সোমবার ৩ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে

ঈদের ছুটি শুরু হলে আনন্দের পাশাপাশি একটা বড় শঙ্কাও আমাদের মনে উঁকি দিয়ে যায়। সেটি হলো এই সময় পথে দুর্ঘটনা। নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা এখন ঈদ মৌসুমের যেন বাস্তবতা। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এটি এখন প্রতিদিনের দুঃসংবাদ। দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ৫ হাজার ১৬২ জনের মৃত্যু ঘটছে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই মারা যাচ্ছেন ৩ হাজার ১৬৭ জন।

এটা সত্য যে কোন গাড়ি মৃত্যুদূত হিসেবে সক্রিয়তার নজির রাখলে দোষী করা হয় সংশ্লিষ্ট গাড়িচালককে। এখানে যুক্তি হলো গাড়িচালকের অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে তার গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। অনেক সময় মাদক সেবনের পর গাড়ি চালনারও অভিযোগ ওঠে চালকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কিছুটা সত্যতা তো অবশ্যই রয়েছে। বিশেষ করে নৈশযাত্রায় অনেকেরই অভিজ্ঞতায় পাওয়া যাবে ঘুম-ঢুলুঢুলু চোখে চালকের গাড়ি চালনার বিষয়টি। দেশের লাখ লাখ পেশাদার গাড়িচালকের ভেতর কত ভাগ যোগ্যতাসম্পন্ন? গাড়িচালকের সহকারীরাই, হেলপার নামেই যাদের পরিচয়, তারাই একপর্যায়ে ‘ওস্তাদের আশীর্বাদ’ নিয়ে স্টিয়ারিং হাতে তুলে নেন। এদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ হয় না। যাত্রীসহ এরা গাড়ি চালনার প্রাকটিস করেন। সে ক্ষেত্রে যাত্রীরা হন গাড়িচালনার হাতে-কলমে শিক্ষার অসহায় গিনিপিগ। বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক তাতে কোন সন্দেহ নেই। গাড়ির লাইসেন্সপ্রাপ্তি নিয়েও চলে নানান তুঘলকি কাণ্ড। গাড়িচালনার লাইসেন্সপ্রাপ্তিতে দুর্নীতির থাবা নতুন নয়। দেশে পরিবহন সেক্টরটি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিলাসিতার সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত। যেনতেন উপায়ে গাড়ি চালাতে পারলেই একটা চাকরি জোটানো খুব একটা অসম্ভব হয় না। সে কারণে গণপরিবহনের বাস-মিনিবাসে কর্মরত একজন কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রমোশন পেয়ে গাড়ির ওস্তাদ বা ড্রাইভার হয়ে বসেন। তাই দুর্ঘটনার পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গাড়িচালকেরই দায় থাকে।

ত্রুটিযুক্ত লক্কড়ঝক্কড় যান সড়কে প্রচুর দেখা যায়। ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকা গাড়ি রাস্তায় নামানোর প্রথম শর্ত। ফিট নয়, তবু গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা অসম্ভব ব্যাপার নয়। এখানেও রয়েছে দুর্নীতি। সড়কে নামানোর আগে গাড়ির চলন-উপযুক্ততা সম্পর্কে গাড়ির মালিক এবং চালক- উভয়েরই নিশ্চিত হওয়া অবশ্য কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কিন্তু ক’জন সেটা পালন করেন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে? যেহেতু একটি গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের প্রাণহরণের মতো ঘটনার জন্ম দিতে পারে তাই গাড়ি এবং গাড়িচালকের সুস্থতার গ্যারান্টি খুব জরুরী।

নিরাপদ সড়কের জন্য সবার আগে চাই গাড়ির ফিটনেস এবং গাড়িচালকের যোগ্যতা ও সুস্থতা নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা গড়ে তোলা। গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোরভাবে সজাগ থাকা ও সুনীতি বজায় রাখা আবশ্যক। দুর্ঘটনার জন্য দোষী ব্যক্তির শাস্তিদানের বিষয়টি কাগজে-কলমেই রয়েছে। বাস্তবে এর প্রয়োগ খুব বেশি একটা দেখা যায় না। ভিকটিম সুবিচার পান না অনেক সময় অপরাধী ও অপরাধ নির্মূূল সংস্থার মধ্যে সমঝোতার কারণে। আমরা আশা করব সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হলে প্রশাসনের ওপর কোন অন্যায্য চাপ প্রয়োগ করা হবে না; আদালত অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করলে ধর্মঘট আহ্বানের মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করা হবে না। সড়কে মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া চাই।

শীর্ষ সংবাদ:
সোনার বাংলা গড়তে ঐক্য চাই         আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রংপুরে মঙ্গা নেই         এসেছে শীতের শেষ মাস, সঙ্গে উৎসব         পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা চালাচ্ছেন         নাশকতার ছক ব্যর্থ, ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গা জঙ্গী গ্রেফতার         শাবি উপাচার্য ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ         নাসিক নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫০ শতাংশ ॥ ইসি সচিব         দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত একুশে বইমেলা         মাদারীপুরে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, ভাংচুর ॥ কুমিল্লায় চারজন জেলে         নাসিকে ভোট পড়েছে ৫০ শতাংশ : ইসি         আইভীই নাসিক মেয়র         নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের তাগিদ রাষ্ট্রপতির         একদিনে করোনায় মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৫ হাজার ছাড়াল         সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী         আমি সারাজীবন প্রতীকের পক্ষেই কাজ করেছি ॥ শামীম ওসমান         নাসিক নির্বাচনে ফলাফল যাই আসুক আ.লীগ তা মেনে নেবে         নির্দিষ্ট দিনে হচ্ছে না বইমেলা, পেছাল ২ সপ্তাহ         ফানুস-আতশবাজি বন্ধে হাইকোর্টে রিট         নৌকারই জয় হবে ॥ আইভী         ভোটাররা এবার পরিবর্তন চান ॥ তৈমূর