ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

হবিগঞ্জে দাবি আদায়ে অনড় শ্রমিকরা, নষ্ট হচ্ছে চা পাতা

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ২০ আগস্ট ২০২২; আপডেট: ১২:০২, ২০ আগস্ট ২০২২

হবিগঞ্জে দাবি আদায়ে অনড় শ্রমিকরা, নষ্ট হচ্ছে চা পাতা

চান্দপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে আন্দোলনরত শ্রমিকরা

হবিগঞ্জে দাবি আদায়ে চা শ্রমিকরা অনড় রয়েছেন। শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে বাগানে বাগানে নষ্ট হচ্ছে চা পাতা। উৎপাদন বন্ধ থাকায় বাগান মালিকরা বেকায়দায় পড়েছেন। এ অবস্থায় বাইরে থেকে শ্রমিক দিয়ে পাতা উত্তোলন করারও অবস্থা নেই। 

শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরীর শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সভা করার কথা রয়েছে। এ সভায় কেন্দ্রীয় নেতারাসহ বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত প্রধান ও শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করবেন। 

সভায় শ্রমিকদের দাবি আদায়ে গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার পূর্ণদিবস ধর্মঘটের ৮ম দিন ও দৈনিক ২ ঘণ্টা কর্মবিরতিসহ ১২তম দিনেও শ্রমিকরা বাগানে বাগানে ধর্মঘট পালন করে। এভাবে চলায় উত্তোলনকৃত চা পাতাগুলো ফ্যাক্টরিতে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে গাছের চা পাতাগুলো বড় হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। তবে শ্রমিকরা এবার তাদের দাবি আদায়ে অনড় রয়েছেন। 

দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে বলে জানালেন জেলার চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগানের বাসিন্দা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল।  

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, এ অবস্থায় শ্রমিকদের ঘরে খাবার নেই, ভয়াবহ কষ্টে কাটছে দিন। সব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়েই মজুরি বাড়ানোর দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে চা শ্রমিকরা। মজুরির বাইরে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কাগজে থাকলেও অধিকাংশই বাস্তবে নেই বলে দাবি তাদের। 

অপরদিকে মালিকপক্ষ বলছে, গত ১০ বছরে চায়ের দাম না বাড়লেও শ্রমিক মজুরি বাড়ানো হয়েছে ৭৪ শতাংশ। ১৪ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে তারা বলেন, গত মেয়াদের তুলনায় তা ১১ শতাংশের বেশি। এ অবস্থায় সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শ্রমিকরা।

জানা গেছে, ৩০০ টাকা মজুরি আদায়ে ৯ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের ১০ জন শ্রমিক নেতার সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিভাগীয় শ্রম দফতরের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসলেও আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। তাই শনিবার (১৩ আগস্ট) থেকে টানা ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিকরা। 

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে শ্রীমঙ্গলে আসেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী। তিনি ধর্মঘট স্থগিত করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে চা শ্রমিক ইউনিয়ন তা প্রত্যাখান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। 

একইভাবে বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে চা-বাগান মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরীর এই বৈঠক হয়। সন্ধ্যায় ৬টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় রাত ১১টায়। চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে প্রায় ৫ ঘণ্টার মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেতারা বৈঠক করে দাবি আদায়ে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার ৭০৩.২৪ হেক্টর জমিতে ২৫টি ফ্যাক্টরিযুক্ত চা বাগান রয়েছে। এছাড়া ফাঁড়িসহ প্রায় ৪১টি বাগানের প্রায় প্রতি হেক্টর জমিতে ২২-২৫ শ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়।

এসআর