ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

লড়াকু মুশফিক-সাকিব

প্রকাশিত: ১০:২৮, ২৫ জুন ২০১৯

 লড়াকু মুশফিক-সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চলতি বিশ্বকাপের যে ৯ ভেন্যু তার মধ্যে সাউদাম্পটনের রোজ বোলের উইকেট তুলনামূলকভাবে ধীরগতির। তাই স্পিনাররা এখানে বাড়তি সুবিধা যেমন পান, তেমনি ব্যাটসম্যানরে রান করাটাও কঠিন। আগের চার ম্যাচে এই ভেন্যুতে সর্বাধিক ২৩০ রান করেছিল ভারতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পড়ে ব্যাটিং করে। সেই ভেন্যুতে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সোমবার আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৬২ রান তুলেছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ এবং শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ২৪ বলে দ্রুতগতির ৩৬ রানে এই সংগ্রহ পায় টাইগাররা। আফগানিস্তানের হয়ে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন অফস্পিনার মুজিব উর রহমান ও ২ উইকেট নেন পেসার গুলবাদিন নায়েব। এ ভেন্যুতে পরে ব্যাট করে সর্বাধিক ৩০৬ রান তুলে নিউজিল্যান্ড জিতেছিল ২০১৫ সালের ১৪ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে এ বিশ্বকাপে এখানে আগে ব্যাট করে ২২৪ রান তুলেও আফগানদের ১১ রানে হারিয়েছে ভারত। টস জিতে আগে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। আগের ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন নিয়ে নামে বাংলাদেশ দল। সাব্বির রহমানের পরিবর্তে মোসাদ্দেক এবং রুবেল হোসেনের বদলি হিসেবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফিরে আসেন। আর আফগানরা হজরতুল্লাহ জাজাই ও আফতাব আলমকে বাদ রেখে নামে সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও দৌলত জাদরানকে একাদশে আনে। ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই কিছুটা পরিবর্তন এনে সৌম্য সরকারের বদলে তামিম ইকবালের সঙ্গে লিটন দাসকে ওপেনিংয়ে নামায়। কৌশলগত সেই পরিবর্তনটা সফলতার দিকেই যাচ্ছিল। বেশ সাবধানী হয়েই অফস্পিনার মুজিব ও পেসার দৌলত জাদরানের মোকাবেলা করছিলেন লিটন-তামিম। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ঘটে যায় বিপত্তি। মুজিবের বলে লিটনের শট শর্ট কাভারে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন হাশমতুল্লাহ শহিদী। শেষ পর্যন্ত রিভিউয়ে নিশ্চিত হয় ক্যাচটি এবং ১৭ বলে ১৬ রান করেই সাজঘরে ফেরেন লিটন। দলীয় ২৩ রানেই প্রথম উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপ কাটিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম ও ফর্মের তুঙ্গে থাকা সাকিব আল হাসান। দু’জনই বেশ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করেছেন। ব্যক্তিগত ৫ রানে সাকিব অফস্পিনার মোহাম্মদ নবিকে একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর একেবারেই নির্বিকার হয়ে খেলেন। এরপরও ২৬ রানের মাথায় রশীদ খানের লেগস্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। অবশ্য দারুণ রিভিউয়ে সে যাত্রা বেঁচে যান সাকিব। তামিম-সাকিব দারুণ ব্যাটিং করছিলেন রোজ বোলের ধীরগতির উইকেটে। প্রথম পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে মাত্র ৪৪ রান আসে ১ উইকেট হারিয়ে। এরপর দারুণ খেলতে থাকা তামিম ৫৩ বলে ৪ চারে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন নবির বলে বোল্ড হয়ে। ৭৬ বলে ৫৯ রানের জুটির ছেদ ঘটে। তৃতীয় উইকেটে সাকিবের সঙ্গে আগের ম্যাচে শতক হাঁকানো মুশফিক দুর্দান্ত জুটি গড়ে তোলেন। তবে সাকিববে ফিরিয়ে দেন ফিরতি স্পেলে বোলিংয়ে আসা অফস্পিনার মুজিব। ৬৯ বলে মাত্র ১ চারে ৫১ রান করা সাকিব সাজঘরে ফেরেন এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে। এটি ছিল সাকিবের চলতি আসরে তৃতীয় ফিফটি, বিশ্বকাপে তার অষ্টম ও ক্যারিয়ারে ৪৫তম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি এবং ৪৭৬ রান নিয়ে চলতি আসরে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হয়েই ফেরেন। ৬১ রানের জুটি ভেঙ্গে যায়। তবে এরপর সৌম্য ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মুজিবের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন এলবির ফাঁদে পড়ে। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি ৩ রান করা সৌম্যের। ৩২ ওভারে ১৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদেই পড়ে যায় বাংলাদেশ দল। তবে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পঞ্চম উইকেটে দারুণ জুটি করে দলকে ভাল একটি অবস্থানে নিয়ে যান। তাদের জুটিতে ৬৬ বলে ৫৬ রান যোগ হয় দলীয় সংগ্রহে। এরপরই আফগানদের হয়ে আরেকটি ব্রেক থ্রু এনে দেন অধিনায়ক গুলবাদিন। ৩৮ বলে ২ চারে ২৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন রিয়াদ। রিয়াদের বিদায় নেয়ার পরও থামেননি মুশফিক। চলতি আসরে দ্বিতীয় ফিফটি হাঁকিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে। ষষ্ঠ উইকেটে তার সঙ্গে যোগ দিয়ে মোসাদ্দেক দলের রান দ্রুত বাড়াতে থাকেন। দৌলতের স্লোয়ারে বিগ হিট নিতে গিয়ে মুশফিক সাজঘরে ফেরেন ইনিংসের ৪৯তম ওভারে। তিনি ৮৭ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৮৩ রান করেছিলেন। ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটি তিনি হাঁকিয়েছিলেন দৌলতকেই। পরে মোসাদ্দেক ২৪ বলে ৪ চারে ৩৫ রানের একটি গতিময় ইনিংস খেলে ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হয়ে যান। তার ব্যাটিংয়েই শেষ ৫ ওভারে ৪২ রান আসায় ২৫০ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ দল। ৭ উইকেটে ২৬২ রান তোলে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে। মুজিব ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৩ ও গুলবাদিন ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এ ম্যাচেও ব্যর্থ রশীদ ১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।