ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ব্রহ্মপুত্রে লাখো পুণ্যার্থীর স্নান

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ২২:১৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

ব্রহ্মপুত্রে লাখো পুণ্যার্থীর স্নান

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নানে শত শত ভক্ত

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্নান ও  মেলা উপলক্ষে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে।  চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ব্রহ্মপুত্র নদে এ পূণ্যস্নান সম্পন্ন করেন। উপজেলার রমনা নদী বন্দর এলাকা  থেকে  জোড়গাছ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এবারের অষ্টমীর স্নান ও  মেলার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার  ভোর সাড়ে চারটা  থেকে পাঁচটা পর্যন্ত স্নানের উত্তম লগ্ন থাকলেও দিনব্যাপী স্নান ও  মেলা চলবে। 
ঐতিহ্যবাহী চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদে মহাষ্টমীর স্নান মেলা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০০ বছর থেকে  চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যতোয়া খ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদের স্নান পর্ব চলে আসছে। দেশের বিভিন্ন  জেলা  থেকে আগত পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য উপজেলার প্রায় ২২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পুণ্যার্থীদের স্নান পরবর্তী  পোশাক পরিবর্তনের জন্য এবং রাত্রী যাপনের জন্য ৪৪টি অস্থায়ী বুথ করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের পূজাপর্বের জন্য দুই শতাধিক ব্রাহ্মণ পূজারি দায়িত্ব পালন করেন। হিন্দু ধর্মমতে,  চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যতোয়া খ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে ভক্তের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায়। পাপমোচনের অভিপ্রায়ে তাই প্রতি বছর  জেলা ও  জেলার বাইরে থেকে লাখো হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করতে আসেন।

এবারের স্নানের তিথি  ভোর সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়ায় দূরের পুণ্যার্থীগণ একদিন পূর্বে চিলমারী আসেন। তাঁরা চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কেউ কেউ আবার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিছানা করে রাত্রী যাপন করেন। ব্রহ্মপুত্র নদে মহাষ্টমীর স্নান মেলা উদযাপন কমিটি ও পূজা কমিটির সদস্য শ্রী শ্যামল কুমার বর্মণ বলেন, অষ্টমীর স্নান সনাতন ধর্মালম্বীদের হলেও এখন এটি চিলমারী উপজেলাবাসীর ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এবারে শ্রী বিষু চন্দ্র বর্মণকে আহ্বায়ক করে ৫৬ সদস্যের স্নানাৎসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবারে প্রায় দুই লাখ পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র স্নানে এসেছেন এবং ২০০ জনের অধিক ব্রাহ্মণ ঠাকুর স্নানাৎসবে পূজা অর্চনা করেন বলেও তিনি জানান।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিনহাজুল ইসলাম বলেন, চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমীর স্নান উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে  লোকজন আসে। তাই আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ  থেকে চিলমারীর বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা  জোরদার করেছি। ব্রহ্মপুত্র তীরে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট,  ডুবুরি দল এবং পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে। কোথাও  কোনো অসুবিধা হয়নি।

গাইবান্ধা 
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের কয়েকটি ঘাটে অষ্টমী স্নানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল নেমেছে।  মঙ্গলবার ভোর থেকে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে পুণ্যার্থীরা এসব ঘাটে জড়ো হন।  হিন্দু পঞ্জিকামতে, চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাপমোচন ও পুণ্যলাভের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নানে অংশ নেন। সকাল সাতটা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জেলার সদর উপজেলার কামারজানি, সুন্দরগঞ্জের হরিপুর এবং ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ও তিস্তামুখ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গাইবান্ধাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ব্রহ্মপুত্রের জলে পুণ্যস্নান করছেন।

ঘিওর  
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে জানান,  মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা পুরাতন ধলেশ^রী নদীতে মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্টমী স্থান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পূজা উৎযাপন পরিষদের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীর স্থানে হাজার হাজার পূণ্যার্থী সকাল ৮টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত স্থান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুপুরে  ঘিওর ডি, এন হাই স্কুলমাঠ প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদেও সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন পূজা উৎযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক অজয় কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত শীল গোবিন্দ, ঘিওর সদর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল সাহা প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, বন্দরের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে মঙ্গলবার বিকেলে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী পুণ্য স্নানোৎসব। সোমবার বিকেল ৪টা-২০ মিনিটে স্নানোৎসব শুরু হয়ে শেষ হয় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্তই স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। স্নান উপলক্ষে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা গ্রহণ করেছিল জেলা পুলিশ। তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছিল ৫০-এর অধিক সিসি ক্যামেরা।

স্নানোৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশসহ দেড় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে মায়ের সঙ্গে স্নান করতে নেমে পানিতে ডুবে রাজদ্বীপ নামে ৯ বছরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সরোজ সাহা মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জানান, গত দুদিনের স্নানোৎসবে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ছাড়া আর কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই স্নানোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।

×