সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা

  • মোতাহার হোসেন সুফী

পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান আলোচনার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিশ্বের নৃশংসতা গণহত্যার (অপারেশন সার্চলাইট) আদেশ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে ২৫ মার্চ রাত পৌনে ৮টায় গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।

জুলফিকার আলী ভুট্টোও হন তাঁর অনুগামী। অথচ সেদিন সকালে ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ৪৫ মিনিট কথা বলেছেন ভুট্টো। এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘শেখ মুজিবের ৪-দফা দাবির ব্যাপারে তাঁর দলের নীতিগতভাবে কোন আপত্তি নেই। দেশের উভয় অংশেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক, এটাই তাঁদের কাম্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ মুজিব যে স্বাধিকার দাবি তুলেছেন তা স্বাধীনতারই নামান্তর। তিনি সরাসরি শেখ সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন অথচ শেখ মুজিব তাতে রাজি হননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

‘ক্ষমতালোভী ভুট্টো নির্লজ্জভাবে তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন। গণতান্ত্রিক আইনে পৃথিবীতে কোথাও সংখ্যালঘিষ্ঠ দল ক্ষমতার অধিকারী হয় এ ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। কিন্তু ভুট্টো অবৈধভাবে তা পাওয়ার জন্য যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা প্রকাশ করেন, তার ফল দেশের জন্য ভয়াবহ হয়েছে। শেখ মুজিব তাঁর ৬-দফা দাবি থেকে এক চুলও নড়বেন না এবং তাতে ব্যর্থ হলে যে পাকিস্তান দ্বি-খ-িত হবে সেকথা জেনেও জনাব ভুট্টো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতার লোভে শেখ মুজিবের কাছ থেকে অন্যরূপ বিবেচনার প্রত্যাশা করতে থাকেন। সেকথা আবার নির্লজ্জভাবে প্রকাশ করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি।’

২৫ মার্চ দিনটিও বঙ্গবন্ধুর কেটেছে তাঁর বাসভবনে। সারাদিন মানুষের ঢল। তাঁর বাসভবনের সামনে সমবেত হয়েছে মিছিলের পর মিছিল। বঙ্গবন্ধু প্রায় প্রতিটি মিছিলের সামনে এসেই সংক্ষেপে বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশ, ‘সকলেই সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য তৈরি হও। অচিরেই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হতে পারে এবং সেটা আজ থেকে শুরু হলেও বিস্মিত হবার কিছু নেই।’

২৫ মার্চ, পৈশাচিক হত্যাকা-

২৫ মার্চের কালরাতে কি ঘটেছিল তার বিশদ বিবরণ পাওয়া যাবে করাচীর মর্নিং নিউজ পত্রিকার রিপোর্টার এন্থনি মাসকারেনহাস রচিত ‘দি রেপ অব বাংলাদেশ’ গ্রন্থে। সেই কালরাতে ৮ টার দিকে এক অজ্ঞাত পরিচয় রিকশাওয়ালা প্রাণপণে রিকশা চালিয়ে ঢুকে পড়ল ৩২ নম্বর ধানম-ির বাড়িতে যাওয়ার গলিতে। বেশ হাঁপাচ্ছিল সে। মুজিবের জন্য এক জরুরী বার্তা নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে সারাটা পথ প্যাডেল চালিয়ে এসেছে। নাম-স্বাক্ষরহীন সেই বার্তাটি বাংলায় লেখা। বক্তব্য বিষয় সংক্ষিপ্ত ও চাঁছাছোলা : ‘আজ রাতে আপনার বাড়িতে রেইড হবে।’ মুজিব সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের হার্ডকোর সদস্যদের ডাকলেন। তাঁদেরকে বার্তার কথা জানালেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তিনি শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান প্রমুখকে তাজউদ্দীনের সঙ্গে বসে স্বাধীনতার সনদের খসড়া তৈরি করতে বলেন এবং অন্য সকলকে নিজ নিজ জেলা ও এলাকায় গিয়ে যুদ্ধের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাবার নির্দেশ দেন।

তিনি সকলকে ছত্রভঙ্গ হয়ে আত্মগোপনে চলে যেতে বলেন। নিজে কেন আত্মগোপনে যাচ্ছেন না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘জনগণকে বাঁচাতে হবে। আমি এখানে না থাকলে ইয়াহিয়া খান গোটা ঢাকা শহর পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।’ সাংবাদিক সায়মন ডিং-এর প্রতিবেদন স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র, (দ্বিতীয় খ-) থেকেও জানা যায় এ একই কথা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালীর স্বাধীনতা ইতিহাসের ভয়াল এক কালরাত। ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও পৈশাচিক হত্যাকা-। এই রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অন্ধকারে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালী জাতির ওপর। মেশিনগান, মর্টার, ট্যাংক নিয়ে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে এক রাতেই পাকিস্তানী হানাদাররা রাজধানী ঢাকায় নির্মমভাবে হত্যা করে হাজার হাজার ঘুমন্ত বাঙালীকে। নির্বিবাদে তারা যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলÑ বিশ্বের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে সেই ঘটনা। এই কলঙ্কজনক অধ্যায় একদিকে জাতির কাছে এক ভয়াল ও বিভীষিকাময় ‘গণহত্যার’ রাতÑ অন্যদিকে এই রাতের বুক চিড়েই বাঙালী জাতি স্বাধীনতা সূর্যের অভ্যুদয় ঘটানোর লক্ষ্যে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী অভিযাত্রা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশিত পথে সমগ্র জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, যখন পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরশাসকদের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালী জাতি মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয়, তখন পাকিস্তানীশাসক ভুট্টো-ইয়াহিয়া চক্র নির্বিবাদে চালিয়েছিল গণহত্যা। কিন্তু স্বৈরশাসকদের হানাদারবাহিনী বর্বরপন্থা অবলম্বন করেও রুদ্ধ করতে পারেনি এদেশের মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির পথকে। ২৫ মার্চে পাকিস্তানীরা চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে রাতের অন্ধকারেই চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে। কিন্তু তারা তা পারেনি। তাদের ষড়যন্ত্র হয়েছে ব্যর্থ।

‘২৫ মার্চ রাত ১০টার আগে সেনাছাউনি থেকে বের হয় তিন ব্যাটালিয়ান সৈন্য। তারা প্রথম আক্রমণ চালায় ছাত্রদের ওপর। রাস্তায় যারা ব্যারিকেড তৈরিতে নিয়োজিত ছিল তারাও তাদের আক্রমণের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়।’

রাত ১১টা বাজার পরপরই নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুরোদমে শুরু হয়ে গেল সেনাবাহিনীর হামলা। আগ্নেয়াস্ত্রের মুহুর্মুহু গর্জন নগরীর সর্বত্র ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। মধ্যরাতের আগেই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে চলেছে। টেলিফোন অবিশ্রান্তভাবে বেজে চলছিল এবং টেলিফোনের আওয়াজকে ছাপিয়ে উঠছিল আগ্নেয়াস্ত্রের শব্দ। তখনও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারকীয় হামলা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। একযোগে একই সঙ্গে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনাকারীদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি ব্যাটালিয়ন ক্যান্টনমেন্ট এলাকা অতিক্রম করে অগ্রসর হয় ফার্মগেটের দিকে। ফার্মগেটের কাছে বাধাগ্রস্ত হয় প্রথমে। সমবেত জনতা সেøাগান দিচ্ছিল ‘জয়বাংলা’। মুহূর্তে গর্জে উঠল মেশিনগান। নিহত হলো ছাত্র-জনতা। হানাদাররা লাশের ওপর দিয়ে এগিয়ে যায় সামনে।

প্রথম টার্গেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ। রকেট ল্যান্সারের আঘাতে বিধ্বস্ত হলো ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হল, মুহসীন হল। দাউ দাউ জ্বলে উঠল বাবুপুরা বস্তি। মুখ থুবড়ে পড়ে যান গোবিন্দচন্দ্র দেব, এ এন এম মনিরুজ্জামান, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাসহ সাত জন অধ্যাপক।

দ্বিতীয় টার্গেট রাজারবাগ পুলিশ লাইন। পূর্বপাকিস্তানের পুলিশদের সদর দফতর। বাঙালী পুলিশরা আত্মসমর্পণ না করে রাইফেলের নল ঘুরিয়ে ধরল। ১১০০ পুলিশের সবাই শেষ। ট্যাংক গিয়ে গুঁড়িয়ে দিল সব। গ্যাসোলিন ছিটিয়ে রকেট ছুঁড়ে গোটা সদর দফতরকে তখন আগুনে লাল করে ফেলা হলো। পিলখানার ভেতরে ২২তম বালুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা ইপিআরদের গোলাবারুদের গুদাম দখল করে এবং আগেই নিরস্ত্র করে রাখা ইপিআরদের নির্বিচারে গুলি করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা

২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার বরণের পূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির আশা-আকাক্সক্ষাকে ভাষারূপ দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে তিনি যে বাণী প্রদান করেন তার অংশবিশেষ এরূপ :

This may be my last message. From today Bangladesh is independent, I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of Occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved."

‘এটা আমার কাছ থেকে শেষ বাণী হতে পারে। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা যে যেখানে থাকুন এবং যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীকে শেষ পর্যন্ত প্রতিহত করুন। আপনাদের লড়াই অবশ্যই ততক্ষণ পর্যন্ত চালাতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর প্রতিটি সৈন্য বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হয় এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।’

ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ব্যারাক ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় টেলিফোন অফিসের এক বন্ধুকে ফোন করেন এবং ওয়্যারলেসযোগে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেন। এই বাণীতে বলা হয়, ‘রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প ও পিলখানা ইপিআর ক্যাম্পে রাত ১২টায় পাকিস্তানী সৈন্যরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে। হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে আমরা লড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য প্রয়োজন এবং পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকেই হোক। এ অবস্থায় আমি বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করছি। তোমরা তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা ও মাতৃভূমিকে রক্ষা করো। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। জয় বাংলা।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলার বীর জনগণের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য প্রথমে তিনি ঢাকা বেতারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পাকিস্তানী হানাদারদের দ্বারা বেতারকেন্দ্র অবরুদ্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ‘অতঃপর তিনি চট্টগ্রাম বেতারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওয়্যারলেসে তিনি খবরটি পৌঁছে দিতে সমর্থ হন। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ঘোষণা জারি করেছিলেন তা চট্টগ্রামের বেতারের কাছে এবং জনগণের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য তাঁরই বিশিষ্ট সহকর্মী জহুর আহমদ চৌধুরী ও এম আর খানের সঙ্গেও তিনি টেলিফোনে যোগাযোগ করেন।’ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জারিকৃত তাঁর এই স্বাধীনতা ঘোষণা বার্তা তৎকালীন গণভবনে রক্ষিত দলিল থেকে উৎকলিত ইংরেজী অনুলিপির বাংলা অনুবাদ :

স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা

‘পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে অগণিত লোককে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় চলছে লড়াই। বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে আমি সাহায্যের আবেদন জানাই। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে শত্রুদের সঙ্গে অমিতবিক্রমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আমি আবেদন করছি ও নির্দেশ দিচ্ছি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশকে মুক্ত করুন। পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সংগ্রামে পাশে দাঁড়াতে ও লড়াই করতে আমি আহ্বান জানাই। কোন আপোস নয়। জয় আমাদের অনিবার্য। এই বার্তা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের, স্বাধীনতাপ্রেমী ও দেশপ্রেমিকদের কাছে পৌঁছে দিন। আপনাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

জয় বাংলা, শেখ মুজিবুর রহমান

রাত ১টা ১০ মিনিটে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জেড এ খান ও মেজর বেলালের নেতৃত্বে পাকিস্তানী কমান্ডোবাহিনী উপস্থিত হয় ধানম-ির ৩২নং বাড়িতে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করলেও নিন্দুকরা বলেন, তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি আত্মসমর্পণ করলে অর্থ দাঁড়াত যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে আপোস। তা যে হয়নি ইতিহাস তাঁর প্রমাণ। ২৫ মার্চে বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার বরণের সিদ্ধান্ত ছিল সময়োপযোগী রাজনৈতিক একটি কৌশল। বন্দী বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে রাখা হয় ক্যান্টনমেন্টস্থ আদমজী স্কুলে। তিন দিন পর সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় করাচীতে। ঘাতক ইয়াহিয়ার ২৫ মার্চ কালরাতের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের হত্যাযজ্ঞে সমগ্র ঢাকা বীভৎস রূপ ধারণ করে। ২৬ মার্চ সকাল থেকেই সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয়। রাতে ইয়াহিয়া খান এক ভাষণ দিলেন। তিনি সামরিক আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করে সকল রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেন। তিনি দম্ভের সঙ্গেই বলেন, ‘মুজিব ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে প্যারালাল সরকার চালিয়েছে, তাকে শাস্তি না দিয়ে ছাড়বো না।’ ২৬ মার্চ সকাল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রক্তবন্যার স্বাক্ষর বহন করছে।

এইদিন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের রেকর্ডকৃত ঐতিহাসিক ভাষণ। সকালের দিকে চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

লেখক : শিক্ষাবিদ ,ভাষাসৈনিক ও গবেষক

শীর্ষ সংবাদ:
বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ : আইনমন্ত্রী         কোভিড ১৯ : করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭         মাদারীপুরে শিশু আদুরী হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসির আদেশ         মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের         পাকিস্তানকে ২০২ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ         ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের         হেফাজত মহাসচিব নুরুল ইসলাম আর নেই         নতুন ধরন ওমিক্রন ॥ স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১৫ নির্দেশনা         হেলমেটে বল লেগে মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ইয়াসির         ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটের সংঘাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩         শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়া সেই শিক্ষিকা স্বপদে বহাল         অবিলম্বে দ. আফ্রিকার উপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহবান প্রেসিডেন্ট         আফগানিস্তানের বিমানবন্দর চালু রাখতে ইইউর সহায়তা চেয়েছে তালেবান         রাজশাহীতে স্বামীর সামনেই ট্রেনে কাটা পড়ে স্ত্রীর মৃত্যু         পাবনার বেড়ায় চাচাকে হারিয়ে মেয়র হলেন ভাতিজা         নেত্রকোনায় অপহরণের সময় স্কুলছাত্রী উদ্ধার, এক অপহরণকারী আটক         ছেলেকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত শেন ওয়ার্ন