ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

এমপির বাধায় জুরাইনে রেলের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পণ্ড

প্রকাশিত: ০৫:৪৬, ৩০ নভেম্বর ২০১৬

এমপির বাধায় জুরাইনে রেলের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষের বাধার মুখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পণ্ড হয়েছে। শত চেষ্টার পরও রাজধানীর জুরাইন এলাকায় অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাবল রেললাইন স্থাপন করতে হলে দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। কাজে বাধা দিলে উন্নয়নকাজ বিলম্বিত হবে বলেও জানান তারা। তাছাড়া এ প্রকল্পের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের কোন প্রয়োজন নেই। রেলওয়ের জমিতেই নতুন লাইন স্থাপনের কাজ সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় স্টেট অফিসার এসএম রেজাউল করীমের নেতৃত্বে রাজধানীর জুরাইনের রেলগেটসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এক ঘণ্টা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার পর রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ‘টিপটপ’ হোটেল ভাঙতে গেলে উচ্ছেদকাজে বাধা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের এমপি এ্যাডভোকেট সানজিদা খানম। তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কিছু লোকজনও। উচ্ছেদকারী শ্রমিকরা টিপটপ হোটেল ভাঙতে গেলে সানজিদা খানম ওই হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে বুলডোজারের সামনে বসে পড়েন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যসহ রেলওয়ের স্টেট অফিসার তাকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। স্টেট অফিসার এসএম রেজাউল করীম সানজিদাকে বলেন, জনস্বার্থে প্রকল্প হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাছাড়া সরকারী কাজে বাধা না দিতে সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানান তিনি। একপর্যায়ে সংসদ সদস্য ও স্টেট অফিসারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। স্টেট অফিসার বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়ে আপনি অন্যায় কাজ করছেন। আপনি বুলডোজারের সামনে থেকে সরে যান। আমাকে সরকারী নির্দেশ পালন করতে দিন। এ কথা শুনে এমপি সানজিদা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং উচ্চৈঃস্বরে বলতে থাকেন, আমি সরকারের প্রতিনিধি। আমি বলছি, আপনারা পুলিশ নিয়ে চলে যান। আমি বেঁচে থাকতে এখানে কোন স্থাপনা ভাঙতে পারবেন না। এ কথা বলে তিনি হোটেলের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন। এর মধ্যে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানদার সানজিদার পক্ষে সেøাগান দিতে থাকেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভাঙার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাধারণ এলাকাবাসীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কয়েক শ’ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে সেøাগান দিতে থাকে। দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপযার্য়ে প্রায় শতাধিক পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি এম ফরিদ উদ্দীন পোস্তগোলায় উপস্থিত হয়ে সানজিদাকে সরে যাওয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ করেন। কিন্তু ডিসির কথায়ও সানজিদা সরে না যাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে রেলওয়ের বিভাগীয় স্টেট অফিসার এসএম রেজাউল করিম বলেন, আমি আর কী বলবো, সবই তো শুনেছেন। যা হয়েছে স্থানীয় লোকজন দেখেছেন। আমি সরকারী নির্দেশে জুরাইনে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা ভাঙতে গিয়েছি। সকাল সাড়ে দশটায় আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করি। এক ঘণ্টা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় এলাকাবাসী আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন। কিন্তু হঠাৎ সংরক্ষিত আসনের এমপি সানজিদা ম্যাডাম উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। আমি তার কথা না শোনায় তিনি বুলডোজারের সামনে বসে পড়েন। একপর্যায়ে আমরা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল রেললাইন সম্প্রসারণ করার জন্য রাজধানীর টিটিপাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের দু’পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে। টিটিপাড়া থেকে জুরাইন পর্যন্ত বিনা বাধায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা গেলেও জুরাইনে বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগেও দু’বার জুরাইনের টিপটপ হোটেল উচ্ছেদ করার সময় বাধা দেন সানজিদা খানম। এ নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে।