ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

হঠাৎ নৌযান শ্রমিক ধর্মঘট, দুর্ভোগে লঞ্চ যাত্রীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁদপুর

প্রকাশিত: ১৫:০৭, ২৭ নভেম্বর ২০২২; আপডেট: ১৮:৩৭, ২৭ নভেম্বর ২০২২

হঠাৎ নৌযান শ্রমিক ধর্মঘট, দুর্ভোগে লঞ্চ যাত্রীরা

ঘাটে নেই কোনো লঞ্চ। ছবি: জনকণ্ঠ

নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে হঠাৎ দেওয়া ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়েছেন চাঁদপুরের লঞ্চ যাত্রীরা। স্থানীয়ভাবে কোনো ধরণের পূর্ব ঘোষণা না দেওয়া কিংবা সংগঠনের পক্ষ থেকে মাইকিং না করায় যাত্রীরা ঘাটে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রবিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে চাঁদপুর-ঢাকাসহ সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, শনিবার (২৬ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টার পর পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে সিডিউলের সবগুলো লঞ্চ ছেড়ে গেছে। সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যে সুরাহা হলে আবার লঞ্চ চলাচল শুরু করবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে কোনো লঞ্চ নাই। পুরো লঞ্চঘাট ফাঁকা। যাত্রীবহনকারী কিছু অটোরিকশা ঘাটে অবস্থান করতে দেখা যায়। যেসব যাত্রী শ্রকিক ধর্মঘটের বিষয়ে জানেন না, তারা এসে ঘাটে উপস্থিত হচ্ছেন।

লঞ্চ শ্রমিক আলমগীর হোসেন জানান, আমাদের যে দাবি-দাওয়া ছিল, ২০২২ সাল চলে যাচ্ছে কিন্তু মালিকপক্ষ ও শ্রম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

ফরিদগঞ্জ থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে আসা যাত্রী ফিরোজা বেগম জানান, লঞ্চ ধর্মঘটের বিষয়ে জানি না। যে কারণে বাড়ি থেকে ৩০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে এসেছি। সড়ক পথে এখন সন্তানদের নিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়।

শহরের ট্রাক রোড এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম তার ছেলেকে নিয়ে যাবেন ঢাকা। দুপুরের লঞ্চে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটে এসে দেখেন কোন লঞ্চঘাটে নেই। অপেক্ষা করে চলে যান। তিনিও জানতেন না লঞ্চ ধর্মঘটের কথা।

সদরের ইচলী থেকে আসা যাত্রী ইব্রাহীম ও রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বার বার লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, তার দায়ভারও যাত্রীদের নিতে হয়েছে। এখন লঞ্চ শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। তার দায়ভার কি আমাদের নিতে হবে! আমরা দূর-দূরান্ত থেকে লঞ্চঘাটে এসেছি। এসে দেখি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। আমরা যে দুর্ভোগে পড়েছি তার দায়ভার নিবে কে? আশা করি সরকারের হস্তক্ষেপে মালিক তাদের দাবি দাওয়া পুরন করে দ্রুত লঞ্চ চলাচল শুরু করবে। 

 

এমএইচ

সম্পর্কিত বিষয়:

monarchmart
monarchmart