ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

এমার সমালোচনায় এজেন্টের ক্ষোভ

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৩৪, ১ মার্চ ২০২৪

এমার সমালোচনায় এজেন্টের ক্ষোভ

ব্রিটিশ টেনিস তারকা এমা রাদুকানু

সময়টা ভালো যাচ্ছে না এমা রাদুকানুর। ২০২১ সালে ইতিহাস গড়ে ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন গ্রেট ব্রিটেনের এই তারকা। কিন্তু এরপর আর কোনো মেজর শিরোপা তো দূরের কথা গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডের বাধাই অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। আর এমন বাজে পারফর্ম্যান্সের কারণে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন ২১ বছরের এই তরুণী। তবে তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়ের সমালোচনাকে বিদ্বেষপূর্ণ বলে মন্তব্য করে সমালোচনাকারীদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়েছেন এমা রাদুকানুর এজেন্ট ম্যাক্স এইসেনবাদ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তরুণ বয়সে দুর্দান্ত খেলেই সে ইউএস ওপেন জিতে। তবে এর পরের টুর্নামেন্টে যখন খেলতে যায় তখন সে খেলোয়াড়দের লাউঞ্জ কোথায় তা জানত না। এমনকি কোথায় অনুশীলন করতে হতো সেটাও জানা ছিল না তার। আমি বলছি না যে অন্য খেলোয়াড়দের মতো তাকে সমালোচনা করা এবং তার বিরুদ্ধে কঠিন কঠিন কথা বলাটা অন্যায় করা হচ্ছে। কিন্তু সে এখনো ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করছে। তাই আমার মনে হয় তার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হওয়াটা মোটেও উচিত হবে না।’
ক্যারিয়ারে একটি মাত্র শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এমা রাদুকানু। আর সেটাই ইউএস ওপেনের ট্রফি! ২০২১ সালে বাছাইপর্ব থেকে উঠে এসে কোনো গ্র্যান্ডসøাম শিরোপা জয়ের নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন ব্রিটেনের এই তরুণী। সেই ফাইনালে কানাডার লেইলা ফার্নান্দেজকে হারিয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮! যা রাদুকানু কল্পনাও করেননি। সেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বয়সটা এখন মাত্র ১৮। কোনো কিছু নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করিনি, যা হওয়ার হবে ভেবেই আমি প্রতিটি ম্যাচ খেলেছি। এভাবে খেলেই আমি শিরোপা জিতেছি। ভবিষ্যতেও ঠিক এভাবেই খেলব।’
কিন্তু সেভাবে খেললেও ইউএস ওপেনের পর আর কোনো শিরোপাই নিজের শোকেসে তুলতে পারেননি এমা রাদুকানু। চোটের কারণে গত মৌসুমের অনেকটা সময়ই টেনিস কোর্টের বাইরে ছিলেন তিনি। গত বছরে ৫ জয়ের বিপরীতে হারও ছিল তার ৫টি। চলতি মৌসুমেও নিষ্প্রভ রাদুকানু। এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলা রাদুকানু হেরেছেন চারটিতে।

আর এই সময়ে জয় পেয়েছেন বাকি তিন ম্যাচে। ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত চারটি টুর্নামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাদুকানু। যার মধ্যে রয়েছে মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনও। মেলবোর্নে জয় দিয়ে মিশন শুরু করলেও দ্বিতীয় রাউন্ডেই হেরে যান তিনি। এরপর আবুধাবি এবং কাতার ওপেনেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এমা।

সর্বশেষ কাতার ওপেনে নিজের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে অখ্যাত এনা কালিনিনার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে যান তিনি। তবে রাদুকানুর প্রতিনিধি এইসেনবাদের বিশ্বাস রাদুকানুর গ্র্যান্ডস্লামযাত্রা এখানেই থেমে যাবে না। বরং আরও অনেক মেজর শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেন তিনি। সেজন্য অবশ্য তাকে সময় দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ম্যাক্স এইসেনবাদ। 
২০০২ সালে কানাডার টরেন্টোয় রাদুকানুর জন্ম। বাবা ইয়ান রাদুকানু রুমানিয়ার। মা চীনের। দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে আসেন। রাদুকানু নানা শখের পেছনে ছুটেছেন। ঘোড়ায় চড়তে ভালোবাসেন। সাঁতার, নাচ, বাস্কেটবল, স্কি, গলফ, মোটোক্রস কোনো কিছুই বাদ দেননি। শেষ পর্যন্ত সব পাশে সরিয়ে বেছে নিয়েছেন টেনিস। টেনিসে তার আদর্শ চীনের লি না।

বাবার দেশ রুরমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপকেও ভালো লাগে। টেনিস খেলা শিখছেন পাঁচ বছর বয়স থেকে। লন্ডনের ব্রমলি টেনিস অ্যাকাডেমিতে খেলে উঠে এসেছেন এতদূর। ব্রিটেনের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে রাদুকানু দারুণ সফল। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় তিন বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ঘরোয়া টেনিসে এই সাফল্য দেখেই তাকে ওয়াইল্ড কার্ডধারী হিসেবে উইম্বলডনে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল আয়োজকরা।

×