ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঢাকার দনিরাত

মারুফ রায়হান

প্রকাশিত: ২১:১৭, ২৭ মে ২০২৪

ঢাকার দনিরাত

ক্রমশ উজাড়বৃক্ষের এই মহানগরীতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে গাছ

ক্রমশ উজাড়বৃক্ষের এই মহানগরীতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে গাছ লাগানোর কথা বলা হলে সেটি আশা জাগায় এবং প্রশংসিত হয়। পক্ষান্তরে সৌন্দর্য বর্ধন বা অন্য কোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে বা গোপনে গাছ কাটার ঘটনা ঘটলে সেটি নিন্দিত হয়। বাজেট পড়ে আছে, কাজে লাগানো হচ্ছে না। অথচ সদিচ্ছা থাকলে কত কিছুই না করা সম্ভব। উন্নত নগরব্যবস্থায় বহুতল ভবনে সবুজায়নের কত আধুনিক প্রক্রিয়া রয়েছে।

ভবনে খাড়াভাবে সবুজ বনায়নের পাশাপাশি দেয়াল ও ছাদে গাছপালা লাগানো হয়। ঘন সতিপূর্ণ এলাকায় কিছুটা ফাঁকা জায়গায় পকেট পার্ক করা হয়। আমাদের মেয়রগণ কবে যে এসব সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করবেন

ঘূর্ণিঝড় রেমাল শঙ্কার রুমাল ওড়াতে শুরু করেছে। রবিবার এ কলাম লেখার সময় ঢাকায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। রেমাল কতটা আঘাত হানবে, কতটা ক্ষয়ক্ষতি হবে, সেটি এখনই বলা না গেলেও পরপর কয়েকটি সংবাদ পাঠকের মনে যে আচমকা আঘাত এনেছে, সেটি সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়। কেননা দুটো বিষয়ই অভূতপূর্ব, মানে আগে ঘটেনি।

সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা, আর সাবেক পুলিশ প্রধানের (স্ত্রী ও কন্যাসহ) নামে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

নজরুলের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী বিশেষ প্রকাশনা
এবছর ১১ জ্যৈষ্ঠ কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। সংখ্যার হিসেবে বিশেষ বছরটি জাতীয় কবির স্মরণ-শ্রদ্ধায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ নিবেদনই দাবি করে। দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সংগঠন ছায়ানট জাতির সে-দাবি পূরণ করেছে অভিনব এক গ্রন্থ প্রকাশ করে। এছাড়া তিন দিনব্যাপী নজরুল-উৎসবেরও আয়োজন করে ছায়ানট।

শুধু রবীন্দ্রচর্চাতেই সংগঠনটি সীমাবদ্ধ, সুযোগ পেলেই এমন সমালোচনা যারা করে থাকেন, তারাও চমকিত হবেন। গ্রন্থটি হলো ‘নজরুলসঙ্গীত: তথ্য, ভাব ও সুরসন্ধান’, যেটি নজরুলের ৫০ গানের ভাবসম্পদ বিশ্লেষণ ও সুরসন্ধানে সমৃদ্ধ। ছায়ানট ঠিক ছ’বছর আগে প্রকাশ করেছিল একই ধরনের প্রথম বই ‘গীতবিতান : তথ্য ও ভাবসন্ধান’, যেটিতে রবীন্দ্রনাথের ১০০ গানের ভাবসম্পদ বিশ্লেষণ ও তথ্যসূত্র রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের গানের ভাবসম্পদ বিশ্লেষণ করেছিলেন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব ড. সন্জীদা খাতুন, আর নজরুলের গানেরটা করেছেন ছায়ানটের শিক্ষক লায়েকা বশীর, যিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি নজরুলসংগীতের শিল্পী; বেসরকারি একটি বিশ^বিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। বেশ ক’বছর আগে ড. সন্জীদা ওই বইয়ের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন লায়েকা বশীরের ওপর।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, ছায়ানটের আগের বইটিতে সুরসন্ধানের গবেষণাটি ছিল না, সদ্যপ্রকাশিত বইটিতে যা রয়েছে। লায়েকা বশীরেরই গুরু ড. আলী এফ এম রেজোয়ান মূল্যবান এ কাজটি করেছেন, যে-কর্মযজ্ঞে বছরের পর বছর প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন শিষ্যাটি। গুরুর গায়ন ও কথা থেকে তুলে আনা সুরসন্ধানের লিখিত রূপ প্রদানে বিশেষ অবদান তিনি রেখেছেন।

ফলে ‘নজরুলসঙ্গীত: তথ্য, ভাব ও সুরসন্ধান’ গ্রন্থটি পাঠকের হাতে পৌঁছুনোয় লায়েকা বশীরের গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। ড. সনজীদার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বইটি সম্পাদনা করেছেন মফিদুল হক। তথ্যসন্ধান কামরুল হায়দারের। উল্লেখ্য, এ প্রকাশনায় ছায়ানটের পার্থ তানভীর নভেদেরও নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে। 

২০১৯ সালের জানুযারিতে ছায়ানটের প্রথম বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সন্জীদা খাতুন বলেছিলেন, ‘বইটি (‘গীতবিতান : তথ্য ও ভাবসন্ধান’) রবীন্দ্রনাথের চর্চাকে উৎসাহিত করবে এ ভাবনা থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।’ দ্বিধাহীনভাবে তাই বলা যায়, ‘নজরুলসঙ্গীত: তথ্য, ভাব ও সুরসন্ধান’ বইটি দেশে নজরুল চর্চাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এটি থেকে নজরুলসংগীতের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিশেষ উপকৃত হবেন।

যারা নজরুলের গান শোনেন, তাদেরও কাজে আসার মতো বই এটি। ছায়ানট ভবনে রবিবার বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান নজরুলসঙ্গীত শিল্পী শাকিল আনাম বইটির প্রশংসা করে বলেন, আমরা যখন শিক্ষকদের কাছে গান শিখেছি তখন কোনো শিক্ষকই নজরুলসঙ্গীতের ভাব নিয়ে কখনোই কিছু বলেন নি, শুধু সুর সম্পর্কে জেনেছি। তাই নজরুলের গান বোঝার জন্য এ ধরনের বই অত্যন্ত প্রয়োজন। 

বৃক্ষ-সুরক্ষা এবং নগর-বনায়ন
সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঢাকায় ২৫ শতাংশ বনায়ন সৃষ্টি করার কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ সিটিতে দুই লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেয়া হয়। ক্রমশ উজাড়বৃক্ষের এই  মহানগরীতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে গাছ লাগানোর কথা বলা হলে সেটি আশা জাগায় এবং প্রশংসিত হয়।

পক্ষান্তরে সৌন্দর্য বর্ধন বা অন্য কোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে বা গোপনে গাছ কাটার ঘটনা ঘটলে সেটি নিন্দিত হয়। মানুষ তার নিজের ভালোটা বোঝে বলেই এমন সংগত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। বলা দরকার, বেশ কিছুকাল আগে ঢাকা মহানগরীর অপর অংশ উত্তর সিটি করপোরেশন রাস্তার ধারে ২ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, উভয় সিটিতে ওই চার লাখ গাছ কতদিনে লাগানো সম্পন্ন হবে এবং সেগুলো পরিণত হয়ে ছায়া প্রদানসহ মানবসমাজ ও পরিবেশের উপকারে আসবে। 
ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি সবুজ এলাকা ও ফাঁকা জায়গা কমেছে গত আট বছরে। বলা যায় রীতিমতো বৃক্ষনিধন উৎসবই সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি জলাভূমি ভরাট হয়েছে ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) গত বছরে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছিল।
বৈশ্বিক মানদ- অনুযায়ী, একটি শহরের বসবাসের যোগ্য হতে বৃক্ষ আচ্ছাদিত বা সবুজ এলাকা কম করে হলেও ১৫ শতাংশ প্রয়োজন। কিন্তু এখন ৮ শতাংশের বেশি নেই সবুজ এলাকা। ঢাকার সবুজ এলাকা কমার পেছনে পার্কগুলো কংক্রিটে আচ্ছাদিত করা, খেলার মাঠ দখল করে হাটবাজার ও ক্লাব স্থাপন এবং গাছ কাটাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বলাবাহুল্য, নানাবিধ স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনে কিংবা নিছক অপ্রয়োজনে এসব সুউচ্চ বিশালাকার সব বৃক্ষ কাটা পড়েছে। তাই ক্ষতি উপশমে পরিকল্পনা করে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা বাড়ানো এখনো সম্ভব। একইসঙ্গে ঢাকাকে কেন্দ্র করে আশপাশে সবুজ অঞ্চল বানানোর পরিকল্পনা নেওয়ার বিশেষজ্ঞ পরামর্শও অনুসরণ করা জরুরি। উল্লেখ্য, পরিবেশ উপযোগী নয়, এমন গাছে আধিক্য রয়েছে রাজধানীতে। 

এ বছর লাগাতার তাপপ্রবাহের যে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, তাতে জনস্বাস্থ্যবিদেরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনগুলোয় ভয়াবহ উত্তাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে মহানগরবাসী তরুণ প্রজন্মের ভেতরে সবুজ স্বপ্ন বুনে দেওয়া চাই। প্রদর্শনমূলক কর্মসূচি নয়, বৃক্ষরোপণে থাকতে হয় অঙ্গীকার আর দায়িত্বশীলতা। গাছের চারার নিরাপদ বৃদ্ধি পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

নার্সারি থেকে চারা এনে গর্ত করে রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভালো, কিন্তু তার পাশাপাশি  জরুরি হলো ‘গাছ লাগাই, গাছ বাঁচাই’ কিংবা ‘বৃক্ষরোপণ ও সুরক্ষা’ কর্মসূচি পালন। 
গাছ লাগানোর জন্য কিন্তু ভালোই বরাদ্দ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন গত আট বছরে বৃক্ষরোপণের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের মাত্র ৪৩ ভাগ ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের ভেতর ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

বাজেট পড়ে আছে, কাজে লাগানো হচ্ছে না। অথচ সদিচ্ছা থাকলে কত কিছুই না করা সম্ভব। উন্নত নগরব্যবস্থায় বহুতল ভবনে সবুজায়নের কত আধুনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। ভবনে খাড়াভাবে সবুজ বনায়নের পাশাপাশি দেয়াল ও ছাদে গাছপালা লাগানো হয়। ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় কিছুটা ফাঁকা জায়গায় পকেট পার্ক করা হয়। আমাদের মেয়রেরা কবে যে এসব সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

রীতিমতো রহস্যোপন্যাস
দেশের একজন এমপি নৃশংস উপায়ে খুন হয়েছেন প্রতিবেশী দেশের মাটিতে। ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও তার দেহের খ-াংশ পাওয়া যাচ্ছে না। কলকাতার ভাড়া করা বাড়িতে মৃতদেহ গায়েব করার জন্য হতবাক করা এক প্রক্রিয়া হাতে নেয় খুনিদল। খুনের পর হাড় মাংস আলাদা করা হয়, সেসব টুকরো টুকরো করে ছোটবড় অনেক ব্যাগে ভরে নানা স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বড় অংশ এমন একটি এলাকার খালে ফেলা হয় যেখানে কুকুর-শিয়ালের রাজত্ব। ফলে খণ্ডিত মাংসের হদিস না পাওয়ারই কথা। 
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের হত্যাকাণ্ড রীতিমতো রহস্যোপন্যাসকে হারিয়ে দেওয়ার মতোই। পত্রপত্রিকায় যেসব খবর বেরিয়েছে তা থেকে যে কোনো পাঠকের ধারণা হবে যে খুনের পরিকল্পনাকারী অপরাধ বিজ্ঞানীদের ভাইবেরাদর। এর আগেও ঢাকা ও কলকাতায় এমপি সাহেবকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। তৃতীয় দফা কলকাতায় সফল হয় খুনিরা।

সেখানকার একটি ভাড়া করা বাড়িতে এমপি সাহেবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কৌশলে ব্যবহার করা হয় এক নারীকে। তাকে খুনের পর তার ফোন থেকে নিকটজনদের বিভ্রান্ত করতে নানা তথ্য দেওয়া হয়। যাহোক, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকা- সারাদেশের মতো কলকাতাতেও আলোচিত হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তাও ডালপালা মেলছে।

সাড়ে তিন হাত মাটি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার কবরস্থানগুলোতে ২৫ বছরের জন্য ২৮ বর্গফুট আকারের কবর সংরক্ষণ করতে চাইলে গুনতে হবে মোট ২০ লাখ টাকা। উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কবরস্থানগুলোতে খরচ কিছুটা কম। ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করতে চাইলে গুনতে হবে ১১ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

২ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাই বলছেন, রাজধানীর ঢাকার বাইরে কবর দেওয়ার প্রবণতা বাড়াতে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবাই চান তাদের প্রিয়জনকে ঢাকায় কবর দিতে। যদি তেমন হয়, তাহলে কবরস্থানগুলোতে জমির অভাব দেখা দেবে।
মৃত্যুর পর সাড়ে তিন হাত কবরের জায়গাটুকুর স্থায়ী নিশ্চয়তা কতটুকু আছে রাজধানীবাসীর? দুই কোটি মানুষের শহর ঢাকায় গোরস্তান আছে মাত্র দশটি। যা অনেক আগেই পূরণ হয়ে গেছে। এখন ওইসব গোরস্তানে অস্থায়ীভাবে কবর দেওয়া হচ্ছে। একটি কবরের ওপর পড়ছে আরেকটি কবর। এমনকি গোরস্তানগুলোতে এক কবরের ওপর একাধিক মৃত ব্যক্তির নামফলক ঝূলতে দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে ৩০ হাজারের মতো কবরের জায়গা থাকলেও তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন একটি কবরের ওপর অস্থায়ীভাবে আরেকটি কবর দেওয়া হচ্ছে। মৃতের স্বজনরা আক্ষেপ করে থাকেন এ কারণে যে, অসংখ্য কবরের মাঝে কোনটি কার তা বোঝার উপায় নেই। একটি আরেকটির গায়ে লেগে আছে। নতুন জায়গা অবশিষ্ট নেই।
ঢাকায় জনসংখ্যা বাড়ছে প্রতি বছর। ঢাকায় মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে গোরস্তান তৈরি না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজধানীতে কবর সংকট বাড়ছে। তবে রাজধানীতে কবর সংকটের সুযোগে গড়ে উঠছে বেসরকারি গোরস্তান। পূর্বাচলের ৩০ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলার পানজোড়া মৌজায় একটি কবরস্থান গড়ে তোলার কাজ চলছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট দশটি সরকারি গোরস্তান আছে।

আজিমপুর কবরস্থান, জুরাইন কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, বনানী কবরস্থান, খিলগাঁও কবরস্থান, রায়েরবাজার কবরস্থান, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর ও ১২ নম্বর সেক্টরে রয়েছে দুটি কবরস্থান। এ ছাড়া ধলপুর কবরস্থান ও মুরাদপুর শিশু কবরস্থান নামে আরও দুটি কবরস্থান রয়েছে। রায়েরবাজারে বড় একটা কবরস্থান করা হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রায় ৮১ একর জায়গা। উত্তর সিটির আওতাধীন বনানী কবরস্থানে রয়েছে ২২ হাজার কবরের জায়গা। তাও অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। 

গাড়ির লুকিং গ্লাস 
গাড়িতে লুকিং গ্লাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্টস। আপনি কি জানেন, গাড়িতে লুকিং গ্লাস না থাকলে ট্র্যাফিক পুলিশ আপনাকে আটকাতে পারে, এমনকি জরিমানাও করতে পারে। অনেক দেশে সঠিকভাবে লুকিং গাস সংযুক্ত করা একটি আইন। বাস বা বড় পিক আপে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে এই লুকিং গাস ভেঙে থাকা বা না থাকার কারণে। দুর্ঘটনা কমাতে রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় চলাচলকারী ৬৮৪টি লেগুনা গাড়ির দুই পাশে লুকিং গ্লাস লাগাতে বাধ্য করেছে পুলিশ।

সম্প্রতি এসব লেগুনায় গ্লাস লাগানো হয়। একই সময়ে গ্লাস না লাগানোয় ৪৩টি লেগুনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব লেগুনার গাড়ির চালকদের লাইসেন্স নেই, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ বলছে, লেগুনাগুলো কাপ্তান বাজার, দয়াগঞ্জ, জুরাইন, পোস্তগোলা, লাল মসজিদ, ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, মুন্সিখোলা, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় যাত্রী আনা-নেওয়া করে। লেগুনাগুলোর দুই পাশে লুকিং গ্লাস না থাকায় মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটতো।
২৬ মে ২০২৪

[email protected]

×