ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১

হাওড় বাংলার রূপান্তর-৫

মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত: ২১:০৫, ৪ জুন ২০২৩

হাওড় বাংলার রূপান্তর-৫

.

আমরা যারা সত্তর অতিক্রম করেছি বা যারা এর চাইতে একটু কম বা বেশি বয়সী তাদের জন্য বিশেষ করে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রূপান্তরটা দারুণভাবে দৃশ্যমান হওয়ার কথা। গায়ে কাদা মাখানো একটি জাতি কেমন করে বিশ্ব জয় করল সেটি উপলব্ধির বিষয়- কেবল পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। বাইশ বছর বয়সে যখন এই দেশটাকে স্বাধীন করার চেষ্টা করি তখন হয়তো স্বপ্নটা আরও বড় ছিল। হয়তো ধরেই নিয়েছিলাম যে, মাত্র তিন দশকেই এটি আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। তেমনটি হয়নি। কারণটাও আমরা জানি। বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর দেশটাকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টায় এই পশ্চাদপদতা। ১৯৯৬-২০০১ ২০০৯ থেকে এখন অবধিই দেশটির অগ্রগতি হয়েছে। তাই আমার নিজের কাছে এখন পুরো দেশটাকে অনেক বদলে যাওয়া দেশ বলে মনে হয়।  আমি ধারণা করি আপনারও তা- মনে হয়।

শহরে এই পরিবর্তনটা ইট কাঠের বাইরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেতিবাচকভাবে চোখে পড়ে। মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া যানজট অনেক সময়েই ভালো লাগাটাকে মন্দতে পরিবর্তন করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা, সামাজিকতা, টানাপোড়েন সবই শহরে সংকটের সূচনা করে থাকে। আরও অনেক নেতিবাচক বিষয় শহরকে যতটা গ্রাস করে গ্রামকে ততটা করে না। আবার গ্রামগুলো অনেক পিছিয়ে থাকার ফলে এতে যখনই কোনো পরিবর্তন আসে, তখনই সেটি বেশ বড় করেই চোখে পড়ে। তাই গ্রামের রূপান্তরটার দৃশ্যমানতা অনেক বেশি।

কেবল প্রকৃতির অসামান্য রূপ নয়, গ্রামের মানুষের জীবনধারাও এই সৌন্দর্যকে অনেক বেশি প্রতিভাত করে। তবে দেশের রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জীবনধারা একটু বেশি বিড়ম্বনার হলেও অন্য শহরগুলোর অবস্থা এতটা নাজুক নয়। যদিও উপজেলা বা গ্রামগুলোও এখন শহরের মতো, তবুও অনেক জেলা শহরকেও এখন গ্রামই মনে হয়। আবার কোনো কোনো গ্রামকে পুরোই শহর মনে হয়। বাংলাদেশের বহু গ্রাম আছে যার প্রতিটি বাড়িতে এখন গাড়ি যেতে পারে। বাংলাদেশের বহু গ্রাম আছে যেখানে শহরের মতো ফ্ল্যাট বাড়ি আছে। এমনকি কোনো কোনো গ্রামে বা হাট-বাজারে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ স্যাটেলাইট ক্যাবলসহ মোবাইল নেটওয়ার্ক তো প্রায় সব গ্রামেই বিরাজ করে।

বদ্বীপ পরিকল্পনা: হাওড়ের সঙ্গে দারুণভাবে সম্পৃক্ত একটি পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু কথা বলা যেতে পারে। অনেকেই জানেন যে, বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২১০০ সালের জন্য  বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা নামের একটি দলিল তৈরি করেছে, যার মাঝে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলের বিষয়টিও রয়েছে। গত জুন ২০১৭ সালের সকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাওড় ব্যবস্থাপনা কৌশল নামক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী বর্তমানে অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল, সাবেক অর্থ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম মান্নানের উপস্থিতিতে এই সেমিনারটি বিশেষ করে আমার জন্য জ্ঞানার্জনের একটি বড় ক্ষেত্র ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য জ্যেষ্ঠ সচিব বর্তমান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমের সভাপতিত্বে তার উপস্থাপনায় সেমিনারটি হাওড় অঞ্চলের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ ছিল। হাওড়ের বাসিন্দা না হয়েও অনেক কর্মকর্তা নিখুঁতভাবে ২০১৭ সালে হাওড়ের বিপর্যয় এবং পুরো হাওড়ের অবস্থাটিও তুলে ধরেন। একজন হাওড়বাসী হিসেবে তাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন, ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা। বস্তুত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কেই ধন্যবাদ দিতে হবে যে হাওড়কে নিয়ে তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা চিন্তা করছেন।

বদ্বীপ পরিকল্পনার লক্ষ্যপরিকল্পনা মণন্ত্রণালয় যে বদ্বীপ পরিকল্পনা করছে, তাতে বড় ধরনের তিনটি লক্ষ্য হচ্ছেÑ . ২০৩০ সালে চরম দারিদ্র্য না রাখা, . একই সময়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং . ৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়া।  এগুলো বস্তুত জাতীয় লক্ষ্য। বদ্বীপ পরিকল্পনার ৬টি লক্ষ্যের মাঝে আছে বন্যা আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকে সুরক্ষা পাওয়া, পানির নিরাপত্তা বিধান এর সুষ্ঠু ব্যবহার, নদীপথকে সমন্বিতভাবে সচল রাখা, জলাভূমি সুরক্ষা, তার পরিবেশ রক্ষা এবং এর সঠিক ব্যবহার, দেশের দেশের বাইরের এমন সংস্থা গড়ে তোলা, যার সহায়তায় পানি সম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা যায় এবং ভূমি পানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। বদ্বীপ পরিকল্পনার লক্ষ্য দেখে এটি বোঝা যায় যে, বস্তুত ভূমি, পানি প্রকৃতিই হচ্ছে এর প্রধান উপজীব্য বিষয়। আমরা সহজেই আন্দাজ করতে পারি যে, এসব প্রাকৃতিক বিষয়ের বাইরে মানুষ তার জীবনধারাকেও কোনো না কোনো পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে। হাওড় এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন বিধায় এখানকার মানুষের বিষয়টিকেও আলাদাভাবেই বিবেচনা করতে হবে। বদ্বীপ পরিকল্পনাটির বিস্তারিত জানিনা বলে সেটি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলা যাবে না। তবে আমি এটি বুঝি যে, হাওড় নিয়ে একেবারে মৌলিক কিছু বিষয় সকল পরিকল্পনাকারীকেই জানানো দরকার। আমি দুটি ভাগে নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

পরিকল্পনা কমিশনের  সাবেক সদস্য (বর্তমানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী) শামসুল আলমের উপস্থাপনা থেকে কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা যায়। তিনি জানিয়েছেন, বদ্বীপ মানে হলো পুরো বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনা। এই বদ্বীপের এলাকা হলো ,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। এর প্লাবন ভূমি শতকরা ৮০ ভাগ, পাহাড় শতকরা ১২ ভাগ সমতল বা উঁচুভূমি শতকরা ভাগ। ১৭ সালে দেশটির জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ। এই ভূমির  শতকরা ৬৫ ভাগ কৃষি জমি, বনভূমি শতকরা ১৭ ভাগ, নগর এলাকা শতকরা ভাগ জলাশয় শতকরা ১০ ভাগ। এই বদ্বীপে ৭০০ নদী আছে। ৪৭ লাখ হেক্টর জলাশয় আছে। বঙ্গোপসাগরে ১১ লাখ ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার প্রবেশাধিকার আছে। জনাব শামসুল আলম দেশে হাজার কিলোমিটার জলপথের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি পরিবেশগত বিপর্যয়ের যে তালিকা করেছেন, তাতে দুটি হাওড়, সোনাদিয়া দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ টেকনাফকে শনাক্ত করেছেন। আমি কোনো কারণ খুঁজে পাইনি যে তিনি সুন্দরবনকে কেন এই তালিকায় রাখেননি। কেন চলনবিল এলাকা এতে নেই বা কেন কেবল দুটি হাওড় রয়েছে। দুটি হাওড়ের যে দশা পুরো হাওড়ের তো সেই একই দশা। আমি মনে করি তালিকাটি আবার নবায়ন করা দরকার।

হাওড় বিষয়ক যেসব তথ্য তিনি প্রদান করেছেন তাতে বলা হয়েছে যে, দেশের সাতটি জেলা; নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাজার শত ৫৩২ বর্গকিলোমিটার হাওড় এলাকা। তিনি এতে ৩৭৩টি হাওড়ের কথা উল্লেখ করে জনসংখ্যা মোট কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার এবং মোট জায়গা ১৯ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর যার আবাদযোগ্য পরিমাণ ১৩ লাখ ১০ হাজার হেক্টর বলে বর্ণনা করেছেন। হাওড় এলাকা মোট জাতীয় উৎপাদনের শতকরা - ভাগ অবদান রাখে। দেশের চাল উৎপাদনের শতকরা ১৮ ভাগ এবং মাছ উৎপাদনের শতকরা . ভাগ হারে উৎপাদিত হয় বলেও তিনি জানান। হাওড়ে দেশের গবাদিপশুর শতকরা ২২ ভাগ রয়েছে এবং হাওড় এলাকায় ১৮২৯ কিলোমিটার জলপথ রয়েছে বলে জনাব শামসুল আলম তার উপস্থাপনায় জানান।

হাওড়ের সম্পদ: হাওড় হচ্ছে গারো পাহাড়ের পাদদেশের জলাভূমি। ভৈরব সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত এই এলাকা। এতে ভূমি আর পানি থাকায় এই দুটির সর্বোচ্চ ব্যবহার বদ্বীপ পরিকল্পনায় থাকতে হবে। ভূমির ক্ষেত্রে বড় বিষয়টি হচ্ছে এই বিশাল আবাদযোগ্য ভূমি থেকে বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন করা। এজন্য গবেষণা করা এবং উন্নয়ন অবকাঠামো গড়ে তোলা। হাওড়ের বর্তমান এক ফসলকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি হাওড়ের বিপুল অংশকে তিন ফসলি ভূমিতে রূপান্তর করার অবকাঠামো গড়ে তোলাটা খুবই জরুরি। নতুন এক জাতের ধানের মাধ্যমে হয়তো প্রায় পুরো হাওড়কেই দুফসলি করা যাবে। আমি আমার বাড়ির সামনের ছায়ার হাওড়ের দৃষ্টান্ত দিতে পারি। এই হাওড়টি শাল্লা খালিয়াজুরি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। এই হাওড়টির শশার কান্দা থেকে মামুদনগর হয়ে শ্যামপুর পর্যন্ত একটি বিশাল কান্দা আছে, যে কান্দাটিকে  বেড়ি বাঁধ দিয়ে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা যেতে পারে। বস্তুত এই বাঁধটির আরও লক্ষ্য হবে হাওড়ের ঢেউয়ের হাত থেকে বাঁধের ভেতরের এলাকাটিকে রক্ষা করা। তাতে বর্ষাকালে এতে বাওয়া ধান মাছ চাষ করে এলাকাটির চমৎকার ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি পানি নিয়ন্ত্রণ করে এতে উচ্চ ফলনশীল ধানও চাষ করা যেতে পারে।

এতে রবিশস্য এবং আমন ধানেরও চাষ হতে পারে। আমি মনে করি ৩৭৩টি হাওড়ের প্রায় সবটিতেই এরকম উঁচু এলাকা আছে, যার অংশ বিশেষকে নিয়ন্ত্রণ করে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা যায়। অন্যদিকে হাওড়ে যে সময়টাতে মিষ্টি পানি থাকে এবং যেসব বিল বা নদীতে সারাবছর পানি থাকে, তাতে মাছসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে মাইলফলক পরিবর্তন করা যায়। এখন এটি কেবল প্রাকৃতিক নিয়মে চলছে- এটি পরিকল্পিতভাবে চলতে পারে। ভাবুন তো হাজার শত ৩২ কিলোমিটার মিষ্টি পানিতে যদি মাস পরিকল্পিত মাছ পানিতে বেড়ে ওঠে তেমন প্রাণী বা বস্তুর চাষ করা যায়, তবে কি বিশাল পরিমাণ সম্পদ আমরা উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু এখন সেই কাজটি তো হয়ই না, বরং জলমহাল ইজারার নামে বিলগুলো শুকিয়ে মা মাছ সুদ্ধ মেরে ফেলা হয়। হাওড়ের বিলগুলো মিষ্টি পানির বিশাল আধার হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে। সেই মিষ্টি পানি মাছ-সব্জি-হাঁস-শামুক-মুক্তা চাষের অনন্য সুযোগ খুলে দিতে পারে। সারাবছর হাওড়ের পানিতে মাছের পাশাপাশি শামুক-ঝিনুক-মুক্তা চাষ তো বটেই, হাঁস-শাক-সব্জি ইত্যাদির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা যায়। এশিয়ার বৃহত্তম জলাভূমিকে এভাবে প্রকৃতির ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। অন্যদিকে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে হাওড়ের মাটি, পানি প্রকৃতির দিকে তাকানো যায়। হাওড়ের মানুষ হিসেবে আমার নিজের ধারণা এলাকায় গ্যাস রয়েছে। যোগাযোগের কারণে এই এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। কিন্তু কাজটি করা উচিত।

হাওড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার যে, অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি গবেষণার মাধ্যমে এইসব সম্পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য বদ্বীপ পরিকল্পনাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। ইতোপূর্বে হাওড় নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে, তার অনেক অংশ অচল এবং ১৫৪টির প্রকল্পের বেশির ভাগই অবাস্তব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। হাওড়ের প্রেক্ষিতকে বিবেচনায় না নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করে তার সুফল জাতি পাবে না।-হাওড়ের মানুষও পাবে না।

হাওড়ের প্রকৃতিকে ব্যবহার করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানোর সম্ভাবনাটাকেও আমরা গুরুত্ব দিতে পারি। পুরো হাওড়টাই একটি বিশাল পর্যটন কেন্দ্র। এর মাঝে কেবল কিছু অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে এই কাজটি হতে পারে।

ঢাকা ২৭ মে ২০২৩

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদকলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড সফটওয়্যারের জনক

[email protected]
www.bijoyekushe.net
www.bijoydigital.com

×