ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

পেটের পীড়া

সাব্বিরের খেলা নিয়ে শঙ্কা!

প্রকাশিত: ০৬:২৮, ২৬ অক্টোবর ২০১৬

সাব্বিরের খেলা নিয়ে শঙ্কা!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘সাব্বির (রহমান) কিছুটা অসুস্থ। এ জন্যই মোসাদ্দেককে (হোসেন সৈকত) দলে রাখা হয়েছে।’ -কথাটি বলেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তাতেই বোঝা যাচ্ছে, ঢাকা টেস্টে পেটের পীড়ায় ভোগা সাব্বিরের খেলা নিয়ে শঙ্কা আছে। সাব্বির যদি না খেলেন, তাহলে টেস্টে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অভিষেক হয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম টেস্টে কি দারুণ ব্যাটিংই না করলেন সাব্বির। অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করে আউট হয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। শুধু কি তাই। তিনিই তো বাংলাদেশকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টের শেষদিনে জিততে ৩৩ রান লাগত। এমন মুহূর্তে যদি তাইজুল ইসলাম ও শফিউল ইসলাম মিলে সাব্বিরকে ভাল সঙ্গ দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত ২২ রানের হার হত না বাংলাদেশের। উল্টো জয়ের বন্দরেই পৌঁছাত। কিন্তু তা হলো না। তবে সাব্বির ঠিকই সবার মনে জায়গা করে নিয়েছেন। সেই সাব্বিরই এখন ঢাকা টেস্টে খেলতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে আছে শঙ্কা। প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই পেটের পীড়ায় ভুগছেন সাব্বির। তা টিম ম্যানেজমেন্টকে নিজে জানিয়েছেনও। এরপরও খেলেছেন। ভালও খেলেছেন। এখন দলের সঙ্গে মঙ্গলবারই ঢাকায় ফিরেছেন সাব্বির। পেটের ব্যথা এখনও খানিকটা আছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর অবশ্য আশঙ্কাজনক কোন কিছু ধরা পড়েনি। তবে আবারও পরীক্ষা করা হবে। এরপরই তাকে খেলান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ঢাকা টেস্টে যদি সত্যিই না খেলেন সাব্বির, তাহলে বাংলাদেশ দলের শক্তি খানিকটা কমে যাবে। কারণ এরমধ্যেই যে ইংল্যান্ড শিবিরে আতঙ্ক তৈরি করতে পেরেছেন। সাব্বির শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবেন, সেই আশাই করা হচ্ছে। তবে এরমধ্যে প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের যে একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন সাব্বির, সেটি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। অভিষেক টেস্টে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ও ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাব্বির। আর তাতেই হাতুরাসিংহের রেকর্ড ছুঁলেন। সাব্বিরই হলেন একমাত্র বাংলাদেশী যিনি অভিষেক টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেন। হাতুরাসিংহেও তাই করেছিলেন। প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে অভিষেক টেস্টেই হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে হাতুরাসিংহে করেন ২৩ রান। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ও ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে তিনি খেলেন ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ড্র করে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এবার পারেনি বাংলাদেশ। ২২ রানে হেরে যায়। জয় পাওয়ার মতো অবস্থায় থেকে আরেকটি টেস্ট হারে বাংলাদেশ। তবে সাব্বির গুরু হাতুরাসিংহের রেকর্ডে ভাগ বসান। সেই গুরু কী চাইবেন দ্বিতীয় টেস্টে সাব্বির ড্রেসিংরুমে বসে থাকুক? কোনভাবেই না। তবে যদি শেষ পর্যন্ত অসুস্থ ভাব যদি না যায়, তাহলে কিছুই করার থাকবে না। তখন সাব্বিরকে সত্যি সত্যিই ঢাকা টেস্টে দেখা যাবে না। সেই শঙ্কা এখনও আছে।