ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

সংস্কৃতি সংবাদ

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন শাহ্নাজ মুন্নী

সংস্কৃতি সংবাদ

প্রকাশিত: ০০:১৫, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন শাহ্নাজ মুন্নী

জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অতিথিদের কাছ থেকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করছেন শাহ্নাজ মুন্নী

পেশায় সাংবাদিক হলেও সাহিত্যের  সকল শাখায় তার সাবলীল বিচরণ। সেই সুবাদে তিন দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছেন শাহ্নাজ মুন্নী। সৃষ্টিশীলতার সেই জগতে কবিতার সমান্তরালে লিখেছেন গল্প থেকে উপন্যাস। লেখালেখির ভুবনে নির্মাণ করেছেন স্বতন্ত্র ভাষা। গদ্য কিংবা পদ্যে মেলে ধরেছেন সময়ের বয়ান। সেই সুবাদে তার লেখনীর উপজীব্য হয়েছে জীবনের অভিজ্ঞতা ও চারপাশের ঘটনাপ্রবাহ। সৃষ্টিশীল সেই শ্রমের সাধনায় এবার মিলল স্বীকৃতি। গল্প, উপন্যাস ও কবিতা রচনার কীর্তিস্বরূপ  জয় করলেন পাক্ষিক অনন্যা প্রবর্তিত  ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৪২৯।’ 
শনিবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লেখকের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারের সম্মানী হিসেবে এক লাখ টাকার ডামি চেক এবং স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা
হয়। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হামীম কামরুল হক। সভাপতিত্ব করেন পাক্ষিক অনন্যা ও দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। 
পুরস্কারপ্রাপ্তি অনুভূতি প্রকাশে শাহ্মুন্নী বলেন, নারীর লেখার ধরন পুরুষের চেয়ে আলাদা। কারণ উভয়ের চিন্তা-ভাবনার জগৎটাই আলাদা। অনেকে বলেন, মেয়েরা ভালো লেখেন না। অনেক পুরুষও ভালো লেখেন না। লেখা ভালো-খারাপে পুরুষ কিংবা নারী বিবেচনায় আনলে হবে না। আমি ৩০ বছর ধরে সাহিত্যচর্চা করছি। এই প্রথম সাহিত্যিক জীবনে প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কার পেলাম। এর আগে পাঠকের ভালো লাগার  প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা পুরস্কার পেয়েছি। তাই এই আনুষ্ঠানিক পুরস্কার আমাকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। একজন লেখকের কাছে সাহিত্য হচ্ছে নীরব ব্যক্তিগত কর্ম। সেটা চালিয়ে যেতে চাই। 
কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, শাহ্মুন্নী ধাপে ধাপে নিজেকে কথাসাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাহিত্য সৃষ্টিতে তিনি নতুন ধারার সন্ধান করেছেন। সেখানে জীবনবোধের গভীর প্রতিফলন ঘটেছে।  তার লেখা তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। তিনি অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারকে নারী সাহিত্যিকদের জন্য একটা প্লাটফর্ম উল্লেখ করে বলেন, যারা এই পুরস্কার পান তারা সাহিত্যজগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।  নারী লেখকদের জন্য এই পুরস্কার অনেক বড় স্বীকৃতি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পরবর্তীতে  বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। আমার নিজের বেলায়ও তেমনটাই ঘটেছে। 
তাসমিমা হোসেন বলেন, মুন্নী তার লেখায় নতুন ও বিদেশী শব্দ ব্যবহার করেছেন মুন্সিয়ানার সঙ্গে। প্রযুক্তির কারণে সমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন নতুন প্রজন্মের অনেকে বই পড়ে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত বিশ্বেও পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে অনন্যা ৩০ বছর ধরে নারী সাহিত্যিকদের জন্য একটা জায়গা করার জন্য কাজ করছে। আমি যখন শুরু করেছিলাম তখন আমাকে অনেকেই বলেছেন, একসময় পুরস্কার দেওয়ার জন্য নারী সাহিত্যক খুঁজে পাওয়া যাবে।

কিন্তু বর্তমানে মেয়েরা এত রকমের কাজ করছে যে আমাকে অনন্যা নির্বাচন করতে বেগ পেতে হয়। 
হামীম কামরুল হক বলেন, সময়ের সংকটগুলোকে শাহ্মুন্নী তার লেখায় সহজ ও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেন। মুসলিম নারীরা সাহিত্যর্চচা করেন তাদের মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী,  রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখযোগ্য। তারা স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্যর্চচা করলেও তাদের নারী হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তাই রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন না বলে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, বেগম ফয়জুন্নেসা বলা হয়। কিন্তু সাহিত্যে নারী-পুরুষ ভেদ নেই, সাহিত্যিক সাহিত্যিকই।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত পরিবেশন করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের গড়া ব্যান্ডদল এফ মাইন। এরপর  শাহ্মুন্নীকে নিয়ে নির্মিত তাপস কুমার দত্ত পরিচালিত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন লেখক নূর কামরুন নাহার।
শাহ্মুন্নীর জন্ম ১৯৬৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পর টেলিভিশন সাংবাদিকতা শুরু করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বোধ থেকে তিনি একের পর এক লিখে চলেন। তার লেখা গল্প, কবিতা, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য ও প্রবন্ধ মিলে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৪টি। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো  হলো, ‘এল ক্রুদ্ধ অন্ধকার’, ‘বাদুর ও ব্র্যান্ডি’, ‘তৃতীয় ঘণ্টা পড়ার আগেই’, ‘পান সুন্দরী’, ‘নির্বাচিত গল্প’, ‘আমি আর আমিন যখন আজিমপুরে থাকতাম।’  এ বছরের বইমেলায় মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হবে তার উপন্যাস ‘স্নানের শব্দ’।

×