ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন

সম্পাদকীয়

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচার বিভাগীয় কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল পুনরায় আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার অহ্বান জানিয়েছেন। এও বলেছেন যেÑ দেশের অর্থনীতি, ভবিষ্যৎসহ অনেকটাই রক্ষা করতে হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে দেশে এখন যে বিতর্ক ও দোলাচল চলছে, তাও অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। কেননা, গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে  নির্বাচনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, সেটি কাম্য নয়। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

সবাইকে সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। সমুন্নত রাখতে হবে সংবিধান। তদনুযায়ী যথাসময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর জন্য প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ সহায়তা প্রত্যাশিত। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাহসিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।
সিইসি আরও বলেছেন, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা চোখে দেখা যায় না। এক্ষেত্রে জনগণের ধারণা জরুরি। জনসাধারণকে অবাধে ভোট কেন্দ্রে  গিয়ে প্রয়োগ করতে হবে ভোটাধিকার। তাদের বলতে হবে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। সাধারণভাবে জনগণ এটা বললে ধরে নিতে হবে যে, নির্বাচন হয়েছে গ্রহণযোগ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশের বাইরে থেকেও চাপ এসেছে। তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন যেন ফ্রি-ফেয়ার হয়। কারচুপি  যেন না হয়। এটা খুব বেশি চাওয়া নয়। সে অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে  নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। 
নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সরকার তাতে যথাযথ সহায়তা করেছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে দেশে। সামনে আরও ভালো হবে। বর্তমানে হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি যেসব সহিংসতা করছে, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দলটির কাছ থেকে তা কাম্য নয়। অন্যদিকে কয়েকটি দল বলেছে, নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল নয়। এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেন, পরিবেশ অনুকূল না প্রতিকূল সেটি আপেক্ষিক। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করা ইসির দায়িত্ব। তবে একা সুষ্ঠু নির্বাচন করা ইসির পক্ষে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সংকট নিরসন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করবেÑ সেটাই প্রত্যাশা। 
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রবল আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে, বিশেষ করে ভূরাজনৈতিক অবস্থানগত কারণে। প্রধানত এই কারণে প্রায় একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যবহ ও সুদূরপ্রসারী। সহিংসতা পরিহার করে সত্যিকারের  অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে সব পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে বিদেশী পর্যবেক্ষকদলের পক্ষ থেকে।

বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে যাবতীয় সহিংসতা, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম পরিহার করতে হবে। পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে সবার জন্য যথার্থ অর্থে অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। যেখানে থাকবে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তা করতে সক্ষম  হবে বলে মনে করে জনগণ।

×