ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত রুহুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ৩০ মার্চ ২০২৩

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত রুহুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

শোকের মাতম

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রুহুলের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে চলছে শোকের মাতম। বাবার ৭ সন্তানের মধ্যে ছোট সন্তান রুহুল আমিন রনি (৩৫)। মাদারীপুরে থাকা অবস্থায় অটোবাইক চালিয়ে সংসারের খরচ জোগার করতেন। ৭ মাস আগে ধারদেনা করে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান। সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। একটু একটু করে দেনা পরিশোধ করছিলেন। এরই মধ্যে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় ওমরাহ পালন করতে যাবার সময় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের আকাবাশার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন রনি মারা যান। এই ঘটনার খবর পাবার পর থেকেই মাদারীপুরের নিজ বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধা মাকে কোনভাবেই শান্তনা দিতে পারছেন না আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুহুল আমিনের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্ত্রী আসমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা। ৭ বছরের তাগিব ও ৪ বছরের তাসপ্রিয়া জানে না তাদের বাবা আর কোনদিনও ফিরবে না। পাড়াপ্রতিবেশিও মুর্ছা যাচ্ছে বারবার। ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনের আশায় ৭মাস আগে ৪ লাখ টাকা সুদে দেনা করে সৌদি আরবে যান দিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ইছাহাক মাতুব্বরের ছেলে রুহুল আমিন। সেখানে গিয়ে আবা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন। আয়ের পাঠানো টাকায় চলতো সংসার। সোমবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে বাস দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। বুধবার রাতে মোবাইলে মৃত্যুর খবর আসে পরিবারের কাছে। এ খবর যেন পরিবারের মাথার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। 

নিহত রুহুল আমিনের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, ‘৪ লাখ টাকা দেনা। এই দেনা কিভাবে শোধ করবো। পরিবারে আয় করা মানুষটির এই অবস্থা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’ রুহুল আমিনের বড়ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাত ভাইবোনের মধ্যে রুহুল ছিল সবার ছোট। আমাদের পরিবারের সবাই দিনমজুর। কেউ ভ্যান চালায়, কেউ শ্রম বিক্রি করে আয় করে। রুহুলের এই মৃত্যুতে আমরা সবাই অসহায় হয়ে পড়েছি।’ 

নিহতের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের লাশটা দ্রুত দেশে ফেরত আনতে সরকারের সহযোগিতা চাই। আদরের ছোটছেলে এভাবে মারা যাবে বুঝে উঠতে পারিনি। তাহলে রুহুলকে বিদেশে পাঠাইতাম না।’ 
মাদারীপুরের কুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য হুমায়ুন কাজী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অসহায় পরিবারকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। ঋনের টাকা পরিশোধেও পাশে থাকবে ইউনিয়ন পরিষদ।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিন বলেন, ‘রুহুল আমিনের মরদেহ দেশে দ্রুত ফেরত আনতে দুতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া সৌদি আরবের কর্মস্থলে যোগাযোগ করে অসহায় পরিবারটি আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। আর উপজেলা পরিষদ ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমেও ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করবে প্রশাসন।’

 প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকেলে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের আকাবাশার এলাকায় ঘটে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা। এতে মারা যায় ১৮ বাংলাদেশীসহ ২২ জন। আর আহতদের ভর্তি করা হয় বিভিন্ন হাসপাতালে।

টিএস

×