ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

পরিবারে দ্বন্দ্ব, হাসপাতালে সন্তান রেখে পালিয়ে গেলেন মা

সংবাদদাতা, দুমকি, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

পরিবারে দ্বন্দ্ব, হাসপাতালে সন্তান রেখে পালিয়ে গেলেন মা

ভূমিষ্ঠ সন্তান ও মা সানজিদা আক্তার পপি।

পটুয়াখালীর দুমকিতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মা সানজিদা আক্তার পপি (২২) নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: আব্দুর রবের ছেলে আলামিন ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: মোজাম্মেল চৌকিদারের মেয়ে সানজিদা আক্তার পপির সঙ্গে দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। এ নিয়ে থানা পুলিশে দেনদরবারও হয়েছে কয়েকবার। 

ভুক্তভোগী আলামিন বলেন,  বিবাহের পর থেকেই আমার শ্বাশুড়ি তার মেয়েকে নানান ধরনের কুবুদ্ধি দিয়ে আসছেন। এমন কী আমার সাথে বিবাহের আগে সানজিদা অন্য একটা ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল তা গোপন করে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। তাও আমি মেনে নিয়েও সংসার করার চেষ্টা করেছি। একপর্যায়ে সানজিদার পেটে বাচ্চা আসলে তার মা বাচ্চাকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করে কিন্তু আমার জন্য পারেনি। 

গত সোমবার সানজিদাকে দুমকি হসপিটালে নিয়ে ওষুধ খাওয়ায়ে বাচ্চা নষ্ট করতে চেয়েছে কিন্তু ডা. সানজিদাকে পটুয়াখালী সদর হসপিটাল রেফার করেন এবং নরমাল ডেলিভারিতে মঙ্গলবার দুপুরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেন। বাচ্চা জন্ম নেয়ার ৫ ঘণ্টারর মাথায় হসপিটাল থেকে আমার শ্বাশুড়ি আমার নবজাতক বাচ্চা ফেলে রেখে তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যান। আমার মনে হচ্ছে, আগে যে ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল তার সাথে হয়তো আবার বিয়ে দিবেন এজন্যই সন্তান রেখে পালিয়ে গেছেন। 

এ বিষয়ে সানজিদার বাবা মোজাম্মেল চৌকিদার বলেন, আমার মেয়ের সন্তান ডেলিভারির সঠিক সময় হয়নি। কিন্তু আলামিন আমার মেয়ের পেটের ৮ মাসের  বাচ্চা নষ্ট করতে দুমকি বাজারে বসে পেটের উপর লাথি কিল-ঘুষিসহ মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি আমার মেয়েকে হসপিটালে নিয়ে গেলে সেখানে ব্লিডিং শুরু হয় তখন আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং সাথে পটুয়াখালী সদর হসপিটালে নিয়ে গেলে নরমাল ডেলিভারিতে মেয়ে সন্তান জন্ম নেন। তবে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর পরিপূর্ণ বয়স না হওয়ায় অসুস্থ ছিল। 

তাই আমরা বাচার জন্য তাদের পরিবারের হাতে বাচ্চা বুঝিয়ে দিয়ে আমার মেয়ে নিয়ে চলে আসি। এর আগে আলামিন আমার মেয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন করেছেন যা থানাপুলিশসহ এলাকার গণ্যমান্য সবাই জানে। 

 

এসআর

×