ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতির সুযোগ নিন ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৭:৫৫, ৩০ নভেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতির সুযোগ নিন ॥ প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ ॥ বিদেশীদের ব্যবসার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নীতি সবচেয়ে উদার জানিয়ে এ সুযোগ নিতে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বুদাপেস্টে বাংলাদেশ-হাঙ্গেরি বিজনেস ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের বিনিয়োগ নীতি সবচেয়ে উদার। ব্যবসার জন্য খরচও তুলনামূলক কম। ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের বাজারে আমাদের পণ্যের কোটা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে।’ আটটি শতভাগ রফতানিমুখী ইপিজেড এবং একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। চীন, ভারত ও জাপানের ব্যবসায়ীদের জন্য এরই মধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৩টি দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য রফতানি, দ্রুত বিকাশমান তথ্য-প্রযুক্তি খাত এবং এরই মধ্যে অন্যদের নজর কাড়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য হাঙ্গেরির ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট, সিরামিক, পেট্রোকেমিক্যাল, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, প্লাস্টিক পণ্য, জ্বালানি-বিদ্যুত, পানি ও সমুদ্র সম্পদ ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। যে কোন ব্যবসায়ী উদ্যোগ বাংলাদেশের বিকাশমান মধ্যবিত্তের বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা এবং চীন, ভারত ও আসিয়ানের বিশাল বাজার সংলগ্নতার ভূ-অর্থনীতির কৌশলগত অবস্থানের সুবিধা নিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উঠে আসার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালনাগাদ মধ্যম এবং ২০৪১ সালনাগাদ উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনী ব্যবসায় বাংলাদেশের অংশীদার হয়ে উভয় পক্ষের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হাঙ্গেরির ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নিজের দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীরা শুধু পশ্চিমে যায়। আর বলে, ‘এটা দাও, ওটা দাও’। একাত্তরে আমাদের সহায়তা করেছে এমন অনেক দেশ এখনও আমাদের জন্য অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ আছে, যেখানে আমরা ব্যবসা করতে পারি। বিজনেস ফোরামের এই বৈঠকে হাঙ্গেরির চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমদ ও হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে ড. পরাহ লাসলো স্বাক্ষর করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আগে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান আবদুল মুকতাদির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এবং হাঙ্গেরিয়ান চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক মারিয়া তেনিয়ানে স্তার্ক, হাঙ্গেরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক গাবর সোকস, হেড অব ডিপার্টমেন্ট অব হাঙ্গেরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি সাবা জেনেই ও হাঙ্গেরিয়ার ন্যাশনাল ট্রেডিং হাউসের রফতানি বিভাগের পরিচালক ওমানি ভানিদজে বক্তব্য দেন।