ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

নিয়ম মেনে কোরবানি

মাইফুল জামান ঝুমু

প্রকাশিত: ২০:৫২, ১২ জুন ২০২৪

নিয়ম মেনে কোরবানি

প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করাকে কোরবানি বলে

ইসলামি বিধান অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একজন মুসলিমের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করাকে কোরবানি বলে। তাই প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যে পশু জবাই করে থাকেন তা স্বভাবতই তাদের প্রিয় পশু হয়ে থাকে।
আগেকার-দিনে গ্রামের কৃষকরা তাদের গোয়ালের সবচেয়ে ভালো ও প্রিয় গবাদি পশুটাকেই বেছে নিতেন তাদের কোরবানির পশু হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পরিবর্তনের ফলে এখন শহরের মতো গ্রামের মানুষও কোরবানির পশু ক্রয়ের জন্য পশুর হাটকেই বেছে নেয়।

ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে পশু কেনা হয় বলে এখন আমরা কোরবানির পশুকে ‘প্রিয়’ বলে সহজেই প্রকাশ করতে পারি না। তাই কোরবানি দেওয়ার আগে কোরবানির পশুকে নিজেদের প্রিয় পশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কোরবানির পশুর যতœ ও পরিচর্যা করা একটি জরুরি বিষয়। 
কেনা থেকে শুরু করে জবাই করা পর্যন্ত কোরবানির পশুর নানাভাবে যতœ নেওয়া উচিত। প্রতিবছরই পশুর হাটে তীব্র গরমে বা লোক সমাগমের ভিড়ে কোরবানির পশুর মৃত্যুর খবর শোনা যায়। তাই হাটে পশুর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বাসস্থানের ব্যবস্থা নিতে হবে। পশুর যেন খাবারের কষ্ট না হয় সেক্ষেত্রে পশুর জন্য ভুসি, খৈল, গাছের পাতা, ঘাস, খড় প্রভৃতি খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সাধারণত বাজার থেকে পশুকে হাঁটিয়ে আনলে পশুর অনেক কষ্ট হয়। তাই বাজার থেকে যাদের বাসা কিছুটা দূরে তাদের উচিত পিকআপ বা অন্য কোনো যানবাহনের সাহায্য নেওয়া। এতে পশুর কষ্ট কিছুটা কম হয়। সাধারণত পশুকে যখন হাঁটিয়ে আনা হয় তখন তারা অনেক পিপাসার্ত থাকে। তাই তাদের তৃষ্ণা নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। পশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে। বাসায় নিয়ে আসার পর পশুর শরীর ময়লা থাকলে গোসল করিয়ে তা পরিষ্কার করতে হবে। 
পশুর গায়ে স্নেহ-মাখা হাত বুলালে তার প্রতি আন্তরিকতা বাড়ে। কোরবানির পশুর প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ সম্ভব। জবাই করার দিন সকালে পশুকে পরিষ্কার সাদা পানি পান করালে পশু কাটার সময় এর চামড়া তুলতে সহজ হয়। পশু জবাই করার সময় ভোঁতা ছুরি, চাকু, চাপাতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কেননা এগুলো ভোঁতা হলে পশু জবাই হতে অনেক কষ্ট হয়। কাজেই জবাই করার সরঞ্জামাদি আগে থেকে ধারালো করে রাখতে হবে। কোরবানির মাংস যেন সরাসরি মাটি, ধুলোবালি বা অন্যান্য আবর্জনার সংস্পর্শে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 
আমাদের কোরবানির উদ্দেশ্য শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কাউকে দেখানো নয়। কাজেই কোরবানির পশু কিনে পশুকে নিয়ে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে না দিয়ে পশুর যতেœর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

×