ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

নেপালকে হারিয়ে শেষ আটে যেতে চায় বাংলাদেশ

​​​​​​​মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ২৩:৪৭, ১৫ জুন ২০২৪

নেপালকে হারিয়ে শেষ আটে যেতে চায় বাংলাদেশ

.

ঈদের দিনের খুশিতে আরেকটু রং ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। বাংলাদেশে সোমবার ঈদুল আজহার দিনে নেপালের বিপক্ষে এবার টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ তাদের। ম্যাচটি জিতেই সুপার এইট পর্বে যেতে চায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এদিন সেন্ট ভিনসেন্টে প্রথম  প্রহরেই (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০) মাঠে নামবেন তারা নেপালের বিপক্ষে। এই ম্যাচে বেশ সতর্ক হয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। কারণ উঠতি দল হিসেবে নেপাল এবার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলছে। কোনো ম্যাচ না জিতলেও দেশসেরা গ্লোবাল স্টার সন্দ্বীপ লামিচানেকে নিয়ে নেমে সর্বশেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর মাত্র রানে হেরেছে। এরপর নেপালের প্রত্যয়ী ঘোষণা বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে গর্বিত হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করার। বাংলাদেশ অবশ্য সুপার এইট অনেকটাই নিশ্চিত করেছে, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি হিসাব রয়েছে। হেরে গেলে সেই হিসাবে পড়তে হতে পারে যদি একই দিনে শ্রীলঙ্কাকে ডাচরা হারিয়ে দেয়। নেট রানরেট ভালো থাকায় অবশ্য সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ। তবু নেপালকে হারিয়েছে শেষ করতে উন্মুখ শান্তরা।

নেপালের সঙ্গে ম্যাচটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট নিয়েডিগ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। নেট রানরেটও +.৪৭৮ যা বেশ ভালো। সমান ম্যাচে পয়েন্ট পাওয়া নেদারল্যান্ডস -.৪০৮ নেট রানরেট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে। শেষ ম্যাচের ফল তাই হিসাব পাল্টে দিতে পারে সুপার এইটে ওঠার। নেপালের কাছে বাংলাদেশ হেরে গেলে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস জিতে গেলে তখন জয়-পরাজয়ের ব্যবধানটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ সেক্ষেত্রে নেট রানরেটের হিসাব আসবে ডাচ বাংলাদেশের পয়েন্ট সমান হয়ে যাওয়ায়। সেজন্যই শেষ গ্রুপ ম্যাচে জেতার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়েই নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ নিয়ে সাকিব আল হাসান আগেই বলেছেন, ‘নেপালের সঙ্গে আমাদের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। জিততে পারলে আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাব।

আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হবে। স্বাভাবিকভাবে আমরা মুখিয়ে আছি সামনের ম্যাচের জন্য।ম্যাচটি আবার পড়েছে ঈদের দিন। ঈদুল আজহারা কার্যক্রম যখন শুরু হবে ততক্ষণে শেষ হয়ে যাবে ম্যাচ। সেদিন দেশবাসীকে জয় উপহার দিতে চান সাকিব। তিনি বলেছেন, ‘ঈদের দিন অবশ্যই আমাদের মুসলমান যারা আছে, তাদের জন্য আনন্দের দিন। এই দিনটি বাংলাদেশে অন্য ধর্মের মানুষরাও উদযাপন করে। আশা করব যে, এমন একটা দিনে আমরা তাদের মুখে আরও বেশি হাসি ফোটাতে পারব।

এটি নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ^কাপ খেলছে নেপাল। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেও খেলার সুযোগ পায় তারা। কিন্তু হেরে যায় উইকেটের বড় ব্যবধানে।

তখন বলার মতো কোনো তারকাই ছিল না নেপালের। আসর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরেছে দলটি। এখন লামিচানের মতো মহাতারকা রয়েছেন। অবশ্য ভিসা জটিলতার কারণে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি এই দুর্দান্ত লেগস্পিনার। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টে খেলেছেন। দারুণ ছন্দে বোলিংও করেছেন। তিনি বাংলাদেশী ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন। এছাড়া সোমপাল কামি, করন কেসি, দীপেন্দ্র সিং ঐরি, কুশল ভুরটেল গুলশান ঝা মতো নাম ছড়িয়ে পড়া ক্রিকেটাররা আছেন যারা ভালো কিছু করার সক্ষমতা রাখেন। এরপরও বিশ্বকাপের আগে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ মূল মঞ্চে দুর্দান্ত ফর্মে ফিরে এখন উজ্জীবিত অবস্থায় রয়েছে। তাই সাকিব বলেছেন, ‘আসলে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত। অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। যেভাবে আমরা পারফর্ম করে যাচ্ছি নেপালের সঙ্গেও একই কাজটা করে যেতে হবে।

নেপাল এবার বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। নেদারল্যান্ডসের কাছে উইকেটে হেরেছে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে পয়েন্ট পেয়েছে আর প্রোটিয়াদের কাছে হেরে গেছে রানে। লঙ্কা ডাচদের হারিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ তাই খুব আত্মবিশ্বাসী নিজেদের জন্য পয়মন্ত ভেন্যু সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে আরনস ভেল গ্রাউন্ডে পরবর্তী ম্যাচের জন্য।

×