ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

বাগেরহাটে ‘গণহত্যা, বধ্যভূমি ও গণকবর’ বইয়ের পাঠ উন্মোচন

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ২৫ মার্চ ২০২৩

বাগেরহাটে ‘গণহত্যা, বধ্যভূমি ও গণকবর’ বইয়ের পাঠ উন্মোচন

গণহত্যা, বধ্যভূমি ও গণকবর বইয়ের পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠান। 

বাগেরহাটে গণহত্যা, বধ্যভূমি ও গণকবর বইয়ের পাঠ উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক গবেষক দিব্যেন্দু দ্বীপের লেখা বইটির পাঠ উন্মোচন করা হয়।

বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারমেন বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু’র সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠষপোকতায় প্রকাশিত ১৫৯ পৃষ্ঠার বইটিতে ১৯৭১সা লে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটে সংগঠিত বিভিন্ন গণহত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত উঠে এসেছে। 

এছাড়া বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার রয়েছে। বইটি পড়লে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাগেরহাটে যেসব গণহত্যা হয়েছে তার সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন লেখক দিব্যেন্দু দ্বীপ।

১৯৭১-এর ৯ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে লেখক দিব্যেন্দু দ্বীপ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গণহত্যা হয়েছে সেটা স্পষ্টই মানবতা বিরোধী অপরাধ। কিন্তু নানা কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত গণহত্যার বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্ম সঠিকভাবে জানে না। 

তিনি বলেন, এই বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত গণহত্যার বর্বরতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। আশাকরি বইটি পড়ে নতুন প্রজন্ম গণহত্যার সঠিক ইতিহাস জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ৭১ সালে পাক হানাদার ও তাদের দোসরেরা বাগেরহাট জেলায় প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে আমরা গবেষণার কাজ চলছে, আমরা গবেষণা করছি।

বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, মর্যাদাসম্পন্ন উন্নত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। তাই আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত থাকুক। সকলে মুক্তিযুদ্ধের বিষয় জানুক। এজন্য  গণহত্যা, বধ্যভূমি ও গণকবর বাগেরহাট জেলার এই বইটিতে আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করেছি। বইটি পাঠকপ্রিয়তা পাবে বলে  আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা ৭১ সালে পাকহানাদার ও তাদের দোসরদের বর্বরতার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা যে কোন মূল্যে পৈশাচিক এ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি করেন।

বইয়ের পাঠ উন্মোচনে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারমেন বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু। বাগেরহাট শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির আহব্বায়ক শহীদ সন্তান গোলাম কিবরিয়া নিপু। বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিহার রঞ্জন সাহা, সম্পাদক বাকি তালুকদার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সম্পাদক আহাদ হায়দার, শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের সভাপতি শেখ আজমাল হোসেন, শহীদ পরিবারের সদস্য ফজর শেখসহ অন্যানরা।

এমএম

×