মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ জুলাই ২০১৭, ৯ শ্রাবণ ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ইসিবিরোধী বক্তব্য আত্মঘাতী হবে

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৭
  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

আমাদের জাতীয় সংসদের একজন সাবেক স্পীকার শেখ রাজ্জাক আলী একটি মন্তব্য করেছিলেন- ‘আদালতের হাত অনেক লম্বা জানি তবে এতটা লম্বা নয় যে সংসদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।’ সাম্প্রতিক ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং সংসদে এর আলোচনা শুনে শেখ রাজ্জাক আলীর মন্তব্যটি মনে পড়ে গেল। অবশ্য এটি আমার আজকের লেখার বিষয় নয়, আর এ নিয়ে লেখার ঝুঁকিও কম নয়। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত পার্লামেন্ট এবং সেই পার্লামেন্টে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত আদালত, অনেক উপরের ব্যাপার, উপরই সামলাবেন। আজকের লেখার বিষয় হলো সামনে পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে নির্বাচিত পার্লামেন্ট আবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে বা যিনি আছেন তাকেই রাখবে- এই পুরো প্রক্রিয়াই পরিচালিত হবে সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সিডিউল অনুযায়ী ২০১৮-র শেষে অথবা ২০১৯-র প্রথমদিকে হবার কথা। হতেই হবে, নইলে সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দেবে।

প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল বা স্টেক-হোল্ডাররা এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোট এবং সংসদের বাইরের প্রধান দল ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট (যাতে জামায়াত-শিবিরের মতো রাজাকারও রয়েছে) এরই মধ্যে মোটামুটি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। কাদা ছোড়াছুড়িও কম হচ্ছে না। তবে ক্ষমতাসীন দল ডিফেন্সিভ খেলছেন এই অর্থে যে তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছেন।

নির্বাচন রাষ্ট্রাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। সে যে স্তরেরই হোক! হোক না ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা স্থানীয় সরকারের যে কোন নির্বাচন, সবই সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও জাতীয় সংসদ কিংবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, একেবারে আলাদা। এ দুটির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক বেশি এ জন্য যে, এ নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয়। কখনও কখনও পুনঃনির্বাচিত হয়। তাও সরকার পরিবর্তনেরই আরেক রূপ। সংসদ নির্বাচন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর বিপক্ষে দাঁড়ানো বা বাধা দেবার প্রবণতা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। অথচ কিছু রাজনৈতিক দল এর গুরুত্বের গভীরতা বুঝতে অক্ষম। প্রতিনিয়ত এই নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। ‘এটি করতে হবে, না করলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’। এমন একটি দিনও নেই যেদিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপির মহাসচিব) কিংবা রুহুল কবির রিজভী (বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব) নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন না। দলের স্থায়ী নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও তাল মেলাতে মাঝে মধ্যে নেমে পড়েন। আর তাদের জবাব দিতে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকেও (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) কথা বলতে হচ্ছে। নইলে একতরফা বক্তব্যে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। বিভ্রান্ত হচ্ছে কিনা জানি না তবে মানুষ যে বিব্রত হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। বস্তুত বিএনপি ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে দূরে থেকে সেই যে গর্তে পড়েছে, আজও হাবুডুবু খাচ্ছে। তাই ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বারবার আবোলতাবোল বকছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া। নির্বাচন বর্জন করার প্রশ্নে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল সবার আগে। তার পেছনে ছিল জামায়াত-শিবির-রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীরা। তারা তাকে বুঝিয়েছে ম্যাডাম, কুচ পরোয়া নেই, পেট্রোলবোমা মেরে, রাস্তা কেটে, গাছ কেটে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করব যে, ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন ও ক্ষমতা থেকে পালাবার পথ পাবে না। তবে এখন খালেদা জিয়া নিজেই পালাবার পথ পাচ্ছেন না। গর্তে পা যে আটকে আছে!

১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় আছে আরও বছরাধিকাল। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ২০১৮ শেষদিকে কিংবা ১৯-এর প্রথম দিকে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন সব দলের সঙ্গে সংলাপ শুরুরও চিন্তাভাবনা করছে। বিএনপির জন্যে এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ, সংলাপে বসে হারানো রাজনীতি কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করতে পারবে। কিন্তু এখানেও সেই পথের কাঁটা জামায়াত-শিবিরজাতীয় কিছু জোটভুক্ত দল, যাদের নিবন্ধন নেই।

২০১৪ সালের নির্বাচনে এই কাঁটার জন্যেই খালেদা জিয়া নির্বাচনের পথে হাঁটতে পারেনি। রাজনীতির যে ট্রেন ২০১৪ সালে হারিয়েছেন তাকে আর ধরা যাবে না, পরের ট্রেনটা ধরার একটা সুযোগ দ্বারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ট্রেনও যদি মিস করেন তবে রাজনীতির অঙ্গন থেকে তিনি এবং তার দল হারিয়ে যাবে মুসলিম লীগের মতো।

যে ভুল তারা করেছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সে ভুল আর করবে বলে মনে হয় না। যদিও তারা জানে ও বিশ্বাস করে যত চেষ্টাই করুক এটা ২০১৮ কিংবা ২০১৯ সাল। এটি ১৯৭৯ সালের কারফিউর নির্বাচন নয়, নয় ২০০১ সালের মতো এক কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোটের নির্বাচন। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা তিন মেয়াদে প্রায় ১৪ বছরে যেভাবে বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির গং-এর বিচার করে জাতীয় পাপ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দেশকে আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে ঈর্ষণীয় উচ্চতায় তুলে এনেছেন এবং একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রনেতা হিসেবেও বাংলার মানুষ তাঁকেই চাইছেন। তাঁর বিকল্প কেউ নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও শেখ হাসিনার যে মর্যাদা, যে অবস্থান তা তো কেবল বিশ্ব নেতৃত্বের দু’চার জনের সঙ্গেই তুলনা করা যাবে। বেশি নেতার সঙ্গে নয়। তাই তো পরিচিত একজন বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী একদিন (চারদিকে তাকিয়ে) কথাচ্ছলে বললেন, “শেখ হাসিনা রাষ্ট্রনেতা হিসেবে যে দক্ষতা ও দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, বাংলাদেশকে সম্মান ও মর্যাদার যে উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করলেন তাতে তারই ক্ষমতায় থাকা দরকার। খালেদা জিয়া তার বিকল্প নয়। কখনও ছিল না, আমরাই ‘তথাকথিত দেশনেত্রী’ ‘আপোসহীন নেত্রী’ ‘চেয়ারপার্সন’ এমনই সব ‘মুক্তোর মালা’ পরিয়েছিলাম। তিনি তার মর্যাদা রাখতে পারেননি।” এই ভদ্রলোক ছাত্র জীবনে ভাসানী ন্যাপের ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সারির কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভাসানীর অনুসারী মশিউর রহমান জাদু মিয়া বা মান্নান ভূইয়ার নেতৃত্বে মিলিটারি জিয়ার সঙ্গে মিশে যান। জিয়া হত্যার পরও খালেদার মুখের দিকে তাকিয়ে ঐ দল ছাড়েননি। কেউ যখন শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার তুলনা করতে চান তখন কখনওসখনো রীতিমতো ক্ষেপে যান। বস্তুত একজন সচেতন রাজনৈতিক কর্মী সে যে দলেরই হোন; কোন অবস্থায়ই খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রনেতা হিসেবে দেখতে বা আশা করতে পারেন না। ‘দেশপ্রেমিক শক্তি’ বা ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির’ নেতৃত্বের যে লেবেল বিএনপি গায়ে লাগিয়ে চলছে তা এক মিলিটারি ও এক হাফ মিলিটারি স্বশিক্ষিতের হাতে পড়ে মলিন হতে হতে জং ধরে গেছে। সুন্দর মুখ অসুন্দর হয়ে গেছে। একে ঘষেমেজে তাজা করারও উপায় নেই।

জাতির পিতা বলতেন, ‘আমি বাঙালী, আমি মুসলমান, আমি মানুষ।’ শেখ হাসিনার মধ্যেও তা পুরোপুরি রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে সেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তাঁকে দেখে আসছি। এত বড়মাপের আর কাউকে তো দেখলাম না। তার ওপর যে জাতি ভরসা করতে পারে তা আমরা অনেক আগেই বুঝেছি, অনুধাবন করেছি, বিএনপি ঘরানার বন্ধুরা এখন বুঝতে শুরু করেছেন। যতদিন যাবে তত আরও গভীরভাবে অনুধাবন করবেন। অবশ্য যদি সত্যিকার দেশপ্রেমিক হন। ভুয়া না হোন তো!

এই এক কারণে আমি বহু আগেই অন্তত আরও দুই মেয়াদ শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই বলে এই কলামে লিখেছি। অর্থাৎ আরো ৫+৫ = ১০ বছর। আজ আবার পুনরাবৃত্তি করছি। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই এই চাওয়া। আমাদের জাতিরাষ্ট্রের প্রয়োজনেই চাই। সে জন্য দোয়া করি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে সুস্বাস্থ্য জীবন দিন, আরও দুই টার্ম জাতির নেতৃত্ব দেবার তওফিক দান করুন।

আগেই বলেছি আমার আজকের লেখার বিষয় হলো ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন কিভাবে হবে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই সব ব্যবস্থা করবেন। বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দলীয় নেতারা এতদিন ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করে আসছিলেন। সাম্প্রতিককালে এই দাবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন দাবি ‘সহায়ক সরকার’-এর অধীনে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রুহুল কবির রিজভী এই একই ঢোল পেটাচ্ছেন বেশ কিছুদিন থেকে। মাঝে মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ঢোলে দু’একটা বাড়ি দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য হলো বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নন, বরং সরকারের আজ্ঞাবহ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক যোগাযোগ এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও মাঝে মধ্যে জবাব দিচ্ছেন। নইলে যে একতরফা হয়ে যাবে। আমি অবশ্য মনে করি জবাব দেবার কোন প্রয়োজন নেই। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর দাবির মতো সহায়ক সরকারের দাবিও ভুলে গিয়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের সামনে এর বিকল্প নেই। তারা ভাল করেই জানে আগামী নির্বাচনটি আওয়ামী লীগের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ; ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং পরের বছর ২০২১ সাল স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণজয়ন্তী। এই দুটি উৎসব কেবল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাতেই মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হবে। অন্য কারও হাতে নয়, বিএনপির হাতে তো নয়ই।

যে মহানায়ক পাকিস্তানের ২৩ বছর বাঙালীর অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, যাঁর নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, সেই নেতা এবং সেই দলই তো এই দুই উৎসব পালন করবে। বিএনপি তো করবেই না। আগামী নির্বাচনে তাই আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আজ যে উন্নয়ন হয়েছে, মানুষ ভাল আছে, কেউ না খেয়ে নেই। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম কেউ খালি পায়ে হাঁটে না, এসব বাংলার মানুষ দেখছে। তবু ঘরে ঘরে যেতে হবে। ঙাবৎ ঈড়সঢ়ষরধহপব বা অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এটা মনে রাখতে হবে। যে সব নেতা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্ব-স্ব এলাকায় প্রশ্নবিদ্ধ তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে (যদিও কোন সম্ভাবনা নেই, কারণও নেই) তারা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করবে না, তারা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত দিবসে খালেদার ভুয়া জন্মদিন পালন করে, আর স্বাধীনতা দিবসেও তা পালন না করে করবে ‘ঘোষণা দিবস’।

বস্তুত খালেদা জিয়া বা তার দল বা জোট বুঝেসুজেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলছে। অথচ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং স্বাধীন। এই কমিশন বিচারপতি লতিফুর রহমানের মতো ষড়যন্ত্রকারী কমিশন নয়। সেদিনের কথা মনে পড়েÑ কি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিজয় ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছিল। এখানেই থেমে থাকেনি, ইলেকশনের রেজাল্ট পুরোপুরি ঘোষণার আগেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, হিন্দু সম্প্রদায় তথা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেছিল, সে তো খুব বেশিদিনের কথা নয়। কেবল নৌকায় ভোট দেয়ায় কিভাবে মানুষের হাতের কব্জি, পায়ের রগ কাটা হয়েছিল, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, গোয়ালের গরু, পুকুরের মাছ, বনের গাছ কেটে লুট করা হয়েছিল, এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাবার কথা নয়। মানুষ কিভাবে ভুলবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে এবং ২০১৪-র আগে-পরে পেট্রোলবোমা মেরে হত্যা, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পোড়ানোর সেই ভয়াবহ এবং আতঙ্কের দিনগুলো।

এটা বিএনপিও বুঝে তাদের কোন আশা নেই, ভবিষ্যত নেই। তাই ১১তম সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্যে এখন থেকেই ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। তবে এটিও তাদের অতীতের মতোই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বই কিছু নয়।

ঢাকা ॥ ১৩ জুলাই ২০১৭

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি

জাতীয় প্রেসক্লাব

balisshafiq@gmail.com

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০১৭

১৫/০৭/২০১৭ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: