব্ল্যাকস্টোন কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করছেন। উল্লেখ্য, অ্যামাজন, শেভরন, বোয়িং, কোকাকোলা, ভিসা, মাস্টার কার্ড, উবার ও মেটার বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। এসব কোম্পানিও নতুন করে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে সেখানে এখন শুধু পোশাক রপ্তানি হয়। আবার আমরা তাদের তুলা আমদানি করছি।

তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং তুলা আমদানির ক্ষেত্রেও দুইদেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া নতুন নতুন আমেরিকান কোম্পানি, যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী, যেমন, আজকে অ্যামাজন আসছিল। তারা কিভাবে বাংলাদেশের পণ্য এখানে যুক্ত করতে পারে। কিভাবে বাংলাদেশের মার্কেট এই গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হতে পারে, এই সুযোগ-সুবিধাগুলো আমাদের এখানে আসতেছে।  তিনি বলেন, আমাদের ৯০ শতাংশ ব্যবসা কিন্তু গার্মেন্টসে।

এখানে কিন্তু গার্মেন্টসের কেউ ছিল না। তারা মূলত এদেশের ই-কমার্স ইনফ্রাসট্রাকচার, ই-কমার্স বিজনেস থেকে শুরু করে এ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। এখানে শেভরন বোয়িং, মাস্টার কার্ড, ভিসা. মেটা ও কোকাকোলার প্রতিনিধি ছিলেন। অর্থাৎ এখানে স্টার্টআপ পর্যায় থেকে আরম্ভ করে একেবারে বোয়িং পর্যন্ত তাদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, সাত জানুয়ারি নির্বাচনের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও মনে করে একটি নির্বাচিত স্থিতিশীল সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। মূলত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দুইদেশই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কটন নিয়ে কথা বলেছি, আমরা ইউএস কটনের বড় আমদানিকারক দেশ। সেই ইউএস কটন থেকে তৈরি করা পণ্য কিভাবে মার্কেট এক্সেস পেতে পারে, সেজন্য তারা কাজ করবেন। অ্যামাজন সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। 
তারা এদেশে বন্ডেড ওয়্যার হাউস তৈরি করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা সেখান থেকে পণ্যগুলো সংগ্রহ করবে। এরপর তারা সেগুলো আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিক্রি করবে।
আহসানুল ইসলাম টিটু আরও বলেন, আগামী ২০২৬ সালের মধ্য এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এই দুই বছরের মধ্য বিভিন্ন দেশের মার্কেটে এক্সেস পেতে চাই। তিনি বলেন, কোনো বড় কোম্পানির যখন কোন  চেম্বারের মাধ্যমে আসে বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যৎ দেখেই আসে।

আমরা চেষ্টা করব কিভাবে আমাদের পলিসি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে পারি। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন ব্যবসায়ীরা করনীতির ধারাবাহিকতা চেয়েছেন। সেই সঙ্গে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা চায়। আগামী ৫-১০ বছর ট্যাক্সের পরিবেশ যেন স্থিতিশীল থাকে। এ ছাড়া টোল প্লাজা কিংবা মেট্রোরেলে সংযুক্ত হতে চায় মার্কিন কোম্পানি ভিসা ও মাস্টার কার্ড।

ভিসা ও মাস্টারকার্ড আগামীতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করতে চায়। টোল প্লাজা বা মেট্রোরেলের টিকিট কাটতে লম্বা লাইন ধরতে হয়। ভিসা, মাস্টারকার্ডে এআই প্রযুক্তি যুক্ত হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। পেমেন্ট হবে এআইয়ের মাধ্যমে। এছাড়া মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং চায়, নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাদের প্রস্তাবেরও ‘যথাযথ’ মূল্যায়ন করা হোক। অ্যামাজন কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা চেয়েছে।

এদেশের উৎপাদিত পণ্য তারা সরাসরি রপ্তানি করতে চায়। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করবে প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস নির্মাণে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএরও দাবি রয়েছে। এ ছাড়া দেশের কৃষিখাতে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে চায়। বিশেষ করে মেটার এআই ফ্রি একটা টুলস চলে এসেছে। মেটা এটা নিয়ে অনেক কাজ করতে চায়।

ইতোমধ্যে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে আইনে কিছু ইনপুট দিয়েছে। এখানেও তারা কাজ করতে চায়। ডেটা সেন্টার নিয়েও কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি মেটা।

×