ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

মহাসড়কের বেহাল দশা

রৌমারীতে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে সন্তান প্রসব 

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭:০৯, ৮ আগস্ট ২০২২

রৌমারীতে ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কে সন্তান প্রসব 

ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়ক

খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক। সামান্য বৃষ্টি হলে হাটু পানি কিংবা কাদায় পরিণত হয় সড়কটি। যান চলাচলে অনুপযোগী দীর্ঘদিন ধরে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পরিবহন যাত্রী ও পথচারীদের। এতে প্রায়ই ঘটছে নানা দূর্ঘটনা। 

খানখন্দময় কাদাময় রাস্তায় অটোর ঝাকুনিতে রাস্তায় এক প্রসুতি কন্যা সন্তান প্রসব করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রৌমারী উপজেলা শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে । প্রসূতি শেফালী ফরিজল হকের স্ত্রী। তাঁর বাড়ি রৌমারী সদর ইউনিয়নের রৌমারী উত্তরপাড়া গ্রামে।

শেফালী খাতুনের শ্বশুর আজিমুদ্দিন জানান রবিবার রাত ১টার দিকে তার পুত্রবধু শেফালী খাত নের প্রসব ব্যাথা উঠে। তাকে দ্রত দ্রত অটোতে করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। 

ঐ রাতে হচ্ছিল মুসুল ধারে বৃষ্টি। রৌমারী উপজেলার ইসলামী ব্যাংকের সামনে খানাখন্দে ভরা কাদাময় রাস্তায় অটো আটকে যায় এবং এর প্রচন্ড ঝাকুনিতে এক সময় সেখানেই এক কন্যা সন্তান প্রসব করে। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কারো নজর নেই। সড়কটি ভালো থাকলে আজ আমার নাতির জন্ম সড়কে হতো না। 

রৌমারী উপজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম মিয়া বলেন, ২০১৮সালে সাড়ে ৩১কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য সরকার ৩৩২কোটি ১০লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও জনগণ এখনো এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। 

দূর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ গেইট থেকে থানা মোড় পর্যন্ত এই সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। বেহাল এ সড়কে গাড়ি চলাতো দূরের কথা, পায়ে হেটে চলাই মুশকিল। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে একাধিকবার আনলেও কোনো ফল নেই। 

সড়কটির পাশে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা আর পানিতে তলিয়ে যায়। আবার বৃষ্টি না হলে ধুলাবালিতে ভরে যায় পুরো শহর। অটোভ্যান চালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘এ রাস্তায়  গাড়ি চালালেই প্রত্যেক দিন গাড়ি নষ্ট হয়। দিনে যা আয় হয়, গাড়ি মেরামতেই শেষ হয়ে যায়। 

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, রাস্তার মাঝে সন্তান প্রসবের বিষয়টি জেনেছি। এতে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে জানানো হয়েছে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলীকেও অনেকবার বলা হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, মাটি না পাওয়ার কারনে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের (আগষ্ট) ১৫ তারিখ থেকে কাজ শুরু করবেন।