ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

স্কুলের টয়লেটে শিক্ষার্থীর শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ১৮ মে ২০২৪

স্কুলের টয়লেটে শিক্ষার্থীর শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন।

স্কুল ছুটি হয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো করে সবাই বাড়ি চলে গেছে। বিদ্যালয়ের দপ্তরিও শ্রেণিকক্ষ ও বাথরুমের দরজা বন্ধ করে চলে যায়। এর আগেই টয়লেট আটকা পড়ে প্রথম শ্রেণির ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থী। ৬ ঘণ্টা বাথরুমে আটকা থাকার পর সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৯নং পাঁচখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এই ঘটনা। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষার্থী রাফিন হোসেনকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় সদর হাসপাতালে।রাফিন একই এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে। শুক্রবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাসহ শহরেও ব্যাপক সমলোচনার ঝড় ওঠে।

একাধিক সূত্র জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সহপাঠীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের টয়লেটে যায় সে। শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা থাকার কারণে সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। ছুটির ঘণ্টা পড়লে শ্রেণিকক্ষে থাকা সবাই বাড়িতে চলে যায়। পরে বিদ্যালয়ের দপ্তরি খোকন খান শ্রেণিকক্ষ ও টয়টেলের দরজা তালাবদ্ধ করে চলে যায়। 

এতে টয়লেটের ভেতর আটকা পড়ে প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। পরে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে রাফিন। কিন্তু রাফিনের ডাক চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। 

শিক্ষার্থী দুপুরের পর বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পথচারী শিশুটির কান্নাকাটি শুনে কাছে ছুটে যায়। পরে টয়লেটের ভেতর শিশুটি আটকা পড়েছে বুঝতে পেরে তালা ভেঙে রাফিনকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৯নং পাঁচখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। এই ঘটনা কেউ ইচ্ছাকৃত করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদারীপুর জেলা শিশু একাডেমির কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনা ১৯৮০ সালের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র মতো হতে পারতো। বিষয়টি দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক। এই ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি কেউই এড়াতে পারে না। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলা হওয়া উচিত।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, কেন এমন ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একটি শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের সঙ্গে এমন ঘটনা কাম্য নয়।
 

এসআর

×