২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মোবাইলে বাড়ছে গ্রাহক বাড়ছে সেবা


রহিম শেখ ॥ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনই গ্রাহক বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বা অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মে মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২ কোটি ৭২ লাখ ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে ৪২০ কোটি টাকার বেশি।

জানা গেছে, কেবল এক স্থান থেকে টাকা আরেক স্থানে পাঠানোই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই সেবা। যোগ হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। এছাড়া এই সেবার আওতা ও সুবিধা বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং টাকা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অনেক নতুন নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে। প্রাত্যহিক লেনদেন ছাড়াও বিদ্যুত, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিটেন্স বিতরণ, এটিএম ইত্যাদি সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে, যা গত বছর কয়েক আগেও এটা ছিল অকল্পনীয়। অথচ সময় যত গড়াচ্ছে, গতানুগতিক ধারার ব্যাংকিং থেকে বেরিয়ে এখন মোবাইল ব্যাংকিং দেশব্যাপী যে কোন সময়, যে কোন স্থানে আর্থিক সেবার নিশ্চয়তা মিলছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতেও সাহায্য করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এ ব্যাংকিং সেবা চালু করা হলেও জনপ্রিয় হওয়ায় এখন অনেকেই এটি ব্যবহার করছেন। এ কারণে নতুন গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন ও লেনদেন বাড়ছে। তবে মোবাইল ব্যাংকিং যাতে খারাপ কাজের অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নজর রাখছে।

সূত্র জানা যায়, ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক। ২০১৩ সালের নবেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে। গত বছরের মার্চে তা দেড় কোটি ছাড়িয়ে যায়। আর গত সেপ্টেম্বরে ২ কোটি ছাড়ানোর পর ডিসেম্বর মাস শেষে হয় ২ কোটি ৫১ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মে মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত মোট গ্রাহক হচ্ছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৮৯ হাজার । এপ্রিল শেষে মোট গ্রাহক ছিল ২ কোটি ৬৮ লাখ ১৮ হাজার। এর মধ্যে সচল আছে ১ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে মোট গ্রাহক ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ ৮৬ হাজার। উল্লেখ্য, কোন হিসাব থেকে টানা তিন মাস লেনদেন না হলে তা নিষ্ক্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেচনায় মার্চ শেষে মোট হিসাবের অর্ধেকের বেশি বা ১ কোটি ৬৬ লাখ হিসাব নিষ্ক্রিয় রয়েছে। আর মে মাস শেষে সারাদেশে মোট এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৯। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, মে মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেনের বিপরীতে ১২ হাজার ৬০১ কোটি টাকা উত্তোলন ও জমা হয়েছে। এতে প্রতিদিন লেনদেনের পরিমাণ ৪২০ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩৯৪ কোটি ৫৮ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গ্রাহক নিজের হিসাবে জমা করেছেন ৫ হাজার ৩০৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর উত্তোলন করেছেন ৪ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

এছাড়া অন্যের হিসাবে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে বেতন পরিশোধ হয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আর সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১৫১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ২০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ও লেনদেন যেমন বেড়েছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা বেড়েছে। অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন করছে, তেমনি অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ থেকে শুরু করে কর্মীদের বেতনও দিচ্ছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে। এদিকে মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে মোবাইল ফোনের এয়ারটাইম ক্রয়ের পাশাপাশি দোকানে কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যাচ্ছে। এছাড়াও ওয়ালেটে (এ্যাকাউন্টে) জমা টাকার ওপর দেয়া হচ্ছে ইন্টারেস্ট। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ওয়ালেট ব্যবহারের উৎসাহ বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ২৮ ব্যাংককে অনুমোদন দিলেও এ সেবা দিচ্ছে ২০ ব্যাংক। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এরপরই আছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং। সম্প্রতি এ সেবার নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি ছাড়া এ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতা, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে অর্থ লেনদেনে যাতে এ মাধ্যম ব্যবহৃত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।