ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

মসিক নির্বাচন

তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ স্মার্ট মেয়র

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ০০:০৩, ৪ মার্চ ২০২৪

তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ স্মার্ট মেয়র

মসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সাদেকুল হক ও শহীদুল ইসলাম রবিবার গণসংযোগ করেন

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার নতুন প্রজন্মের তরুণ স্মার্ট ভোটারদের কাছে প্রথম পছন্দের স্মার্ট মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন ইকরামুল হক টিটু। ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ইকরামুল হক টিটু গত ২০১০ সাল থেকে ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নগরবাসী ও নগরীর সবকিছুই তার নখ দর্পণে।

নগরীর সম্প্রসারিত ১২টি ও সাবেক ২১টিসহ ৩৩টি ওয়ার্ডেই রয়েছে তার অবাধ বিচরণ ও নিবিড় যোগাযোগ। ময়মনসিংহ মহনগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক একাধিকবারের মেয়র হিসেবে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক ছাড়াও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে ইকরামুল হক টিটুর রয়েছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। ময়মনসিংহ নগরীর সেন বাড়ি রোডের ব্যবসায়ী আবু এহসান রূপম জানান নগরীর নানা শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি ইকরামুল হক টিটুর সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তাকে এই গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।

সদা হাস্যোজ্জ্বল সাবেক সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ও নগরবাসীর পাশে থেকে নানাভাবে সহায়তা দিয়ে আপনজন হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন। নিজে আক্রান্ত হয়েও নগরবাসীকে আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। নগরীর গরিব-দুখী শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারের শিশুদের খতনা, জন্মদিন ও বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সবার দাওয়াত কবুল করে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করায় ইকরামুল হক টিটুর গ্রহণযোগ্যতাকে আরও মজবুত করে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

করোনাকালীন নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিটি কর্তৃপক্ষ ও সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর কার্যকর ও দৃশ্যমান নানামুখী উদ্যোগ, তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মৌসুমি জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও মশক নিধনে সিটি কর্তৃপক্ষ ও সিটির সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর প্রচেষ্টাও নগরবাসীর নজর এড়ায়নি। জলাবদ্ধতা সমস্যা দেখা দিলে তিনি নিজে সরেজমিন গিয়ে সমাধানে মাঠে নেমেছেন। গত বর্ষায় নগরীর বলাশপুরে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তাকে হাঁটু পানিতে নেমে দিনভর সমস্যার তদারকি করতে দেখা গেছে।

যানজট সমস্যার সমাধান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ নগরবাসীর প্রত্যাশিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে শতভাগ সুফল না মিললেও চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু। যদিও সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে একশ্রেণির ঠিকাদারের গাফিলতি, সিএনজি অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সায় চাঁদাবাজি সাবেক সিটি মেয়রের নানা অর্জনকে ম্লান ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব কর্মকা-ের কারণে সাবেক মেয়রের ক্লিন ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধা করেছে বলে মনে করেন অনেকে।

এ নিয়ে রিক্সা ও ইজিবাইক চালক শ্রেণির শ্রমজীবী গোষ্ঠী সিটি কর্তৃপক্ষের প্রতি চরম নাখোশ। নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারপরও নানা শ্রেণি পেশার ভোটারসহ নতুন প্রজন্মের তরুণ স্মার্ট ভোটারদের কাছে পছন্দের শীর্ষে আছেন স্মার্ট মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু। টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু জানান আধুনিক ও স্মার্ট সিটি নির্মাণে তার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। আগামী নির্বাচনে নগরবাসী নিশ্চয়ই তার কর্মকা-ের মূল্যায়ন করবেন।

তিনি বলেন এবারের নির্বাচনে মেয়র হিসেবে বিজয়ী হলে ময়মনসিংহ নগরীকে উন্নত সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। এ জন্য তিনি আবরও সবার সহযোগিতা ও সমর্থন চান।
এদিকে সিটি কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ও পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে মাঠে নামা হাতি প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ময়মনসিংহ সিটি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক খান মিল্কি টজু ও ঘোড়া প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলমসহ আরও আরও দুই প্রার্থী মেয়র হওয়ার দৌড়ে মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। নগরীর উন্নয়নে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা  প্রতিশ্রুতি।

তবে ইকরামুল হক টিটু ছাড়া অপর চার মেয়র প্রার্থী মাঠে নেমেছেন তফসিল ঘোষণার পর। ফলে মেয়র হওয়ার দৌড়ের প্রতিযোগিতা তারা খানিকটা পেছনে পড়েছেন। মেয়র প্রার্থী হিসেবে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে তাদের ইশতিহার ও বার্তা পৌঁছাতে যতটুকু সময় প্রয়োজন সেটি সম্ভব হয়নি অপর চার প্রার্থীর ক্ষেত্রে। যদিও এই ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক মিল্কি টজু। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ সমর্থন দিচ্ছেন টজুকে। সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে মাঠে নেমে কিছুটা সাড়া ফেলতেও সক্ষম হয়েছেন টজু। পরিবর্তনের স্লোগানের পালে জোরালো হাওয়া তুলতে পারলে চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন ইকরামুল হক টিটু।

গত সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে মেয়র প্রার্থী টজুর  ক্ষেত্রে। কারণ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ ৪ সদর আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ট্রাক-প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সহোদর বড় ভাই আমিনুল হক শামীম। এই নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন মোহিত উর রহমান শান্ত।

ফলে শান্ত ও টিটু পরিবারের পুরনো বিরোধ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহ ৪ সদর আসনের নৌকা প্রতীকের সংসদ সদস্যের আশীর্বাদ হতে পারে মেয়র প্রার্থীর জন্য ভোট ফ্যাক্টর। গুঞ্জন উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটুর বিপরীতে এ্যাডভোকেট সাদেকুল হক মিল্কি টজু অথবা এহতেশামুল আলমের কাউকে তলে তলে সমর্থন দিতে পারেন।

যদিও এখন পর্যন্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য  মোহিত উর রহমান শান্ত প্রকাশ্য কাউকে সমর্থন দেননি। তবে নগরবাসী মনে করছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মৌন কিংবা প্রকাশ্য সমর্থন সিটির মেয়র নির্বাচনে নিশ্চিত প্রভাব ফেলবে। এমনটি হলে মেয়র পদে ইকরামুল হক টিটুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক মিল্কি টজুর সঙ্গে। 
টিটুর ইশতেহার ঘোষণা ॥ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। তার এই নির্বাচনী ইশতেহারে নগরীর যানজট সমস্যা কে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সমাধানে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে একাধিক ফ্লাইওভার ও ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 ইশতেহারে ২৩টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের সেবা সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু।

×