শনিবার ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৬ জুন ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা

আজিজ আহমেদ ॥ আমাদের দেশের তরুণদের একটা বিরাট অংশ এখন নেশায় আসক্ত। মাদকে আসক্ত এসব তরুণের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে নেশা জাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা ও সঠিক বিনোদনের অভাব। বর্তমানে তরুণ কিংবা তরুণী যাই বলি না কেন এরা হাত বাড়ালেই নেশাদ্রব্য পাচ্ছে। বিনোদনের সঠিক কোন মাধ্যম না থাকার ফলে আজ তরুণরা নেশার করালগ্রাসে নিমজ্জিত হচ্ছে এবং ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অথচ একসময়ের কৈশোরে দুরন্তপনার কথা মনে পড়ে যায় কি শহর আর কি গ্রাম। এই তো আজ থেকে কিছুদিন আগের শৈশবের দিনগুলোও ছিল সোনালি। অতীতে বিনোদনের মাধ্যমের কোন অভাব ছিল না। শৈশব, কৈশোরের সেই দিনগুলোর কথা এখনও মনের মধ্যে গেঁথে আছে। আমাদের বিনোদনের মাধ্যম ছিল ক্রিকেট, ফুটবল, কানামাছি, ডাংগুলি, সাঁতার কাটাতে। আমাদের বিনোদন ছিল কৈশোরে রাত জেগে মঞ্চ নাটক, যাত্রাপালা, গান বাজনা করা কিংবা বিশাল উঠোনে রাতে বৃদ্ধ দাদুর পড়া পুঁথি শোনা। সেই এক দিন গেছে আমাদের শৈশবেরও। সম্ভবত আমরাই বোধহয় শেষ প্রজন্ম যে প্রজন্মের অতীতের সঙ্গে সেই সম্পর্কটা ছিল। অতীতের প্রায় সব রকম বিনোদনই আমরা উপভোগ করেছি।

অথচ আজ! সেগুলোর কি কোন অংশ আমরা কোথাও দেখতে পাই? কি গ্রাম আর কি শহর। সর্বত্রই এখন আমরা ইট-পাথরের নগরে বন্দী। এখানে কেউ কারও খবর রাখে না। সর্বত্রই অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নেশায় মত্ত আমরা। শহরে বিনোদনের মাধ্যম যেখানে পার্ক ছিল। সেখানকার অবস্থাটাও যথেষ্ট পরিমাণের বাজে হয়েছে। আজ পরিবার পরিজন নিয়ে যাওয়ার কোন অবস্থা নেই বললেই চলে সেখানে। একবিংশ শতকের এই সময়ে এসে আমাদের দেশের বিনোদন আটকে আছে ড্রয়িংরুমের টিভিতে যেখানে আসন গ্রহণ করে আছে ভিনদেশী সিরিয়াল আর ভিনদেশী সংস্কৃতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহায়তায় পাওয়ার এ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ২০১২ সালে ঢাকা শহরে একটি জরিপ চালায়। এতে ঢাকার জনগণের অবসর কাটানো প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সিংহভাগই টেলিভিশন দেখে। ২২ শতাংশ জাদুঘর, চিড়িয়াখানা ও পার্কে ঘুরতে যায়। ১২.৩ শতাংশ শিশুপার্কে যায়। ঘরের বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করে ২.১ শতাংশ। ৯.৪ শতাংশ ভিডিও গেম বা কম্পিউটারে সময় কাটায়। আর কিশোর বয়সে শৈশবের ছেলেমেয়েরা ঝুঁকে পড়ছে ভিনদেশী সংস্কৃতিতে তাদের হাতে সহজলভ্য হয়ে পড়ছে নেশার মতো ভয়াবহ নেশাদ্রব্য। আজ শহর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই খেলার মাঠের বড্ড অভাব। শহরের স্কুল কলেজের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই তাদের বহুতল ভবনেই স্কুল সেখানে কোন ক্যাম্পাস কিংবা বিশাল খেলার মাঠ নেই। অপর পক্ষে গ্রামের দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাই ভূমিদস্যুরা খেলার মাঠ দখল করে আছে। যার ফলে যে বয়সে ছেলেমেয়েদের হাতে বইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলার সরঞ্জাম থাকার কথা ছিল অথচ সেই বয়সে তাদের হাতে চলে যাচ্ছে নেশা জাতীয় দ্রব্য। সঠিক বিনোদনের অভাবের ফলে আজ আমরা যন্ত্র মানবে পরিণত হচ্ছি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। যেভাবেই হোক এ থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সঠিক বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে আমাদের সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকবে। আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি সঠিক ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা নেশার প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে সঠিক পথে চলতে পারে।

টাঙ্গাইল থেকে

শীর্ষ সংবাদ:
মিনিয়াপলিসে নিষিদ্ধ হচ্ছে পুলিশের হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরা         করোনা ভাইরাসে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৩৫ জন         মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডে ৫ বাংলাদেশি         এবার মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা         ২০ লাখ ডোজ করোনা ভেইরাসের ভ্যাকসিন প্রস্তুত ॥ ট্রাম্প         ঢাকাতেই সাড়ে ৭ লাখের বেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ॥ ইকোনমিস্ট         লন্ডনে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট         বরিশালে করোনার উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু         ফ্রান্সের অভিযানে আল কায়েদার উত্তর আফ্রিকা প্রধান নিহত         ব্লাড ক্যান্সারের ওষুধ সারাবে করোনা ভাইরাস?         করোনা ভাইরাসে ব্রাজিলে প্রতি মিনিটেই মারা যাচ্ছেন একজন         মেক্সিকোতে মাস্ক না পরায় পিটিয়ে হত্যা!         যুক্তরাজ্যের গবেষণায় উঠে এল ভারতের ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যর্থতা         হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে বিক্ষোভে সমর্থন জাস্টিন ট্রুডোর         দশ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ॥ বাজেটে করোনা মোকাবেলা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব         সংক্রমণের ভয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানা শীঘ্র চালু হচ্ছে না         স্ট্রোকে আক্রান্ত নাসিমের মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার         ডিজিটাল বাংলাদেশের অনন্য স্বীকৃতি জাতিসংঘের         ১৬ দিনেই করোনায় আক্রান্ত ৩৪ হাজার         করোনায় মৃতের সংখ্যা ৮শ’ ছাড়াল        
//--BID Records