ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

অদম্য বাংলাদেশ

ড. আতিউর রহমান

প্রকাশিত: ০১:১১, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২

অদম্য বাংলাদেশ

এবারের বিজয় দিবস এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে যখন সারা বিশে^ই বইছে মহামন্দার তপ্ত বাতাস

এবারের বিজয় দিবস এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে যখন সারা বিশে^ই বইছে মহামন্দার তপ্ত বাতাস। বাংলাদশেও এর বাইরে নয়। কোভিড সংকট থেকে উঠে দাঁড়াবার সচেষ্ট বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশসমূহ হঠাৎ করেই ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। একদিকে সরবারহ চেইন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘দ্য ফেড’ এর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বাড়ছে বলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে।

ফলে আমাদের মতো দেশে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম এবং শিশু খাদ্যসহ রপ্তানির জন্য দরকারি কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির দামও বেড়ে চলেছে। তাই মূল্যস্ফীতিও বাড়ন্ত। এমনিতেই কোভিডের কারণে মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। বাড়ন্ত মূল্যস্ফীতি তা আরও কমাতে সাহায্য করছে।

এমন দুঃসময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ভোগ চাঙ্গা রাখতে বাংলাদেশ বরাবরের মতো প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দিয়ে কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এই সংকটকালে উপযুক্ত রক্ষাকবচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উপরের দিকের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও নিচের দিকের উদ্যোক্তা শ্রেণি বেশ সক্রিয় রয়েছে।
সদ্য স্বাধীন দেশের ত্রাণকর্তা বঙ্গবন্ধুও এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। তখনও চলছিল বিশ^ অর্থনৈতিক সংকট। ছিল জ্বালানি তেল ও খাদ্য মূল্যের সংকট। মূল্যস্ফীতি ছিল আকাশচুম্বী। তিনি তাই কৃষিসহ মানুষের ওপর বিনিয়োগের পথ বেছে নিয়েছিলেন। মানুষের বাঁচার সংগ্রামে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই দিশাহারা জাতিকে অদম্য অগ্রযাত্রার সাহস জুগিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেছিলেন-
‘আমি কি চাই?
আমি চাই আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক।
আমি কি চাই?
আমার বাংলার বেকার কাজ পাক।
আমি কি চাই?
আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক।’
(বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ০৯ মে ১৯৭২ (রাজশাহী মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের ভাষণে))
আর সে কারণেই ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগান দিয়ে তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাকদিয়েছিলেন। কৃষিকে একদিকে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যমুক্তির উপায়, অন্যদিকে শিল্প বিকাশের পেছনের শক্তি (কাঁচামালের সরবরাহ, শিল্পপণ্যের চাহিদা তৈরি) হিসেবে দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তিনি ২২ লাখ কৃষক পরিবারের পুনর্বাসন ও ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

৪ মিলিয়ন ডলার কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেছিলেনকৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য ও রেশন সুবিধা প্রদান করেছিলেন। কৃষি গবেষণায় অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। বার্ক, বিনা, বিএআরই এবং বিআরআরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের সিভিল সার্ভিসে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে সংযুক্ত করেছিলেন। ঐ অল্প সময়ের মধ্যেই ৪৩ হাজার সেচ যন্ত্র বিতরণ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের মধ্যে ৩৩% সেচের আওতা বৃদ্ধি, ৭০% রাসায়নিক সার ব্যবহার বৃদ্ধি, ২৫% উন্নত বীজের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছিলেন।

রাষ্ট্র-নির্ভরতা থেকে ব্যক্তি খাতের বিকাশের শিল্পায়নের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর তৈরি প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ব্যক্তি খাতের কার্যকর বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টির প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা ছিল। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের সীমা ২৫ লাখ থেকে ৩ কোটিতে নেয়া এবং ১৩৩টি পরিত্যক্ত কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। মাত্র চার বছরে মাথাপিছু আয় তিরানব্বই ডলার থেকে প্রায় তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছিলো তাঁর আমলে। তাঁকে শারীরিকভাবে হারিয়ে বেপথু হয়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। ১৯৭৫-এর পর্যায়ে ফিরতে সময় লেগেছিল আরও ১৩ বছর।
বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে দেশ আবার এগুচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর দুই দশক পরে বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আবার স্বপথে ফেরে ১৯৯৬-এ বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে। ২০০১-এ সেই অভিযাত্রায় আবার ছন্দ পতন হলেও জীবন বাজি রেখে আবার প্রধানমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ২০০৮-এ।সেই থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের নতুন অভিযাত্রা চলছে বিরামহীন। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আজ ২,৮৫৬ ডলারের বেশি।
দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ স্থাপন করেছে অনন্য দৃষ্টান্ত। অর্থনীতিতে এসেছে বেশ কিছু ইতিবাচক কাঠামোগত পরিবর্তন। ক্রমহ্রাসমান দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্যের হার প্রমাণ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তবে হালে এক্ষেত্রেও কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
গত দুই দশকে শিল্পের অবদান ১৮% থেকে বেড়ে ৩৫% হয়েছে। কৃষির ভাগ কমলেও উৎপাদন কিন্তু বেড়েছে। বিনিয়োগ বাড়ছে, ফলে বাড়ছে শিল্প ঋণ বিতরণও। বিগত দশকে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ২৬.৩% থেকে বেড়ে ৩১.৫৭% হয়েছে। বিতরণকৃত শিল্প ঋণের ক্ষেত্রেও ঘটেছে উল্লম্ফন। পাশাপাশি জীবনের গড় আয়ু ৪৭ বছর থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

শিক্ষার হার ৫৬% থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫%।মাথাপিছু আয় ৭৫৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৮০০ ডলারের চেয়ে বেশি। মোট রপ্তানি ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৯৬১ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৫০৭ মিলিয়ন ডলার। পর্যবেক্ষকদের ধারণা নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেওসামনে আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবৃদ্ধির ধারার অনুকরণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ঘটতে পারে এবং ২০২৬ দেশের মাথাপিছু আয় ৪,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।এখনই দেশের জিডিপির ৭৩% আসছে ভোগ থেকে। ২০২৬ সালের মধ্যে এর সঙ্গে আরও ১২% যোগ হতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে নবম বৃহত্তম ‘কনজ্যুমার মার্কেট’।২০২৬ সালে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুক্ত হবেন মধ্যম আয় শ্রেণিতে। প্রায় ১১% উঠে আসবেন নি¤œ আয় শ্রেণি থেকে। ওই সময়ের মধ্যে জনগোষ্ঠীর ৩৬% শতাংশ হবে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। ফলে তাদের আয়ও হবে বেশি।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।অবকাঠামো খাতে ব্যাপকভিত্তিক ইতিবাচক রূপান্তরের ফলে জনগোষ্ঠির ৩৩.৫% সরাসরি সুফল ভোগ করবেন। তা সত্ত্বেও একথা মানতেই হবে কোভিড-উত্তর বাংলাদেশে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নানা-মাত্রিক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য টেকসই পুনরুদ্ধারের পথনকশা গ্রহণে মনোনিবেশ করতে হবে বাংলাদেশকে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্ষাকবচ কৃষিকে আরও গতিময় করার বিকল্প নেই।

তাইউদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছেন এমন কৃষকদের জন্য ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় আরও জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি খাতকে আরও যুক্ত করতে প্রণোদনা দেয়া যায়। কৃষি স্টার্টআপ-এর বিকাশে একযোগে কাজ করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ^বিদ্যালয়গুলো। সেচের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে সোলার ইরিগেশন পাম্পের ব্যবহার বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ই-কমার্স উৎসাহিত করতে এমএফএস ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ন্যানো-লোন কর্মসূচির বিস্তার করা যায়। কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসা নারীদের জন্য আলাদা অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচি গ্রহণ করা অপরিহার্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একটি রপ্তানি শিপমেন্ট পৌঁছাতে সময় লাগে গড়ে ২৮ দিন (এশিয়ার গড় ১৮ দিন)।

আমদানি শিপমেন্ট পৌঁছাতে লাগে ৩৪ দিন (এশিয়ার গড় ২০ দিন)। যথাযথ অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে (দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের আমদানি-রপ্তানি ব্যয় সর্বোচ্চ)। অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যক্তিখাতের অংশগ্রহণ বাড়াতেই হবে (বর্তমানে জিডিপির মাত্র ১.১ শতাংশ)।
সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি-বান্ধব রপ্তানি অব্যাহত রাখতে হবে। তবে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রপ্তানির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে কেবল সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। রেগুলেটরি পরিস্থিতি উন্নত করলে প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে থাকা যাবে।

একই সঙ্গে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে (যন্ত্রের ব্যবহার ২৫% বাড়ালে শ্রমিক প্রতি উৎপাদন বাড়বে ৩%)। রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রপ্তানির বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি আরও কার্যকর অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে সফল বাণিজ্য চুক্তি এবং আরও বেশি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাবে।
নয়া ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের সুফল পেতে পারে বাংলাদেশ। বিশ^ব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উন্নত বিশে^র দেশগুলোতে নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে আঞ্চলিকতাবাদ এবং অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদিতার।

পশ্চিমের বাজারে চীন ও ভিয়েতনামের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর তাগিদের কারণে বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চীন থেকে যেসব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সরে আসছেন তারা নতুন ঠিকানা হিসেবে বাংলাদেশকে খুঁজে নিতে পারেন। যেমন- ইউএসএফআইএ-এর জরিপে দেখা যাচ্ছে যে ২০২২ সালে চীন ও ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ বেশি মার্কিন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারে।

তাছাড়া কূটনীতির ক্ষেত্রে‘মুক্ত আঞ্চালিকতার মাধ্যমে বাংলদেশ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উপকৃতি হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (এর মধ্যে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে)। এই বাস্তবতায় ভারতের মোট আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাত্র ১ শতাংশ যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোতে।

বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়লেও আরও অনেক বাড়ানোর সুযোগ রয়ে গেছে। ভারতের বর্তমান মোট আমদানির আরও ১ শতাংশ যদি বাংলাদেশ থেকে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ৪ গুণ বেড়ে যাবে। প্রবাসী শ্রমিকদের যথাযথভাবে প্রণোদিত করলে তার সুফল পাওয়া যাবে। সরকারি বন্ডে ডিজিটালি বিনিয়োগের সুবিধা সহজীকরণ এবং সার্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রবাসী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলে এই সুফল বেশি করে পাওয়া যাবে।
দেশে ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার্টআপ তহবিল থেকে ঋণ/সহায়তা দেয়া যেতে পারে। প্রবাসীদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিশেষ বৃত্তিসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য অন্যান্য সুবিধার নিশ্চয়তা।
শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে ‘ব্লেন্ডেড অ্যাপ্রোচ’ই সঠিক পথ। এই কৌশলের অংশ হিসেবে সেচের জন্য জীবশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। সোলার ইরিগেশন পাম্প একটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে।

ক্রামন্বয়ে সুবজ জ্বালানি নির্ভরতার দিকে যাওয়ার পথটি যতটা সম্ভব মসৃণ হওয়া চাই। বিপিসির নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং জ্বালানি আমদানি একই সঙ্গে অব্যাহত রাখতে হবে। জ্বালানির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা (বিশেষ করে নেপাল ও ভারতের সঙ্গে) বাংলাদেশের ওপর চাপ কমাতে বিশেষ সহায়ক হবে।
নিঃসন্দেহে, অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিও এখন চাপের মুখে আছে। এমন সময় অযথা আতঙ্ক না বাড়িয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে চলমান বিশ^ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে। অর্থনীতিতে আস্থার পরিবেশ বেশি বেশি তৈরি করতে হবে। আমাদের উন্নয়ন কৌশলকে আরও সবুজ, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আরও অংশগ্রহণমূলক করা গেলেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের আদলে আগামীর বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে আমরা সক্ষম হব।
লেখক : সভাপতি, উন্নয়ন সমন্বয় এবং সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

×