ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

বিদায় কবি মহসিন হোসাইন

সৌরভ দুর্জয়

প্রকাশিত: ২২:৪১, ১৬ মে ২০২৪

বিদায় কবি মহসিন হোসাইন

কবি মহসিন হোসাইন

অনেক স্মৃতির ফুলের ডালা হয়ে গেছে মালিহারা। বসে না আর ফুলের মেলা বাউতি বোনের হাতে বোনা বাঁশের ডালায়। ছড়ায় না আর ফুলের সুবাস সবুজ বনের মুক্ত মাঠে। সকল বৃন্ত ছিন্ন করে স্মৃতির ডালা এতিম করে গত ৫ মে ২০২৪ তারিখ রাত ৮টায় কবি মহসিন হোসাইন চলে গেছেন তাঁর আপন ঠিকানায় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্য লেখক, নাট্যভিনেতা, ফোকলোরবিদ, আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক, গবেষক, বাংলাদেশ রেডিওর কথক, বেহালা বাদক সবই ছিলেন কবি মহসিন হোসাইন। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। স্পষ্টভাষী সমালোচক। লিখে গেছেন শতাধিক বই। ভেসে আছেন পাঠক হৃদয়ের রূপালী আকাশে।

১৯৮৬ সাল থেকে মহসিন ভাইর সঙ্গে আমার চেনাজানা। তখন আমি লোহাগড়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদেরসহ সাহিত্য সম্পাদক। মহসিন ভাই নড়াইল জেলা ইতিহাস ও কৃষ্টি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। আমাকে করলেন জেলা কমিটির সদস্য এবং উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক।

প্রায় প্রতি শুক্রবারে লোহাগড়া উপজেলার তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান, এককালের তুখোড় বামপন্থিনেতা, সাংবাদিক, অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুস সবুরের সরকারি বাসভবনে বসতো নড়াইলের কবি সাহিত্যকদের সাহিত্য আড্ডা। সেই থেকে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা। যখন দৈনিক ইনকিলাবের সাব এডিটর তখন মাঝে মধ্যে তাঁর অফিসে ঢু মারা।

চায়ের কাপের গল্পের স্রোতে ভেসে যাওয়া। শিল্পকলা একাডেমিতে আব্দুল আলিমের জন্ম কিংবা মৃত্যু বার্ষিকীতে ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর গান শোনা। আব্দুল আলিমের জীবনের খুঁটিনাটি গল্প শোনা। নড়াইলের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা। মরহুম অধ্যাপক সাইদুর রহমান স্যারের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া।

এমন কত গল্পের পরাগ ছড়িয়ে দিতেন মহসিন ভাই। যা এখন স্মৃতির ডালের ঝরা ফুল। মহসিন ভাইর বিয়োগে আমার ধূসর হৃদয় আজ ব্যাকুল। আফসোস হয়, হায়! কেন আরও কাছে থাকতে পারলাম না মহসিন ভাইর।
কবি মহসিন হুসাইন নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি ছিলেন। জমিদার প্রথা উচ্ছেদ হলেও তার মনে বসত করত এক ছদ্মবেশী জমিদারি ঐতিহ্য। চলনে-বলনে কথা ও কাজে তা ফুটে উঠতো। তবে প্রজা নিপীড়নের কোনো চিহ্ন তার চিন্তা চেতনায় বহির্প্রকাশ পায়নি। বরং তিনি ছিলেন সাম্যবাদী সমাজ গঠনের অন্যতম অনুঘটক। জন্মভূমি নড়াইলের প্রতি ছিল তার সীমাহীন টান।

সুযোগ পেলেই চলে আসতেন নড়াইলে। জমাতেন সাহিত্য আড্ডা। তৃণমূলের মাটি খুঁড়ে করেছেন গবেষণা। ঢেকে যাওয়া তথ্য করেছেন সংগ্রহ। তারপর মনের মাধুরি ঢেলে। কলমে রূপালী কালি ভরে লিখেছেন নড়াইল জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, স্মৃতির অলিন্দে শিল্পী সুলতান, শিল্পী সুলতানের আত্মকথা- জীবনের জলরঙ, নড়াইলের মুক্তিযুদ্ধ, বৃহত্তর যশোরের লোককবি ও চারণ কবি এবং কবিয়াল বিজয় সরকারের জীবন ও সংগীত সমগ্র, নড়াইল জেলা সমীক্ষা ও স্থান নাম, নামক গ্রন্থগুলো। যা নবীন লেখক ও গবেষকদের জন্য হয়ে আছে এক অজানা পথের সোনালি পাথেয়।
কবি মহসিন হোসাইন ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি চারটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার লেখা ১৩০টি বই আছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে নয়খানা বই। তবুও তিনি পান নাই বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
কবি মহসিন হোসাইন বাংলা ১৩৬১ সালের ২১ বৈশাখ মোতাবেক ইংরেজি ১৯৫৪ সালের চৌঠা মে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার প্রাচীন কোলাবাড়ি বর্তমান নাম কলাবাড়িয়া গ্রামের দশানি-মোল্লাপাড়ার সুপ্রাচীন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুর রাজ্জাক মিয়া। মায়ের নাম সাহেদা খানম। তিনি বাবা-মার দ্বাদশ সন্তান এবং জীবিতদের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।

কবি মহসিন হোসাইন দাবি করতেন তাঁর ঊর্ধ্বতন নবম পুরুষ পীর খানজাহান আলীর সহদর বলে পরিচিত পীর জাহান্দার খাঁ। কবির ভাষ্যমতে জাহান্দার খাঁ সুলতানী শাসন আমলের সেনানায়ক ছিলেন। তিনি ‘কিশোয়ার খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। জান্দাল খাঁর পুত্র ওয়ালি মাহমুদ খাঁ কেলা বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। কেলাবাড়ি ছিল একটি কেল্লা বা দুর্গ যা পরে কলাবাড়িয়া গ্রাম নাম ধারণ করে।

কবির পিতামহ আব্দুস সামাদ মিয়া ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও শিক্ষানুরাগী। কবি ১৯৮৫ সালের ৩ জুলাই মোতাবেক বাংলা ১৩৯১ সালের ১৮ আষাঢ় হিন্দু কুমারী অর্পণা দেবী ঠাকুরকে বিবাহ করেন। কবিপতœী কলাবাড়িয়া গ্রামের নবশাখ গোত্রের কালীপদ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠকন্যা। কবির একমাত্র সন্তান সুকুন্তলা হোসেন। তাঁর স্বামী কামরুজ্জামান খান।

কবি মহসিন হোসাইনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নিজ গ্রাম কলাবাড়িয়াতে মাঠে-ঘাটে, বনে- জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে। পাখির গান শুনে। পাখির ছানা পালন করে। মা-চাচি আর প্রতিবেশী খালা ফুপুদের কণ্ঠে মেয়েলি গীত শুনে। গুনাই বিবি, রূপবান বিবির যাত্রাপালা দেখে। গাজীর গান, জারিগান শুনে। বনে জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে সেই কৈশোরে লিখতেন কবিতা আর গান তাই এলাকার কেউ কেউ তাঁকে ‘বুনোকবি’ বলে ডাকতেন। কবি মহসিন হোসাইন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কলাবাড়িয়া পূর্বপার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে ১৯৭২ সালে কলাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। যদিও তিনি ১৯৭১ সালের পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের কারণে ১৯৭১ সালের পরীক্ষা ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে কবি খুলনার আব্দুল মজিদ ম্যামোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশ করেন।

এবং খুলনার দৌলতপুর বিএল কলেজে বাংলায় অনার্স কোর্সে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। একপর্যায়ে কমরেড হওয়ার বাসনায় প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে দিয়ে শুরু করেন বাউন্ডেলে জীবন। পড়তে থাকেন বাম রাজনীতির বই পুস্তক। করতে থাকেন মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ। উল্লেখ্য, কবি দশম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় একটি বাম রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন থেকেই মস্তিষ্কে ঘুরপাক খেতে থাকে শোষণ মুক্ত সমাজ গঠনের।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি মাওলা ভাষানীর হক কথা, দৈনিক প্রবাহ বিভিন্ন পত্রিকার কালিয়া প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া তিনি ১৯৬৮ সালে কলাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ‘নলিয়া’ নামক দেওয়াল পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৭০ সালে ‘অরণি’ নামে আর একটি দেওয়াল পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৭১ সালে ‘স্বাধিকার’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় সংবাদ ও কবিতা পাঠাতেন।

১৯৭৪ সালে খুলনার রায়ের মহল থেকে প্রকাশিত আবুল কালাম বাচ্চু, আব্দুল জব্বার ও মহসিন হোসাইনের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা। ১৯৭৭ সালে ভারতের মেদিনীপুর থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘বঙ্গশ্রী’ পত্রিকার বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ঢাকা চলে যান। এবং ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার সাপ্তাহিক ‘দেশপত্র’ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।

একই সময়ে তিনি সাপ্তাহিক ‘ফসল’ পত্রিকার নিয়মিত প্রতিবেদন লেখক ছিলেন। ১৯৯০ সালে কবি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসিক ‘অগ্রপথিক’ পত্রিকারসহ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৯১ সালে তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাব এডিটর হিসেবে যোগদান করেন এবং বাকি জীবন সেখানেই ছিলেন। কবি মহসিন হোসাইন ১৯৬৫ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন প্রথম কবিতা লেখেন এবং ১৯৬৭ সালে যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তখন থেকে গান লেখা শুরু করেন।

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত জাতীয় দেশাত্মবোধক সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রশংসাপত্র পান। ১৯৯৪ সালে বিটিভি’র গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
সত্তর দশকের এই কবির কর্মজীবন ছিল বড়ই বৈচিত্র্যময়। জমিদারের রক্তস্রোত যাঁর ধমনীতে বহমান সেই কবি করেছেন শ্রমিকের কাজ। হয়েছেন ছাপাখানার ম্যানেজার। ছিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খ-কালীন শিক্ষক। ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে জীবিকার জন্য বেছে নেন সাংবাদিকতা।
কবি মহসিন হোসাইন ছিলেন একজন সব্যসাচী লেখক। কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গবেষণাসহ সাহিত্যের সকল শাখায় ছিল তাঁর বিচরণ। তিনি লিখেছেন ১৩০ খানা বই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বইগুলি হলো- কাক জোছনার নীড়, বনজের প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া, নীল ছায়া, শুধু রাত চাই সুকোমল, সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকাল ও বাংলার বার ভূঁইয়া বিদ্রোহ, নড়াইল জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, স্মৃতির অলিন্দে শিল্পী সুলতান, শিল্পী সুলতানের আত্মকথা জীবনের জলরঙ, কবিয়াল বিজয় সরকারের আত্মকথা নদী বয়ে চলে (সম্পাদিত), বাংলাদেশের লোকগীতি সম্ভার, শেখ হাবিবুর রহমান সাহিত্যরতœ, নড়াইল জেলা সমীক্ষা ও স্থান নাম, বাঙালির পদবি কোষ, বাংলা রুবাইয়াৎ, কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতি সান্নিধ্যে, হার্মাদের প্রেম, মুক্তি যুদ্ধের উপন্যাস শোণিত সংস্কৃতি, একুশের সেরা কবিতা (সম্পাদিত), মুক্তি যুদ্ধের সেরা কবিতা (সম্পাদিত), শত বছরের সেরা কবিতা (অনুবাদ কবিতা) পাখির রাজ্যে কিচিরমিচির, জীবন অন্বেষা, জলৌকা, কুয়াশা তুমি, মেডুসার চুল, গোমতীর তীরে খুঁজি পদ্মনী, মহসিন হোসাইনের একুশের ছড়া, প্রীতির ছড়া জয়ের ছড়া, নীল বিদ্রোহের অজানা ইতিহাস, বাংলা দেশের নদ নদী, বৈরী স্রোতে মধুসুধন, গালিবের শের গুচ্ছ (অনুবাদ কবিতা), গালিবের শেররূপান্তর (অনুবাদ কবিতা), মির তকির শেরগুচ্ছ (অনুবাদ কবিতা), বৃহত্তর যশোরের লোককবি ও চারণ কবি, রমেশ শীল, ভূতের ছড়া, ভাটিয়ালি গানের রাজা পাগল বিজয় ইত্যাদি।
মহসিন হোসাইন একাধারে কবি, গীতিকার, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ফিচার লেখক, স্মৃতিকথার লেখক, ফোকলোরবিদ, ইতিহাস গ্রন্থ রচয়িতা, যাত্রাপালা রচয়িতা, নাট্যাভিনেতা, যাত্রাভিনেতা, চলচ্চিত্র অভিনেতা, টিভি নাট্যাভিনেতা, পেশাদার বক্তা, বেহালা বাদক, রেডিও ব্রডকাস্টর, রেড়িওর পা-ুলিপি রচয়িতা, টিভির কথক, ফরিদপুর মিউজিয়ামের প্রাচীন পা-ুলিপি পাঠোদ্ধারক। ১৩০ খানা গ্রন্থের রচয়িতা।

যার মধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নয়খানা গ্রন্থ। তিনি পেয়েছেন, বৃহত্তর যশোর জেলাওয়ারী একুশে সাহিত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ১৯৭৯ সালে। কবিকে ১৯৭৯ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার মহারাজপুরে ঘাগর গণেষ পাগলের মেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে তাঁর নিজ জেলা নড়াইলের ডুমদি গ্রামে বিজয় মেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

১৪০৮ বঙ্গাব্দে কবিকে ঢাকার বিউটি বোর্ডিং এ আমির প্রকাশনার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে ইছামতী নদীর তীরে বিভূতিভূষণ ঘাটের উদ্যানে কবিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জাগল ম্যাজিক একাডেমি কবিকে সংবর্ধনা প্রদান করেন।
বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের জীবন সদস্য, এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য, বাংলাদেশ পালাকার পরিষদের সিনিয়রসহ সভাপতি, পাগল বিজয় শিল্প সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নড়াইল জেলা ইতিহাস ও কৃষ্টি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী লেখক বোশেখ মাসের রুদ্রদিনে জন্ম নিয়ে সেই বোশেখ মাসের রুদ্র হাওয়ায় ঝড় তুলে গত ৫ মে ঢাকার মুগদা সরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। এরই সঙ্গে শেষ হলো কবি মহসিন হোসাইনের ৭০ বছরের এক সাফল্যম-িত লেখক জীবনের অবসান। বিদায়! কবি মহসিন হোসাইন।

×