সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ৫ জঙ্গীকে নীলফামারী থানায় হস্তান্তর

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ৫ জঙ্গীকে নীলফামারী থানায় হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী॥ ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) দিয়ে বোমা হামলা চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং শীর্ষ জঙ্গীদের জেল থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনায় নিয়োজিত গ্রেফতারকৃত ৫ জঙ্গীকে নীলফামারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব)।

আজ রবিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে র‍্যাব ১৩ পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গী বিরোধী আইন-২০০৯ এ মামলার এজাহার দায়ের করা হয়। সদর থানার ওসি আব্দুর রউপ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড চাওয়া এবং স্বীকারোক্তি জবানবন্দী প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) গভীর রাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত নীলফামারীর বিভিন্ন স্থানে অভিযানে ওই ৫ জঙ্গীকে গ্রেফতার ও তাদের দেয়া তথ্য মতে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের পুটিহারি মাঝাপাড়া গ্রামে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযানে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করে। আটক হওয়া জঙ্গিরা রংপুর অঞ্চলের জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। এরা হলো সদর উপজেলার উত্তর মুশরত কুখাপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আহিদুল ইসলাম আহিদ ওরফে পলাশ (২৬), তার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে জোবায়ের (২৭), একই উপজেলার পশ্চিম কুচিয়ামোড় পাঠানপাড়া গ্রামের ওয়াজ্জুউদ্দীন মাসুদের ছেলে ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান (৩০), দক্ষিণ বালাপাড়ার তছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা (২৬) এবং সোনারায় কাচারীপাড়ার মৃত রজব আলীর ছেলে নূর আমিন ওরফে সবুজ (২৮)।

গতকাল শনিবার(৪ ডিসেম্বর) বিকালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে আটক জঙ্গীদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, এ জঙ্গীরা জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব পেজ দেখে তারা দীর্ঘদিন ধরে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নেয়। মূলত জেলখানায় অন্তরীণ থাকা শীর্ষ জঙ্গিদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে হামলা চালিয়ে মুক্ত করাই ছিল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার লক্ষ্যে তারা এসব অত্যাধুনিক বোমা তৈরি করে। এদের মধ্যে আহিদ নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান। তাদের মধ্যে ওয়াহেদ আলী বোমা তৈরির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শরিফুলও জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে স¤পৃক্ত। অভিযানের বিষয়টি টের পাওয়ায় সে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।এ ছাড়া অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া একটি শক্তিশালী বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে র‍্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। র‍্যাব যে বাড়ি থেকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে, সেটি মৃত সুলতান আলীর নাতি শরিফুল ইসলামের বাড়ি। শরিফুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। দুই বছর ধরে শরিফুলের চলাফেরায় বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সে একসময় উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিকের কাজ করতো। ২ বছর আগে চাকুরি ছেড়ে দেয়। রংপুর অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান অহিদুল ২০১৫ সালে জেএমবিতে যোগদান করে। সে জঙ্গীর সাথে জড়িত হবার পরেও উত্তরা ইপিজেডের খেলনা প্রস্তুতকারণ কোম্পানী সনিক বিডি লিঃ এ কোয়ালিটি চেকার পদে চাকরী করে আসছে। তার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের একই ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার পদে চাকুরি করছিল। সেখান থেকেই উক্ত শরিফুলের সাথে তাদের পরিচয় ছিল। অপর তিন জঙ্গীর মধ্যে ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান ও নুর আমিন ওরফে সবুজ উত্তরা ইডিজেডের এভারগ্রীন লি. এ লেবারের চাকুরি করে। আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডাঃ সুজা গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তারা রংপুর অঞ্চলের শ্রমিক, অটোচালক, টেইলার সহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবীদের ২০/২৫ জনকে জঙ্গীবাদে অর্šÍভূক্ত করে।

আহিদ রংপুর অঞ্চলে জেএমবির সামরিক শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করত। অপর জঙ্গী সদস্যরাও বিভিন্ন পেশার আড়ালে জঙ্গী কার্যক্রমের সঙ্গে স¤পৃক্ত। তারা জঙ্গী আহিদের মাধ্যমে ২-৩ বছর আগে জেএমবির কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের ২ হাজার ৬৫৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। যাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৯ জন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। র‍্যাবের অভিযানে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আব্দুর রহমানের ভাই, আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতা গ্রেফতার হন। ২০০৭ সালে তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়। এছাড়া হলি আর্টিসান ঘটনার পর র‍্যাবের তৎপরতায় আরও ১ হাজার ৪৯৬ জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হয়। যার মধ্যে ৮১৬ জন জেএমবির সদস্য।

শীর্ষ সংবাদ: