ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

উপজেলা নির্বাচনে জনগণের সায় নেই ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩৫, ২১ মে ২০২৪

উপজেলা নির্বাচনে জনগণের সায় নেই ॥ ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

উপজেলা নির্বাচনে জনগণের সায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্মরণসভার আয়োজন করে জাগপা।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, সরকার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। এমনকি সাংবাদিকদের লেখার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। এ সরকার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। 
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, আমরা কখনো যেন হাল না ছাড়ি, বুকে বল নিয়ে চলি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারকে পরাজিত করে আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।
ফখরুল বলেন, অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা করা হয় যে, আমরা নাকি সরকার উৎখাত করতে চাই। আমরা উৎখাতের কথা বলিনি, উৎখাত করতে যাব কেন? আমরা ভোটের অধিকার চাই, সেই ভোটের মধ্য দিয়ে আমরা তোমাদের পরাজিত করব। সেই ভোটের অধিকার অর্জন করার জন্য আমাদের সবাইকে আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের আলখাল্লা পরে নির্বাচনের নামে নাটক দেখানো হচ্ছে, এটা কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ১৫ বছর যে অপকর্ম করেছে, সে কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তাই এখন যে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে, তাতেও জনগণের সায় নেই। প্রকৃত অর্থে এর মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটছে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বারবার বলেছি, ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, ভোটের অধিকার চাই। সুষ্ঠু ভোটে আওয়ামী লীগের এত ভয় কেন? তিনি বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল দাবি ছিল গণতন্ত্র। সেই চেতনা আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে। এখন আবার একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপি তা হতে দেবে না।
ফখরুল বলেন, দুর্নীতি আর লোপাটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে তারা। তরুণ সমাজ কোথায়? দেশের এই অবস্থায় তাদের মধ্যে কোনো আলোড়ন সৃষ্টি হয় না কেন? তাই আমরা অন্য কোনো পথ চিনি না, আন্দোলনের বিকল্প নেই। জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিদেশী নিষেধাজ্ঞার খবরে খুশি না হয়ে নিজেদের শক্তিতেই সরকার সরাতে হবে। আমার নিজের ঘর যদি নিজে সামলাতে না পারি, অন্য কেউ ঘর সামলিয়ে দেবে না।
মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে ফখরুল বলেন, ক’দিন আগে আমি একটা নিউজ দেখছিলাম আলজাজিরাতে। আনোয়ার ইব্রাহীমের নাম আপনারা অনেকে শুনেছেন। উনি এখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। উনি ১৫ বছর আগে মালয়েশিয়ার মাহাথীর মোহাম্মদের সরকারে  উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে মাহাথীর মোহাম্মদের সঙ্গে মতভিন্নতার কারণে তিনি ক্ষমতা ছেড়েই দিলেন।

তারপর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আরোপ করে তাকে একেবারে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়ায় তিনি দীর্ঘকাল কারাগারে ছিলেন। তখন থেকেই তিনি কাজ শুরু করেছেন, তিনি তার স্ত্রী, তার কন্যা নতুন পার্টি গঠন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে আজকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। তিনি জনগণের আস্থাটা পুরোপুরি অর্জন করেছেন। এই যে  ধৈর্য, এই যে শুধু একটা আবেগের মধ্যে না গিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এগেনো, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ফখরুল বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের জোট করেছি, বিভিন্ন জোটে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছি, একই সঙ্গে কাজ করেছি। এই জোট আরও শক্তিশালী হবে এবং অদূর ভবিষ্যতে বর্তমান সরকারকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করবÑ এই বিশ্বাস আমাদের আছে।
ফখরুল বলেনÑ ক্ষমতাসীন দল বলছে, আমরা তো নির্বাচন করছি, বিরোধী দল নির্বাচনে না আসলে আমরা কি করব? তারা এমন নির্বাচন করছে যে, যে নির্বাচনে দেশের কোনো রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করতে চায় না। একটা দলকে তারা কোনো রকমে রেখেছে ভাগ-বাটোয়ারা দিয়ে আসন বণ্টন করে। তারাও বলেছে, দেশে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না।

জিএম কাদের সাহেব আগেই বলেছেন- এখানে নির্বাচন হচ্ছে না, আওয়ামী লীগ যা চাইবে সেটাই হবে। আর আমরা তো বারবার বলেছি, আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না, বিধায় আমরা কোনো নির্বাচনে যাচ্ছি না।

জাগপার (একাংশ) সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির চেয়ারম্যান আবু তাহের, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব এসএম শাহাদাত, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।  
বিএনপির এক নেতা বহিষ্কার ॥ দলের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কুমিল্লা উত্তর জেলাধীন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনকে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

×