ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ

-

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর মূলমন্ত্র- দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের বলেন, আপনারা জনগণের সেবা করুন। দেশের সেবা করুন। সেটাই আপনাদের ধর্ম। তাহলেই সর্বস্তরের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হবেন। দেশের মানুষ যখনই কোনো বিপদে পড়ে তখনই নিরাপত্তা ও আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু।

পুলিশ বাহিনী তাদের সততা, পেশাদারিত্ব, অংশীদারিত্ব, নিষ্ঠা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, ত্যাগ, বীরত্ব, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে সেবা করবে জনগণের। বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে সেভাবেই গড়ে তুলেছে। যে কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি দিন দিন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়েছে। বর্তমানে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে মানুষের পাশে দাঁড়ায় পুলিশ। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি দমনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অবদান রেখে দেশ সেবার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এবারে স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ- শান্তি প্রগতি বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ।
বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীর আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাসহ সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আনসার বাহিনী, কমিউনিটি পুলিশ, এলিট ফোর্স র‌্যাবের পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পেট্রোল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, মাউন্টেন পুলিশ, নৌপুলিশ, সাইবার পুলিশ, কোস্ট গার্ড ইত্যাদি। আধুনিক স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গঠনে তাদের দেওয়া হয়েছে ট্যাকটিক্যাল বেল্ট।

বর্তমান সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ হলো স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গঠন। এর জন্য পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। সে অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশ সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে জনবান্ধব হিসেবে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে বলেই প্রত্যাশা।
পুলিশের ওপর সাধারণ নাগরিকরা যেমন ভরসা করেন, তেমনি কিছু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগেরও অন্ত নেই। পুলিশের ভালো কাজ ছাপিয়ে কিছু পুলিশের দুর্নীতি ও অপরাধের কথাও আসে গণমাধ্যমে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ সম্বন্ধে এক মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। তবে একতরফাভাবে কেবল পুলিশের দোষ দেওয়া সমীচীন নয়।

পুলিশের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। মনে রাখা চাই, শুধু দেশেই নয়, বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে নিজেদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় প্রদান করে বহির্বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। বর্তমানে অপরাধ দমনে পুলিশের চ্যালেঞ্জ বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সন্ত্রাসী অপরাধীর পেছনে ছোটে- পুলিশের পেশার এই বৈশিষ্ট্যের দিকে সমাজের সহানুভূতির দৃষ্টি থাকতে হবে। জনবল, সরঞ্জাম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি পুলিশের সদাচরণ ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং মানসিক গঠন পরিবর্তনের মাধ্যমে সুনাম আরও বাড়ুক। পুলিশ হয়ে উঠুক সমাজবান্ধব- এমনই প্রত্যাশা দেশের নাগরিকদের।

×