ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিবৃতিতে ফখরুল

সরকার ভিন্ন মতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে 

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:১৮, ২০ এপ্রিল ২০২৪

সরকার ভিন্ন মতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ভিন্ন মতের মানুষের ওপর সরকার নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। 
মির্জা ফখরুল বলেন, সাজানো মামলায় ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাজা বাতিল করে  নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি।
ফখরুল বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী এখন আরও হিং¯্র হয়ে উঠেছে। মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকৌশলের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল, ভিন্ন মত ও পথের মানুষদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে অব্যাহতভাবে। 
ফখরুল বলেন, বানোয়াট মামলায় সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুর করে বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করেছে। সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদতে বানোয়াট মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুর করা হচ্ছে। মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমেরই আরেকটি বহির্প্রকাশ।
দেশে দুঃসময় চলছে ॥ দেশে কঠিন দুঃসময় চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাগরিক স্মরণ সভার আয়োজন করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ সভা উদ্যাপন কমিটি। 
ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহভাবে আমাদের আক্রমণ করেছে। এখানে বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ হয়ে গেছে, এখানে অর্থনীতিকে পুরোপুরিভাবে নিজেদের মতো করে তারা সেখানে লুটপাট চালাচ্ছে। আজকে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে একেবারে উপড়ে ফেলা হয়েছে। কিছু নেই এখন অবশিষ্ট। 
ফখরুল বলেন, ঐক্যের কথা আমরা বলি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা আমরা বলি, সেই চেতনার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। যার জন্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবরা লড়াই করছিলেন। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যদি আবার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হয়, বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমরা পরিণত করতে চাই তাহলে আমাদের অবশ্যই সকলকে নতুন করে চিন্তা করে নতুনভাবে আবার বলীয়ান হয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
ফখরুল বলেন, আসুন আমরা এই প্রতিজ্ঞা করি, কে কি বলল সেটা ভাবার দরকার নেই, আমাদের মধ্যে যে আশা, যে আকাক্সক্ষা আছে আমরা যারা একাত্তরে যুদ্ধ করেছি, আমরা যারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে, যারা গুম হয়েছে তাদের সকলকে সেই সম্মানটুকু দেওয়ার জন্য আমাদের আজকে একটা মাত্র দায়িত্ব সেটা হচ্ছে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসন আমাদের সমস্ত ভালো অর্জনগুলোকে কেড়ে নিয়েছে, আমাদের প্রতিমুহূর্তে পঙ্গু করে ফেলেছে, আমাদের পুরোপুরি একটা দাসে পরিণত করছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এই দুঃশাসনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা হাত-পা ছুড়ছি। আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনৈতিক কর্মী আছি তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। আমি নিজেই নির্বিচারে নির্যাতিত হচ্ছি, অনেকে তাদের জীবন দিচ্ছেন। তার পরও এ সরকারকে সরানো যাচ্ছে না, এটাই  বাস্তবতা।

তাই সব নাগরিক যারা দেশকে ভালোবাসেন, সব রাজনৈতিক দল যারা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে চান তাদের এখন সবাইকে এক হয়ে সোচ্চার কণ্ঠে শুধু রাজপথে বেরিয়ে নয়, সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঝাঁকি দিতে হবে। ডা. জাফরুল্লাহ সারাটা জীবন দেশের জন্য যুদ্ধ করে গেছেন উল্লেখ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব।
গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকম-লীর সদস্য জুলহাস নাইম বাবুর সঞ্চালনায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, ব্রতীর শারমিন মুরশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এফবিবিআইয়ের নেতা আবদুল হক, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বেলার সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ‘মায়ের ডাক’-এর সানজিদা ইসলাম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির তানিয়া রব, গণঅধিকার পরিষদের নূরুল হক নূর, মিয়া মশিউজ্জামান, প্রয়াত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মেয়ে বৃষ্টি চৌধুরী  প্রমুখ।

৯৫ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি- রিজভী ॥ দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে বিএনপি নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিবের মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।  
বর্তমান সরকারের আতঙ্ক এখনো কাটেনি মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এ সরকার চোরাবালির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনো সময় এই সরকারের গদি চোরাবালির মধ্যে ডুবে যাবে। রাজনৈতিক কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা বন্দি নয় বলে প্রধানমন্ত্রীর  দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এক-এগারোর সময়ে আপনার বিরুদ্ধেও তো মামলা হয়েছিল, সেই মামলাগুলো গেল কোথায়? 
রিজভী বলেন, যারা স্বৈরাচারী ও একনায়ক তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে ভরে রাখে। অথচ দেশে ব্যাংক লুট হচ্ছে, ঘরবাড়ি লুট হচ্ছে কিন্তু এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সরকার ধরতে পারে না। এ ধরনের প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত;  তাই তাদের ধরা হয় না। অথচ গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশিদ হাবিবদের মতো নেতাদের। হায়! কি বিচিত্র এই দেশ? 
রিজভী বলেন, হাবিবুর রশিদ হাবিব খুবই ভদ্র একজন  নেতা। তিনি একজন সাবেক ছাত্রনেতা। রফিকুল আলম মজনু এবং হাবিবুর রশিদ হাবিবকে আমি সেই ছাত্র রাজনীতি করা অবস্থা থেকে চিনি। এদের ঠিকানা আকাশের নিচে আলো-বাতাসে খুব কম হয়। এদের ঠিকানা বেশি হয় লাল দেওয়ালের মাঝখানে, কারাগারে। শেখ হাসিনা এখনো আতঙ্কিত কেন জানেন? আতঙ্কিত এজন্য যে, তিনি তো জানেন জনগণ তাকে ভোট দেয়নি। দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ তাকে ভোট দেয়নি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে আপনাদের যে আত্মপ্রত্যয় দেখেছি, আমি বিশ্বাস করি বর্তমান সরকারের পতন হবেই, এ সরকার আর টিকবে না। পৃথিবীতে ভালোর জয় হয় মন্দের পরাজয় হয়। সুতরাং বর্তমান সরকারের পতন অনিবার্য।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তারা প্রকাশ্যে কোনো কাজ করতে পারে না তলে তলে কাজ করে। দেখবেন মুখে যেটা বলে তলে তলে করে আরেকটা। তিনি বলেন, ইসরাইলের বিমান কি করে এলো বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে? মানুষ বলে শেখ হাসিনার জন্য এক বস্তা ভর্তি শুভেচ্ছা বাণী পাঠানো হয়েছে। কি গোপন সম্পর্ক, কি তলে তলে সম্পর্ক Ñপ্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে জানতে চাই।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী আবুল বাশার এবং সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় যুবদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাওসার প্রমুখ। 

×