২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হরিধানের গুরু হরিপদ ও এক মুক্তিযোদ্ধার প্রস্থান


জীবনের প্রয়োজনীয় কর্মসম্পাদন করে চলে গেলেন দুই ভুবনের দুই তারকা। একজন ‘হরি’ ধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালী অন্যজন মহান মুক্তিযুদ্ধের মামা বাহিনীর প্রধান শহীদুল হক মামা। দুজনেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে রেখে গেছেন স্মরণীয় কর্মযজ্ঞ। গত ১ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা কমান্ডার শহীদুল হক মামা এবং কয়েকদিনের ব্যবধানে ৬ জুলাই ভোরে বিরল কৃষিজ্ঞানের অধিকারী হরিপদ কাপালী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু দুজনকে পরপারে টেনে নিলেও তাদের সৃষ্টিশীল কর্ম এবং বীরত্বপূর্ণ অবদান মনে রাখবে আজীবন। দুজনার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির নানাদিক তুলে ধরার মানসে কলম হাতে ব্রতী হওয়া।

মৃত্যু! চিরশাশ্বত সত্যের অপ্রিয় বহির্প্রকাশ। পরমার্থ এই শব্দটি সবার জন্যই নিদারুণ শোকের। আমরা কেউ জানি না কখন কোথায় কিভাবে আমাদের মরণ হবে। তবে মৃত্যুসম্মুখে দাঁড়াতে হবে এটা সবাই জানি, বুঝি এবং মানি। মরণ পরবর্তী লোকান্তরে কার পরিণতি কেমন হবে সেটা কেউ বলতে পারবে না। জন্ম থেকে মৃত্যু পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত কর্মফল অনুযায়ী নির্ধারিত হয় মৃত আত্মার পরলোক পরিণাম। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে বেঁচে থাকার বর্ণাঢ্য জীবনে মানুষ অনেক স্মৃতিই রেখে যায়। অধিকাংশ মানুষই আবার মৃত্যুর মাধ্যমেই পরিসমাপ্তি ঘটায় তার ইহজগতের। কিছু কিছু মানুষ আছেন যাঁদের মৃত্যু পরিবার, সমাজ, দেশ ও বিশ্বভুবনে নাড়া দিয়ে যায়। কোন না কোন কাজের জন্য তাদের নাম লেখা হয় ইতিহাস দর্পণে। ইচ্ছে করলেও ভোলা যায় না জীবন জয়ী ওই মানুষগুলোকে। ভুলে গেলেও কীর্তির খাতা পাতা উল্টিয়ে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় তাদের কথা। কল্যাণকর কর্মই তাদের বাঁচিয়ে রাখে আজীবন। জীবনকর্মে যারা নন্দিত স্বাক্ষর রেখে গেছেন তাদের জীবদ্দশায় আমরা হয়ত সেই মূল্যায়ন দিতে কার্পণ্যবোধ করি। মরণের পর আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয় তাদের কর্মময় জীবনের নানাদিক।

ঝিনাইদহের সাধুহাটি ইউনিয়নের আহসান নগর গ্রামের কুঞ্জলাল বিশ্বাস ও সুরধনী বিশ্বাসের পুত্র হরিধানের গুরু হরিপদ কাপালী তেমনি একজন অবমূল্যায়িত জন। তিনি ছিলেন কৃষক। এজন্য হয়ত কোন ধরনের সম্মান জুটেনি তার জীবনে। কারণ, এ দেশের কৃষকরা সর্বদাই অবহেলিত, পীড়িত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত। খাগড়াছড়ির ফকুমার ত্রিপুরা উদ্ভাবন করেছেন ফকুমার ধান, সুনামগঞ্জের নুয়াজ আলী ফকির চুরাক ধান, গাইবান্ধার রঞ্জু মিয়া সোহাগ-৪ ধান, ঝিনাইদহের মকবুল হোসেন মকবুল ধান। কৃষকরা অসংখ্য জাত উদ্ভাবন করলেও বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবক ও প্রজননবিদ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। তাদের মতে, ধান জাত উদ্ভাবন করবেন একজন উদ্ভিদ প্রজননবিদ বা কৃষিবিজ্ঞানী। পৃথিবীর অনেক দেশে কৃষক বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত জাত বা ফসলের বীজ তার নামেই প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র থাকলেও বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম।

অনুর্বর মাটিকে শ্রম-ঘামে ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে গড়ে তোলা কিংবা কাদামাটির গন্ধ যাদের শরীরে নিত্য বহমান সে অভিশাপই হয়ত জীবনব্যাপী শত্রু বানিয়েছে গোটা কৃষক সম্প্রদায়কে। আর ওই গোত্রের সদস্য যদি হয় আলোকিত কেউ তাহলে তার কপালে প্রাপ্তির পুরস্কার মেলাটা ভারি অন্যায়। সেই অন্যায়ের অভিশপ্ত উপমা হরিধানের উদ্ভাবক হরিপদ কাপালী। তিনি উচ্চশিক্ষিত কোন বিজ্ঞানী নন। নন দেশবরেণ্য খ্যাতিমান কোন ব্যক্তিত্ব। তার বড় পরিচয় তিনি কৃষক। দেশের অন্ন যোগানদাতা সস্তা কারিগর। লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে ষাঁড়ের পেছনে হাঁটা কপাল কুঁচকানো অভাবি চাষা। খেত-কিনারের ছোট্ট কুটিরে বসবাস করা অর্ধাহারি অনটনে কাবু সাদামাটা পোশাক পরিচ্ছদের এক প্রতীকী রূপ। মানে কৃষিজীবী কেউ। তার আবার প্রাপ্য পাওনা। কৃষক বলেই তো এই হিংস্যুটে আচরণ। যদি শিক্ষিত ডক্টরেট ডিগ্রীধারী কেউ হতেন তাহলে হয়ত তার পেছনে সাঁটানো হতো বিজ্ঞানী, গবেষক, কত্ত কী! রাষ্ট্র টেনে নিত বুকে। প্রান্তিক পরিচয়ের অশিক্ষিত মানুষ হওয়ায় প্রাপ্য পাওনাটুকু তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। কেনই এই বৈরিতা, কেন এই বিদ্বেষ।

হরিপদ কাপালীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় শতবর্ষী মানুষটি যথাসময়েই জীবনের ইতি টেনেছেন। বয়সের ভারে ন্যুজ্ব হরিধানের জনক চিরতরে হারিয়ে গেলেন আমাদের মাঝ থেকে। আর কখনও ফিরবেন না এই মানব ধরায়। তাঁর প্রয়াণের চিরন্তন বাস্তবতা মেনে নিলেও সবচেয়ে বড় যে সত্যটি তা মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়। কৃষক জীবনে তিনি যে উদ্ভাবনী শক্তি দেখিয়ে গেলেন জীবদ্দশায় মেলেনি তার স্বীকৃতি। সম্মান দূরের কথা হরিধান নিয়ে শুরু হয় রাজনীতি। ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান হরি ধানকে কোনভাবেই একটি স্বতন্ত্র উদ্ভাবিত জাত হিসেবে মেনে নিতে পারল না। এ প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করতে চাইল হরি ধানকে পাওয়া গেছে ব্রি ধান-১১-এর ধানজমিন থেকে। তাই হরিপদের কৃষি গবেষণা গুরুত্বহীন হয়েই রইল। তিনি ছিলেন এক্কেবারে অজপাড়াগাঁয়ের আনকোড়া কৃষক। গুছিয়ে কথা বলা কাকে বলে তা তিনি জানতেন না। তবে কৃষিতে ছিল তার দক্ষ পদচারণা।

আবাদকৃত ধানী জমির স্যাঁতসেঁতে সীমানায় হেঁটে হেঁটে অহর্নিশ কর্মব্যস্ততায় কাটিয়েছেন সময়। আর তাতে খোঁজে ফিরেছেন ফসলবিনাশী আগাছা। একসময় পেয়ে যান গবেষণা উপযোগী একটি বস্তু। আটকে যান সেখানে। কি আছে তাতে। কৌতূহলবশত জড়িয়ে পড়া। এক সময় ধান গবেষক হরিপদ কাপালীর মুখেই উঠে আসে হরি ধান উদ্ভাবনের গল্প। একদিন আমন মৌসুমে আগাছা সাফ করতে গিয়ে ব্রিধান ১১ এর খেতে বেশ উঁচু ও মোটা কয়েকটি ধানের গাছা দৃষ্টি কাড়ে তার। এগিয়ে যান ওই ধান গাছের দিকে। অনেক সময় ধান খেতে ধানের শীষকে ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে যায় ঘাসের শীষ। থোড় আসার সময় কৃষক ওই শীষগুলো আগাছা হিসেবে সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু হরিপদ বুঝলেন, সেটি কোন আগাছা বা ঘাস নয়। ধান গাছ। তিনি ওই গাছগুলো রেখে দিলেন। তারপর যখন ধানের শীষ হলো তিনি লক্ষ্য করলেন, উঁচু ওই ধানের গোছা ও ছড়ায় ধানের সংখ্যা প্রচলিত জাতগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আকৃষ্ট হলেন হরিপদ। ধান কাটার সময় আলাদা করে সংরক্ষণ করলেন তার খুঁজে পাওয়া ওই ছড়ার ধানগুলো। আলাদা করেই কয়েক বছর বীজ বর্ধন করলেন। অবশেষে এলাকার দুয়েকজন কৃষককে আবাদ করতে দিলেন ওই ধান। চাষাবাদে সাফল্যের পর কৃষকরাই ধানের ওই জাতটির নাম রাখলেন হরিধান।

কৃষিভূমে কুড়িয়ে পাওয়া হরিপদ কাপালীর সেই প্রাপ্তির পরিশ্রান্ত চেষ্টা এ দেশের কৃষি ও কৃষক শ্রেণীকে দিয়ে গেলে ধানের নতুন একটি প্রজাত। এতে উপকৃত হয়েছে কৃষক। সেটা মেনে নিতে পারেনি রাষ্ট্র। তাই এ ধানশিল্পীর মৃত্যুও হয়েছে অনেকটা অনাদরে। গণমাধ্যমে তার মৃত্যুখবর বেশ ফলাও করে প্রকাশ করলেও রাষ্ট্রীয় কৃষি মাধ্যম এক্ষেত্রে ছিল সুনসান। এই নীরবতা কৃষকগর্ব হরিপদ কাপালীকে কিছু দেয়নি এটা সত্য, তবে তার মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যম তাকে গুরুত্ব দিয়ে যে সংবাদ পরিবেশন করেছে সেটাই হয়ত হরিধান আবিষ্কারকের ছেলেপুলের জন্য পরম প্রাপ্তির বিষয়।

যে বঙ্গেতে জন্মে বঙ্গীয় ভূমের প্রধান পেশা কৃষি এবং তার ধারক বাহক কৃষকের জন্য কিছু একটা সৃষ্টি করেছেন আর সেই সৃষ্টির প্রতিদানস্বরূপ প্রাপ্তিহীন জীবন কাটিয়ে তিনি বঙ্গমাটির খাঁটি কণায় মিশে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অনেকটা নিভৃতেই প্রমাণ করলেন বাংলার মাটিতে কর্দমাক্ত কৃষক দেহের কোন মূল্য নেই। পল্লী প্রান্তের পললে আচ্ছাদিত সেই সুলভ সৃষ্টিশীল মানুষটির মৃত্যু সংবাদ পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছে সেটাই বড় কথা। এখন প্রশ্ন হলো গণমাধ্যমে যার স্থান বরাবরই গুরুত্ব পেয়েছে তাকে কেন অনাদরে অবহেলার চোখে দেখা হলো। গেয়োগন্ধের সাদাসিধে অভাবি হরিপদ কাপালী কারও কাছে কিছু চাননি। তার মধ্যে ছিল না কোন চাওয়া পাওয়ার হিসাব। নিজের জন্য কিছু আশাও করেননি কোনদিন। শুধু চেয়েছেন তার আবিষ্কৃত হরিধানের প্রজাতটি যেন বেঁচে থাকে। সে আশা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কৃষকরতœ হরিপদ কাপালী। কিন্তু বাংলার কৃষক মাঝে কি বেঁচে থাকবে তার আশা। সেটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে কি কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিবন্ধু হরিপদ কাপালী মূল্যায়িত না হলেও অন্ততপক্ষে তার আবিষ্কৃত হরিধান প্রজাতটি যেন প্রকৃত হরিরূপে বেঁচে থাকে এ দেশের অগণিত কৃষক মাঝে। তার শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ হলে হয়ত মরণোত্তর খানিক প্রাপ্তি ঘটবে সেই আশা রাখি।

মৃত্যু আমাদের অশ্রু ঝরায়। হাউমাউ করে ব্যথিত চিৎকারে ভাসায়। দুঃখের ভারি যন্ত্রণা বক্ষ দরজা ছিদ্র করে দেয়। শূন্যতার গভীর খাদে নিমজ্জিত করে আপনজনসহ বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সমাজ ও সকলকে। মৃত্যুপথযাত্রী জীবন সংগ্রামী কেউ কেউ হয়ে ওঠেন সংবাদ শিরোনাম। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসে শোক ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপনের স্মৃতিশ্রদ্ধা। সেই শ্রদ্ধার জায়গা দখল করে নিয়েছেন সদ্যপ্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা, আজীবন বিপ্লবী সৈনিক ও গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় সদস্য শহীদুল হক মামা। তার মৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধ ময়দানে তিনি ছিলেন প্রথম সারির যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে ছিলেন মামা বাহিনীর নেতৃত্বে। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে যখন গণজাগরণ মঞ্চের স্লোগানে উত্তাল ঢাকার শাহবাগ তখন সেই গণজমায়েতে যোগ দিতে সুদূর সুইডেন থেকে ফিরে এসেছেন এই দেশপ্রেমিক দূত। তার কণ্ঠে একাত্তরের রণহুংকার ফের উচ্চারিত হয় গণজাগরণ মঞ্চের বিশাল জনস্রোতে। ছিলেন দ-িত কাদের মোল্লার দ্বিতীয় সাক্ষী। খাঁটি দেশপ্রেমিক বলতে যা বোঝায় তার সকল দিক বিরাজমান ছিল তাকে ঘিরে। তাই তো তিনি বারবার ফিরে এসেছেন দেশের তরে।

অনন্য গুণের অধিকারী এই সূর্যসন্তানের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় স্যাটেলাইট চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত টকশোর টেবিলে। না, তার সঙ্গে আমার মুখোমুখি সাক্ষাত হয়নি। টেলিভিশনের স্ক্রিনে দেখা একাত্তরের বীরসেনানী শহীদুল হক মামার মুখে শোনা কথাবার্তা আমায় চুম্বকের ন্যায় আকর্ষিত করেছে। যতবারই তার আলোচনা দেখেছি ততবারই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত অনেক অজানা ইতিহাস জানতে পেরেছি। তার মধ্যে দেশপ্রেমের যে স্পৃহা ছিল তা তার বাচনভঙ্গি ও কথা বলার ধরনে প্রতিবারই প্রতিফলিত হয়েছে। এমন মানুষের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপার ক্ষতি।

তিনি ছিলেন ত্রাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সহযোদ্ধা। তার জন্ম পুরনো ঢাকার নাজিরাবাজারে। বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষ ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র এবং বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ সহচর। একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মামার পরিবারকে দিতে হয়েছে চরম মূল্য। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহভাজন মামা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমানে সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে তিনি এককভাবে আদালতে রিট দাখিল করেছেন। শেষমেশ তিনি সেনাশাসক জিয়ার রোষানলের শিকার হয়ে পরিবারসহ বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। সুইডেনে আশ্রয় লাভের পর বছরকয়েক চাকরি করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে প্রাক পেনশনে চলে যান। স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভরশীল বন্ধুবৎসল ও অতিথিপরায়ণ মামার দেশেও মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই নেই। পুরনো ঢাকায় যে পৈত্রিক সম্পত্তি পেয়েছিলেন, তাও দখল হয়ে গেছে। তবুও তিনি প্রভাব বিস্তার করে তা উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নেননি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে কোন সুবিধা গ্রহণের জন্যও কোথাও দ্বারস্থ হননি। আজন্ম সৎ ও ত্যাগী এই মানুষটি ছিলেন সততার এক অনন্য উজ্জ্বল প্রতীক।

শহীদুল হক মামা ৬৪ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর চিরন্তন স্মরণে এগিয়ে গেলেও পেছনে রেখে গেছেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে জড়িত মুকুট পরা জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানের তকমাধারী সর্বোত্তম গৌরবান্বিত উপমা।