ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে মর্যাদা এবং কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ ঋণ সহায়ক হবে

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

প্রকাশিত: ০৪:২৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারী ও বেসরকারী খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আগামী পাঁচ বছরের (২০১৬-২০২০) মধ্যে এ ঋণ দেবে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এডিবি পরিচালনা বোর্ডে এ ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়। গত পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১১-১৫ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি বাংলাদেশকে দিয়েছে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের অধীনে বাংলাদেশের লক্ষ্য পৌঁছাতে এ ঋণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে মর্যাদা এবং কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনেও এ ঋণ সহায়ক হবে। সংস্থাটি বলছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক সুষম প্রবৃদ্ধির জন্য পল্লী উন্নয়ন করতে হবে। জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬-২০ সাল পর্যন্ত) বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর মধ্যে সহজশর্তে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন, কিছুটা অনময়নীয় শর্তে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন এবং আঞ্চলিক কোটায় ২ বিলিয়ন ডলার দেবে সংস্থাটি। গত পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১১-১৫ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি বাংলাদেশকে দিয়েছে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। (প্রতি অর্থবছর এক বিলিয়ন করে) কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্রাটেজির আওতায় আগামী পাঁচ বছর এ বর্ধিত সহায়তা নিতে ইতোমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত ২৩ আগস্ট সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। এডিবি অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়ন, বেসরকারী খাতের বিনিয়োগে অংশগ্রহণ বাড়ানো, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলাসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে এ সহায়তা দেবে। এডিবি আরও জানায়, অর্থনৈতিক করিডরের উন্নয়ন করতে এ ঋণ সহায়ক হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানের সড়কের উন্নয়ন করা হবে। ঢাকা থেকে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অর্থনৈতিক করিডরের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ এবং কক্সবাজার পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নে নানা প্রকল্প নেয়া হবে ঋণের আওতায়। রেলওয়ে এবং সড়ক নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতার উন্নতি, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন, ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থা; বিদ্যুত উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ; আঞ্চলিক শক্তি বাণিজ্যসহ এনার্জি সঞ্চালনেও নানা উদ্যোগ নেয়া হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন, জেলা এবং শহরসহ দেশব্যাপী নানা সেবা বাড়ানো হবে। বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে কল্যাণমুখী প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। বেসরকারী খাতের উন্নতি, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারীর মাধ্যমে সরকারী আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে এ ঋণের আওতায়। এদিকে বাংলাদেশের রেলের উন্নয়নে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা। গত বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম-সচিব সাইফুদ্দিন আহমদ এবং এডিবির পক্ষে বাংলাদেশের আবাসিক মিশনের চীফ ইনচার্জ ইয়োসিনোবি টাটেওয়াকি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের উদ্যোগী মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৯৪ মিলিয়ন ডলার। তার মধ্যে এডিবি ২০ কোটি মার্কিন ডলার অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) ঋণ প্রদান করবে। অবশিষ্ট ব্যয় বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব খাত হতে বহন করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য লোকোমোটিভ, রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ শীর্ষক দুটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৫০টি যাত্রীবাহী কোচ, ১০টি ডিজেলচালিত লোকোমোটিভ, চারটি রিলিফ ক্রেন, দুটি ট্রেন ওয়াশিং প্লান্ট এবং লোকো-মাস্টার ট্রেনিংয়ের জন্য একটি সিমুলেটর সংগ্রহ করা। এর ফলে আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন যাত্রীবাহী গাড়ি পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রীসেবা প্রদান করা হবে। এডিবির এ কঠিন শর্তের ঋণ (ওসিআর) পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। সুদের হার লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার্ড রেটের (লাইবোর) সঙ্গে ৫ শতাংশ (স্প্রেড) ও ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম ১ শতাংশ।