১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এবার রফতানির চালানেও বালি ॥ চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ১৭ কন্টেনার


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ শুধু আমদানিতেই নয়, বিদেশে রফতানির কন্টেনারেও মিলছে বালি মাটি। চট্টগ্রাম বন্দরে এমন বালিভর্তি ১৭টি কন্টেনার আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সমুদ্র সৈকত থেকে সংগৃহীত এই বালিতে মিশ্রণ থাকে টিটেনিয়াম জাতীয় মূল্যবান এক ধরনের কেমিক্যাল। চীনে রফতানির জন্য জাহাজীকরণ প্রক্রিয়াকালে কাস্টমস গোয়েন্দা শাখা এগুলো আটক করে। কেমিক্যাল টেস্টের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

কাস্টমস সূত্রে জানানো হয়, ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত জেডএম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই ১৭টি কন্টেনারের রফতানিকারক। আর চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো চীনের চ্যাংদু হেইপিঞ্জ সাউদার্ন এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি লিমিটেড রফতানির দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটি হলো চট্টগ্রাম নগরীর ফকিরহাট এলাকায় অবস্থিত চ্যালেঞ্জ ইন্টারন্যাশনার এ্যাসোসিয়েট। গত ২২ অক্টোবর রফতানির চালানটি আটক করা হয়। রফতানি পণ্যের ঘোষণায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে টিটেনিয়াম ও ইলমেনাইট স্যান্ড, যা মূলত এক ধরনের ‘কালা বালু’। কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে বালুগুলো সংগৃহীত হয়েছে বলে ধারণা করছে কাস্টমস। তবে রফতানির ক্ষেত্রে ঘোষণার ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা তা নিরুপণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মুকিতুল হাসান সোমবার এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, রফতানির চালানটি বৈধ নাকি অবৈধ তা এখনও বলা সম্ভব নয়। বালির মধ্যে কি রয়েছে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। তবে তিনি এও জানান যে, এলসির ঘোষণায় বালির সঙ্গে কিছু কেমিক্যাল থাকার কথাও রয়েছে। যদি ঘোষণা অনুযায়ী চালানটি ঠিক থাকে তাহলে ছেড়ে দিতে হবে। আর যদি কন্টেনারগুলোতে স্রেফ বালুই থাকে তাহলে আটক করে কাস্টমস এ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, প্রতি কন্টেনারে ২৬ মেট্রিক টন করে মোট ১৭টি কন্টেনারে রয়েছে ৪৫০ মেট্রিক টন বালি। এলসির ঘোষণা অনুযায়ী এ বালির রফতানি মূল্য ২২ হাজার ৫শ’ ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এদিকে রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালোভাবে দাবি করেছে যে, তারা ঘোষণার ব্যত্যয় ঘটিয়ে চালানটি রফতানি করছেন না।