ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

যুদ্ধবিরতি সমাধান নয়

-

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ১৩ জুন ২০২৪

যুদ্ধবিরতি সমাধান নয়

সম্পাদকীয়

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪টি। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল কেবল রাশিয়া। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস, ইসলামিক জিহাদ এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেছেন, প্রস্তাবটিতে কিছু বিষয় অস্পষ্ট রয়েছে। স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। প্রস্তাবে শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তি, নিহত জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়। ইসরাইল সরাসরি কিছু না বললেও প্রস্তাবে রাজি আছে বলে জানিয়েছে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটিকে এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

উল্লেখ্য, গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা ও নৃশংসতা বন্ধে এর আগেও নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে ইসরাইলকে মদদদাতা যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি।
এরপরও গাজা ও রাফায় ইসরাইলি হামলা চলছেই। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ হাজার ২০২ জন ফিলিস্তিনি। আহত কমপক্ষে ৮৪ হাজার ৭১২ জন।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষ করে সহিংসতাসহ ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সময় সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি গুলিতে ৫৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এসব হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে ২৩ লাখের বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে ৬০ শতাংশ বাড়িঘর ও আবাসন।
মূলত ইসরাইলি হামলা গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলের বর্বর হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব অবিলম্বে কার্যকর হলেও খুব শীঘ্রই গাজা ও রাফায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে হয় না। একমাত্র সমাধান স্বাধীন ইসরাইল ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত। যত শীঘ্র এটি বাস্তবায়ন হয় বিশ্বের জন্য ততই মঙ্গলজনক।

×