ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

শীতের আগমনীতে পিঠা বিক্রি

সন্ধ্যা হলেই নারী পুরুষের ভিড়, উৎসব আমেজ

এস এম জসিম উদ্দিন

প্রকাশিত: ০০:১৮, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

সন্ধ্যা হলেই নারী পুরুষের ভিড়, উৎসব আমেজ

ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের পিঠা তৈরিতে  ব্যস্ত নারী

শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশে পিঠা বিক্রি করেন সালেহা খাতুন। অসুস্থ স্বামী ও দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে অভাব-অনটনে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে তার। কয়েক বছর নানান কাজ করলেও অবশেষে শীতের পিঠা বিক্রি শুরু করেন সালেহা। প্রায় তিন বছর ধরে শীতের পিঠা বিক্রি করে চলছে তার সংসার।
শুধু সালেহা খাতুন নয়, শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড, টার্মিনালের সামনে, আর্ট গ্যালারি মোড়, পোস্ট অফিসের সামনে, জজকোর্ট চত্বর, কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে তার মতো অর্ধশত নারীর সংসার চলছে শীতের পিঠা বিক্রি করে। এমনকি গ্রাম-গঞ্জেও ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান রয়েছে আনাচে-কানাচে। সন্ধ্যা হলেই যেন উৎসব আমেজ। প্রতিটি দোকানেই পড়ে পিঠা বিক্রির ধুম। এসব দোকানে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হচ্ছে।
দোকানি সালেহা খাতুন বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৩০-৩৫ কেজি চালের পিঠা বিক্রি হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকা লাভ হয়। 
শহরের স্টেশন রোড এলাকার আকবর হোসেন বলেন, ‘এ বছর চাল-ডাল, গুড়, মসলার দাম বাড়লেও আমরা গত বছরের দামেই পিঠা বিক্রি করছি। এতে আমাদের অন্যান্য বছরের তুলনায় লাভ একটু কম হচ্ছে।’
সদর উপজেলা ভীল্লী বাজারে পিঠা বিক্রেতা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন ফুটপাতে বসে গভীর রাত পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করি। আর অন্য সময় অন্য কাজ করি। এই পিঠা বিক্রির আয়ে চলে সংসার।’
চিতই পিঠা খেতে আসা আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সন্ধ্যায় বাসায় মেহমান এলেই এখন তাদের এখান থেকে পিঠা নিয়ে আপ্যায়ন করাই। তারা এই পিঠা খেয়ে খুব খুশি হয়।’ তা ছাড়া স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করি, তাই বাসা-বাড়িতে পিঠা-পুলি বানাবার সময় পাই না। এমতাবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে নগদ টাকায় কিনে নিয়ে পিঠা-খাওয়ার স্বাদ মিটিয়ে নিতে হচ্ছে। 
ইমরান হোসেন নামের একজন বলেন, ‘মাত্র ১০ টাকায় নারকেল, গুড় দিয়ে সুস্বাদু ভাঁপা পিঠা পাওয়া যায়। ভালো লাগে, তাই নিয়মিত খাই।’ এ ছাড়া বাজারে জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে, সবকিছু কিনে বাসা-বাড়িতে পিঠা-পুলি বানানোর আয়োজন করতে গেলে খরচের পরিমাণ অনেক বেশি পড়ে। তাই দোকান থেকে কিনে নিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে নিচ্ছি। এতে বেশি সমস্যা হচ্ছে না বরং সবাই খুশি থাকছে। 
ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনোতোষ কুমার দে বলেন, বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি উৎসব শীতকালীন পিঠা উৎসব। বাঙালির লোকজ ইতিহাস-ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রাচীনকাল থেকেই। তাই এ পিঠা আমাদের উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

×