ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যে মরক্কোয় আনন্দের বন্যা

মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০১:১০, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যে মরক্কোয় আনন্দের বন্যা

.

 ১৯৮৬ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড খেলেছে মরক্কো। আফ্রিকার মানচিত্রে সিংহ হিসেবে পরিচিত দেশটি ৩৬ বছর পর আবার শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে তারা। মাঝে আরও ৩ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে প্রতিবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। কিন্তু এবার শক্তিশালী দুই দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে তারা। গত আসরের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ড্র এবং তৃতীয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে জিতেছে। আর তাই দলের এমন সাফল্যে উৎসবে মেতেছেন মরক্কোর মানুষ। অনেক আগে থেকেই দেশটির মানুষ ফুটবল আসক্ত। তাই যেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তাদের বিশ্বকাপে দলের এমন প্রাপ্তিতে। মূলত তীব্র খরা দেশটিতে, কিন্তু যেদিন মরক্কো জিতেছে সেদিন আকাশ ভেঙে নেমেছে স্বস্তির বারিধারা। তাই সবমিলিয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে মরক্কোবাসীদের মধ্যে। প্রথম ম্যাচেই এবার মরক্কো মুখোমুখি হয় গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার।

সেই ম্যাচে দারুণ লড়াই করে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আলোচনার জন্ম দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। এবার গত আসরে তৃতীয় হওয়া এবং বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে আবার দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার রাস্তা সুগম করে। বড় দুই ম্যাচে অভূতপূর্ব খেলা উপহার দিয়ে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত মরক্কো শেষ ম্যাচে কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয়। এতে শুধু দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিতই করেনি তারা, পাশাপাশি হয়েছে ‘এফ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। ১৯৮৬ সালেও নিজেদের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে মরক্কো। সেবার তাদের গ্রুপে ছিল ইংল্যান্ড, পোল্যান্ড ও পর্তুগাল। সেবারও তারা হারেনি, দুই ড্রয়ের পর শেষ ম্যাচে পর্তুগিজদের ৩-১ গোলে হারিয়েই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। এবার ৩ ম্যাচে ২ জয় এবং ১ ড্র করে অপরাজিত মরক্কানরা। সেদিক থেকে বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য এবারই পেয়েছে তারা। তাই দেশটির অনেক ভক্ত আনন্দে কেঁদেছেন। মরক্কোর মানুষ অনেক আহেগ থেকেই ফুটবলে আচ্ছন্ন। ১৯৮৬ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ এবং এরাবিয়ান জাতি হিসেবে বিশ্বকাপে উঠে রেকর্ড গড়া মরক্কোকে নিয়ে তাই এবারও উচ্ছ্বাসটা বাঁধভাঙ্গা। এ বিষয়ে ক্রন্দনরত এক ভক্ত বলেন,‘আমরা ৩৬ বছর অপেক্ষা করেছি। এখন সেই অপেক্ষার পর গৌরবময় অর্জন এনে দিয়েছে তারা।’
বৃহস্পতিবার মরক্কোর রাজধানী রাবাত উৎসবের নগরী হয়ে যায়। দেশের সবচেয়ে ফিটফাট ও জাঁকালো স্থান আইকোনিক এভেনিউ মোহাম্মদ ভি থেকে ফুটবল সমর্থকরা ঝাঁকে ঝাঁকে দেশের পতাকা জড়িয়ে রাবাতের কেন্দ্রস্থলের দিকে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে গেছেন। এ সময় বাজি ফুটিয়ে, অবিরাম গাড়ির হর্ন বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন তারা। অনেক অপেক্ষার পর যেমন স্বস্তি আসে তেমনি এদিন ছিল মরক্কোবাসীর জন্য দারুণ ভালো। মূলত তীব্র খরার দেশটিতে বৃষ্টিধারা বিরল। কিন্তু এদিন বৃষ্টিও নেমেছে এবং রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে নারী-পুরুষরা বৃষ্টিতে ভিজে, পানিতে পা ডুবিয়ে আনন্দ-উল্লাস করেছেন বিশ্বকাপ গৌরবে। ম্যাচের আগেই দেশটির ক্যাফে-রেস্তরাঁগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সেখানে বড় স্ক্রিনে খেলা চলেছে। এমনকি এদিন ব্যাংকগুলো আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খেলা দেখতে পারেন। হুদা নামের ৩৪ বছর বয়সী এক ফুটবল ভক্ত বলেন,‘ম্যাচটি নিয়ে আমি কিছুটা স্নাায়ুচাপে ছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের আনন্দে ভাসিয়েছে।’

নিজের মেয়েকে নিয়ে একটি ক্যাফেতে তিনি খেলা দেখেছেন।  মাত্র ৩ মাস আগে দলটির কোচ হয়েছেন ওয়ালিদ রিগ্রাগুই। তিনি দলের এমন পারফর্মেন্সে দারুণ মানসিক প্রশান্তিতে আছেন। এখন দলটিকে নিয়ে অনেকের উচ্চাশা তৈরি হয়েছে। মরক্কোর মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগের এক ভাগেরই দৃঢ় বিশ্বাস, বিশ্বকাপে অন্তত সেমিফাইনালে উঠবে দলটি। মরক্কোর পাগলাটে ফুটবল সমর্থকদের কাতারে আনা-নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ফ্লাইট রাখা হয়েছে। তারা যেন নির্বিঘ্নে মাঠে উপস্থিত হয়ে দলকে সমর্থন দিতে পারে সেজন্য রয়্যাল এয়ার ম্যারোক থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বিমানের। সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। অঙ্কের শিক্ষক মেহেদি দিদার আনন্দ তো বাঁধ মানছে না। তিনি বলেছেন, ‘মরক্কোর পতাকা উঁচুতে উড়ছে এবং আমাদের খেলোয়াড়দের দেখছি দেশের জন্য সবকিছু ঢেলে দিয়ে মরণপণ লড়াই করছে। এসব দেখতে পাওয়টা ঐতিহাসিক ব্যাপার।’ ১৯৮৬ সালে যারা দেশটিকে বিশ্বকাপে সফল হতে দেখেছিলেন তারা এতদিন সেই গৌরবের গল্প শুনিয়েছেন ছেলেমেয়েদের কাছে। এরকম গল্প শোনা এক ফুটবল ভক্ত স্বস্তির সঙ্গে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আর ২০ বছর পর হয়তো আমিও আমার বাচ্চাদের ২০২২ সালের দলটিকে নিয়ে গল্প শোনাতে পারব। এটা সত্যিই ঐতিহাসিক।’

 

 

সম্পর্কিত বিষয়:

monarchmart
monarchmart