ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রাইভেট ভার্সিটিতে পিএইচডি

-

প্রকাশিত: ২১:০২, ২৫ জুন ২০২৪

প্রাইভেট ভার্সিটিতে পিএইচডি

সম্পাদকীয়

দেরিতে হলেও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তুতির সুখবর মিলেছে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পর্যায়ে রাখা হচ্ছে এ সুযোগ। দুই ধাপে অনুমোদন পাবে ১০টি বিশ^বিদ্যালয়। পক্ষে-বিপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হওয়ার বিষয়টি সাধুবাদযোগ্য। বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি করার সুযোগ থাকলেও ১৯৯২ সাল থেকে চালু হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তা নেই।

শিক্ষাসংশিষ্টরা বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়াটা ভালো উদ্যোগ। কারণ, কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান তুলনামূলক ভালো। এমনকি কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের যে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে, সেখানে কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও থাকছে। ইউজিসি প্রণীত নীতিমালায় কিছু শর্ত রাখা হচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন শিক্ষক সংখ্যা, তাদের কতজনের পিইচডি রয়েছে, কোন্ বিশ^বিদ্যালয় থেকে পিইচডি করা, কোন্ জার্নালে কতটা পাবলিকেশন প্রকাশ হয়েছে, এ বিষয়গুলো দেখা হবে। এছাড়াও ইউজিসির শর্ত মেনে বিশ^বিদ্যালয়গুলো চলছে কিনা, তা দেখা এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কাজ হলো গবেষণালব্ধ নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি করা। এ জন্য দরকার স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষক শিক্ষার্থী। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুযোগ সৃষ্টি উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণায় সুফল বয়ে আনবে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে ন্যূনতম পিএইচডি ডিগ্রি থাকা অত্যাবশ্যক হলেও আমাদের দেশে এর ভিন্নতা দেখা যায়।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষকের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। তার মানে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষকেরই পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন রয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনেকেরই পিএইচডি করার আগ্রহ রয়েছে।
আর্থিক এবং ব্যক্তিগত কারণে, অনেক শিক্ষার্থী তাদের পিএইচডি বিদেশের পরিবর্তে বাংলাদেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্পন্ন করতে আগ্রহী। পিএইচডি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া বলে বিদেশে অবস্থান করে ডিগ্রি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পিএইচডি ডিগ্রি চালু হলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, বিদেশী শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার জন্য আসার সুযোগ গ্রহণ করবে। যা নিঃসন্দেহে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক পরিচিতির পাশাপাশি র‌্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি ঘটাতে সহায়ক হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক, সন্দেহ নেই। তবে মান রক্ষার জন্য পিএইচডির জন্য যেসব শর্ত (গবেষণা, প্রকাশনা ইত্যাদি) রয়েছে, তার শর্তাবলি যথাযথভাবে নির্ধারণ করে দিতে হবে। অভিজ্ঞ সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে আগামী দিনগুলোয় আরও অধিক সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত হবে- এমনটাই প্রত্যাশা। তবে সতর্ক থাকতে হবে পিএইচডির নামে যেন বাণিজ্য না হয়।

×