ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

পবিত্র গ্রন্থের সেই পাখি

সুদর্শন পাখির নিরাপদ বসত

আবদুল্লাহ আল নোমান

প্রকাশিত: ০১:৪৫, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

সুদর্শন পাখির নিরাপদ বসত

পবিত্র গ্রন্থের সেই পাখি

হজরত মুহম্মদ (স:) জন্মগ্রহণের পঞ্চাশ বা পঞ্চান্ন দিন পূর্বে আবাবিল পাখির আগমন ঘটে পৃথিবীতে। পবিত্র আল কুরআনে এই পাখির কথা বলা হয়েছে। এবার এই পাখিটির দেখা মিলেছে সৈয়দপুর তামান্না সিনেমা হলে। এতে সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা ঐতিহাসিক এই পাখি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। 
সৈয়দপুর তামান্ন সিনেমা হলের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে বড় বড় ভেন্টিলেটর। ২০০১ সালে দলবদ্ধভাবে বিচরণ করা এ পাখি বাসা তৈরির উপকরণ নিয়মিত সংগ্রহ করে বাসা বাধে। ঘাস, লতাপাতা, মাকড়সার জাল, হাঁস-মুরগির পালক এবং নিজেদের মল ও মুখের লালা দিয়ে খুবই শক্তভাবে প্রায় শতাধিক বাসা তৈরি করেছে। আর সেখানেই নির্বিঘেœ এরা বসবাস করছে। প্রজননের মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটায়। এভাবে বাড়তে থাকে এর সংখ্যা। এভাবে বর্তমানে ৫ শতাধিক আবাবিল পাখি সিনেমা হলের ভেন্টিলেটরে বসবাস করছে। 
সিনেমা হলটির অপারেটর নাজির হোসেন জানান, অতি ভোরে দলবদ্ধভাবে বের হয়। আবার আছরের সময় ফিরে। তবে বাসায় প্রবেশের আগে দশ মিনিট দ্রুত গতিতে ঘুরপাক করে। এরপরে প্রবেশ করে নিজের বানানো বাসায়। এর নিরাপত্তায় ওই সময় সকল ফ্যান বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি বিড়াল ও দর্শনার্থীরা যাতে ক্ষতি করতে না পারে এর জন্য সর্বদা নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুতগামীর এই পাখিটি এ জনপদের ঊর্ধ্বাকাশে জঙ্গি বিমানের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রতিদিনই বিকালে কিংবা বৃষ্টি দিনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। আকাশে বিশেষ খেলায় মত্ত থাকা আবাবিল প্রায় ১০ ঘণ্টা শূন্যে কাটায়। মেঘের গর্জনে নেচে গান গেয়ে সদা আনন্দে কাটায়। গোসল করে বৃষ্টির পানিতে আকাশে উড়ে। এমন কি শূন্যে ওড়া বিটল ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা খেয়ে করে জীবনধারণ। তাই অদ্ভুত এদের জীবনাচরণ।
তার গলা ও কোমরের কাছটা সাদা। মাথা-পিঠ-ঘাড়-গলা ও ডানার উপরিভাগ কালো বা কালচে বাদামি। ইংরেজি নাম হাউস সুইফট। বৈজ্ঞানিক নাম ধঢ়ঁং হরঢ়ধষবহংরং। তবে এ পাখি হচ্ছে মুসলমানের কাছে পবিত্র। আবাবিল   হলো ইসলাম ধর্মের মূলগ্রন্থ কুরআনের সুরা ফিলে বর্ণিত এক অলৌকিক পাখি, যা কাবা ধ্বংস করতে আসা আকসুম রাজ্যের রাজা আবরাহার হস্তিবাহিনীকে ক্ষুদ্র কঙ্করাঘাতে ধ্বংস করেছিল। পবিত্র কুরআনে পাখিটি বোঝাতে ‘তইরন আবাবিল’ শব্দগুচ্ছটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং বাংলায় শব্দগুচ্ছটি অনুবাদ করা হয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি হিসেবে।
আবাবিল সাধারণত, হাইরানডিনিডি (ঐরৎঁহফরহরফধব) গোত্রের। তবে পারিডি, হাইরানডুগণের পাখিদেরও আবাবিল বলা হয়। হাইরানডিনিডি গোত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এদের লম্বা ও সরু পাখা এবং দ্বিধাবিভক্ত পা। এরা পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। দলবদ্ধভাবে সীমাহীন আকাশে ঘুরপাক দেয়। আবাবিল ৮৯টি প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে ১০ প্রজাতির বিচরণ করছে। নাকুটি, বাদামি-গলা মার্টিন, লালকোমর, দাগিগলা, মেঠো আবাবিল, তারলেজা, দাগি, ঘরনাকুটি, নেপালি ও ঘরনাকুটি আবাবিল পাখি। এই পাখিগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও দেখা যায়।

তবে সেখানে তারলেজা আবাবিল বেশি। এ পাখিকে নিয়ে সমাজে অনেক রূপকথা রয়েছে। ঘোড়াদৌড়ের রেফারি বলে প্রাচীন রোমের ঐতিহাসিক প্লেইনি দ্য এল্ডার লিখেছেন। আবার জিন ডেসবাউভ্রি নামক জীববিজ্ঞানী আবাবিলকে বার্তাবাহক পাখি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি এ পাখি উড়োজাহাজ নির্মাণে অনেক দেশে মডেল হিসেবে ব্যবহৃত করেছেন। যার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুটি যুদ্ধবিমানের নামও আবাবিল রাখা হয়। এছাড়া নাবিকদের পথ দেখানো পাখি হিসাবে এর খ্যাতি রয়েছে।
আবুল হোসেন নামে এক সিনেমাপ্রেমী দর্শক জানান, এই পাখিটি দেখে আশ্চর্য হয়েছি। তাকে উড়ন্ত অবস্থায় দেখা যায় না। তবে দ্রুত গতির বিচরণ ভালোই লাগছে। আর ঐতিহাসিক হওয়ায় এই পাখির দেখার ভিন্ন আবেগ কাজ করছে। একই মতামত প্রকাশ করেন সিনেমা দেখতে আসা অনেক দর্শক। সকলের দাবি এর অভয়ারণ্য দরকার। যাতে নির্বিঘেœ বংশ বিস্তার করতে পারে। ঐতিহাসিক আবাবিল পাখিটির সার্বিক নিরাপত্তা যত্নে বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন সিনেমা হল মালিক মাহবুবার আলম ঝন্টু। তিনি বলেন, এই পাখির বিষয়ে ধারণা থাকায় তাদের স্থায়ী আবাস ভূমির কথা ভাবেন। আর এটি বাস্তবায়নে পরিবেশবিদদের সহায়তা কামনা করেন এ হল মালিক। 
এম আর মহসিন, সৈয়দপুর, নীলফামারী

অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্য
রাণীশংকৈল উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রামরায় দীঘি। শীত এলেই অতিথি পাখি এসে এ এলাকার প্রকৃতিকে সাজায় নতুন সাজে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির সমাগম হয়েছে। পুরো দীঘির জলাশয় সেজেছে নতুন সাজে। পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত পুরো এলাকা। পাখিদের মুহুর্মুহু কলতানে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে পাখির স্বর্গরাজ্যে। শীত মৌসুমে এ দেশের নদ-নদী, হাওড়-বাঁওড়ের ভালোবাসার টানে লাখো হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রামরায় দীঘিতে আসে এসব পাখি।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাখি ও জলাশয়ের প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে প্রতিনিয়ত। রামরায় দীঘিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে থাকছে অতিথি পাখির দল। সন্ধ্যা নামলেই দীঘিপাড়ের লিচু বাগানে আশ্রয় নেয় এসব পাখি। শফিকুল ইসলাম শিল্পী নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রামরায় দীঘিতে প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে অতিথি পাখি আশা শুরু হয়। যা শীতের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করে। এ পাখি অনেক দূর থেকে আসে আমরা শুনেছি। এ পাখিগুলো যখন আসে দর্শনার্থীদের আসার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ সময়ে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য দেখতে।

পাখিগুলো সকালে একবার দীঘিতে আসে কিছু সময় অবস্থান করার পরে আবার বিভিন্ন বিলে চলে যায়। পরে বিকেলে আবারও আসে যা সন্ধ্যা পর পর্যন্ত থাকে। অন্ধকার হলেই তাদের বাসস্থান লোকালয়ে পুনরায় ফিরে যায়। আশামনি নামের একজন দর্শনার্থী জানান, রামরায় দীঘিটি এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগের থেকে এখন অনেক সুন্দর হয়েছে। রামরায় দীঘিতে অতিথি পাখি এসেছে শুনে দেখতে এসে বেশ ভালো লাগল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, শুনেছি রামরায় দীঘিতে অতিথি পাখি এসেছে। এ পাখি যেন কেউ নিধন করতে না পারে এ বিষয়ে সবধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আবদুল্লাহ আল নোমান, 
রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও

×