ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

 মেগা প্রকল্পের ভাল-মন্দ

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ১৯ মার্চ ২০২৩

 মেগা প্রকল্পের ভাল-মন্দ

.

সরকার কর্তৃক সম্প্রতি মেগা প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়ন নিয়ে তার্কিক কথা শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশে। কতিপয় বিজ্ঞ ব্যক্তি বলতে চাইছেন যে, দেশের সমকালীন আর্থ-সামাজিক অবস্থায় যেসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বা বাস্তবায়নের জন্য হাতে নিয়েছে সরকার তা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করা সঙ্গত হয়নি। বলা হচ্ছে যে, এর ফলে () দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হয়েছে, () গণকল্যাণমূলক উন্নয়নের প্রয়োজন প্রক্রিয়াকে অবহেলা করা হয়েছে এবং () দেশজ সঞ্চয় বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রত্যাশিত আকার সীমিত গতি ব্যাহত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে দেশে মেগা প্রকল্পের সমকালীন গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিশ্লেষিত মেগা প্রকল্প হলো যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টেনেসি উপত্যকা কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত টেনেসি নদী বিধৌত এলাকার সেচ বন্যানিয়ন্ত্রণ, নৌপথ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ভূমি উন্নয়ন, সার উৎপাদন, এমনকি সমকালে পারমাণবিক শক্তির সৃজন ব্যবহার আধুনিক যুগের বৃহত্তম সবচেয়ে খ্যাতনামা মেগা প্রকল্প গুচ্ছ। টেনেসি অঙ্গ রাজ্যের নকসভাইলে সদর দপ্তর নিয়ে এই কর্তৃপক্ষের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের, কিন্তু এর পরিচালনা অর্থায়ন হয় বেসরকারি করপোরেশনের ন্যায়। সরকারি প্রচেষ্টা নিয়ন্ত্রণে টেনেসি উপত্যকা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত, বাস্তবায়িত পরিবর্ধিত এসব প্রকল্প বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডেভিড লিলেনথাল সরকারি উন্নয়ন প্রচেষ্টার সফল সারথি হিসেবে পৃথিবীব্যাপী সুনাম অর্জন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র উন্নয়নকামী দেশসমূহের উন্নয়নে প্রযোজ্য যুতসই কার্যক্রম প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেনেসি উপত্যকা কর্তৃপক্ষও এর প্রকল্পসমূহকে উদাহরন হিসেবে উল্লেখ এবং প্রকারান্তরে অনুসরণ করার সুপারিশ করে এসেছে।

বাংলাদেশ সরকার কর্র্তৃক সমকালের বাস্তবায়িত বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পের সংখ্যা ৫৫। এর মধ্যে সম্প্রতি বাস্তবায়িত হয়েছে পদ্মা সেতু (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), রূপসা রেল সেতু (ব্যয় ৫০ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা মহানগর রেল পরিবহন লাইন (১ম পর্যায় ব্যয় . বিলিয়ন ডলার) পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (ব্যয় .৪৮ বিলিয়ন ডলার) বাস্তবায়নাধীন আছে পদ্মা রেল সংযোগ (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), কর্ণফুলী টানেল (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), ঢাকা উড়ালপথ (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), চট্টগ্রাম উড়ালপথ (ব্যয় বিলিয়ন ডলার), ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রুতগামী রেলপথ (ব্যয় ১৫ বিলিয়ন ডলার), চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), ঢাকা পাতালপথ (ব্যয় বিলিয়ন ডলার), ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল- (ব্যয় . বিলিয়ন ডলার), কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (৩০ মিলিয়ন ডলার), রূপপুর পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র (১২. বিলিয়ন ডলার), মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র (. বিলিয়ন ডলার), বাঁশখালী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (.৪৮ বিলিয়ন ডলার), ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ভূতল বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা (. বিলিয়ন ডলার), মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর (. বিলিয়ন ডলার), পায়রা সমুদ্রবন্দর (৫২১৯ কোটি টাকা), কক্সবাজারে শেখ হাসিনা ডুবোজাহাজ কেন্দ্র (. বিলিয়ন ডলার), পূর্বাচল বাণিজ্যিক কেন্দ্র (. বিলিয়ন ডলার), পূর্বাচল স্টেডিয়াম (. বিলিয়ন ডলার), তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প ( বিলিয়ন ডলার), বদ্বীপ পরিকল্পনার ৮০ উপপ্রকল্প (৮বিলিয়ন ডলার), বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ- (৪৩৫ মিলিয়ন ডলার), জাপানি অর্থনৈতিক জোন আড়াইহাজার ( বিলিয়ন ডলার) জাপানি অর্থনৈতিক জোন মীরেরসরাই (১০০ মিলিয়ন ডলার) এর বাইরে ঢাকা মহানগরীর রেল যোগাযোগ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে আরও ৬টি মেগা প্রকল্প।

এসব প্রকল্পের মধ্যে কক্সবাজারস্থ শেখ হাসিনা ডুবোজাহাজ কেন্দ্র প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে এবং আড়াইহাজার মীরেরসরাইতে স্থাপনীয় অর্থনৈতিক জোনের প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণের বাইরে স্থাপনীয় শিল্প-কারখানার স্থাপন ব্যয় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ব্যয় থেকে সংকুলান করা হবে। ঢাকা ওচট্টগ্রাম উড়ালপথ, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, বদ্বীপ পরিকল্পনা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ভূতল বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পের বেলায় দৃশ্যত প্রকল্পের আয়ুষ্কাল হিসাবে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণের হিসাবে নির্মাণকালীন ব্যয় সরকার থেকে বিনিয়োগ পর্যায়ে আহরণ সঙ্কুলান করা হবে বলে ধরা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম উড়ালপথ, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, বদ্বীপ পরিকল্পনা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ভূতল বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সরকারের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ভিত্তিতে বাস্তবায়নীয় বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।

উপরোক্ত মেগা প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে দেশের কতিপয় অর্থবিজ্ঞানী প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলতে চাচ্ছেন, পর্যায়ে এসব মেগা প্রকল্প হাতে নিলে অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর জনস্বার্থিক প্রকল্প বা কার্যক্রম হাতে নেওয়া সীমিত হবে। তাদের মতে এসব মেগা প্রকল্প হাতে নিলে প্রত্যক্ষভাবে দারিদ্র্য বিমোচন সামাজিক সেবা খাতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে যথার্থ কিংবা অধিকতর বিনিয়োগ বা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ফলত গণকল্যাণমূলক উন্নয়নের প্রয়োজন প্রক্রিয়াকে অবহেলা করা হবে। এছাড়াও অন্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ না কমিয়ে এসব মেগা প্রকল্পে অর্থায়ন করলে দেশে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাকে মেগা প্রকল্প অর্থায়নে প্রযুক্ত করলে ব্যক্তি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে, বিশেষত উদ্ভাবনশীল বিনিয়োগ বাড়বে না। এও বলা হয়ে থাকে যে, যথাপ্রয়োজন পরিধি বিস্তৃত পরিবেশ সৃষ্টি হলে ব্যক্তি বা বেসরকারি উদ্যোগ এসব মেগা প্রকল্প অর্থায়ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে এবং ফলত সরকারের ওপর আর্থিক দায়িত্ব চাপ কমে যাবে।

মেগা প্রকল্প বিষয়ে উপরোক্ত নেতিবাচক অবস্থানের বিপরীতে বেশ কিছু ইতিবাচক বিশ্লেষণভিত্তিক মতামত বিবেচ্য। এক, উল্লিখিত মেগা  প্রকল্পগুলো অর্থব্যবস্থার সামগ্রিক দ্রুত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। এই প্রয়োজন মেটানোর কার্যক্রমে বাংলাদেশের সমকালীন প্রেক্ষিতে সরকার ছাড়া ভিন্নতর বা ব্যক্তি উদ্যমভিত্তিক কার্যক্রম ইপ্সিত ফল দ্রুততার সঙ্গে দিতে পারবে না। রূপপুর পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, কিংবা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ব্যক্তি উদ্যম বা বিনিয়োগের ভিত্তিতে এই সময়ে হাতে নেওয়ার কিংবা গড়ে ওঠানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। সড়ক, রেল বন্দর উন্নয়ন বা সম্প্রসারণমূলক প্রকল্পগুলো ব্যক্তি বিনিয়োগ সৃজন প্রসারণের পূর্বশর্ত। কিন্তু ব্যক্তি উদ্যম দেশের সমকালীন পরিস্থিতিতে ইপ্সিত দ্রততার সঙ্গে এই শর্ত পূরণ করতে পারবে না। দুই, এসব মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন বেসরকারি বা ব্যক্তি খাতে অধিকতর দ্রুততর বিনিয়োগের সুযোগ এবং উৎপাদন ক্ষমতা সৃষ্টি করার সুযোগ পরিধি সৃষ্টি করবে। ফলত এসব মেগা প্রকল্প দেশের দ্রুত উন্নয়নের ভিত ইপ্সিত মাত্রায় প্রসারিত করবে, দেশে কর্মসংস্থান বিস্তৃত হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে দেশ দ্রুততর এগিয়ে যেতে পারবে। এসব মেগা প্রকল্পের ভিত্তিতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা সর্বক্ষেত্রে না বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের কোনো মেয়াদি বা প্রসারী উপায় নেই। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না করে কেবল সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বা ব্যয় বাড়িয়ে সময়ের ব্যাপ্ত পরিসরে উৎপাদন বাড়ানো বা দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে না। তিন, মেগা প্রকল্পসমূহের বিদেশী উপকরণ আমদানি দেশে তাৎক্ষণিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করবে না। এসবের দেশীয় উপকরণ আহরণ বাস্তবায়নকালীন শ্রম ব্যয় সযত্নে হিসাবকৃত কর্মসংস্থানের ব্যাপ্তি প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিন্যস্ত হলে অহেতুক মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হবে বলা চলে না।

কথা মনে রাখা সঙ্গত হবে যে, সার্বিকভাবে বেকারত্বের মুখে সরকার যদি দেশের উৎপাদন ক্ষমতা না বাড়িয়ে কেবল সামাজিক কুশল রক্ষা প্রসারণে ব্যয় বাড়ায় তাহলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়বে বৈ কমবে না। চার, এসব মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংস্থানীয় অর্থায়ন এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সংশ্লিষ্টায়ন দেশে প্রযুক্তির আহরণ আত্মীকরণ বিস্তৃত ত্বরান্বিত করবে। প্রযুক্তিকে ইপ্সিত মাত্রায় আত্মীকরণ করে অধিকতর প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আরও দুটি বিষয় সংশ্লিষ্ট সকলকে বিবেচনায় রাখতে হবে। এক, আমাদের অর্থব্যবস্থার এই পর্যায়ে এসব মেগা প্রকল্প ব্যক্তি উদ্যোগ দ্রুত প্রয়োজনমাফিক বাস্তবায়ন করতে পারবে বলা যায় না। উদাহরণত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিস্তৃতকরণ যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্নকরণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এক্ষেত্রের মেগা প্রকল্প হাতে নিতে বাস্তবায়িত করতে হবে। আগে ব্যক্তি উদ্যোগভিত্তিক উৎপাদন বাড়লে বিদ্যুৎ যোগাযোগের চাহিদা বাড়বে। এসব ক্ষেত্রে তারপর বিনিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে বলে আশা করা নিরর্থক। দুই, আমাদের উন্নয়ন অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন যে মেগা অর্থায়নের প্রয়োজন হয় তা অর্থব্যবস্থার অনুন্নয়নকালীন ব্যক্তি উদ্যোগ প্রয়োজনীয় মাত্রা গতিতে আহরণ প্রয়োগ করতে সক্ষম হয় না। আমরা আশা করতে পারি না যে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা কিংবা পায়রা বন্দর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় এককালীন বিনিয়োগ বেসরকারি উদ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব। টেনেসি উপত্যকা কর্তৃপক্ষের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, সেখানেও সরকারি উদ্যম সমর্থনকে ভিত্তি করেই বেসরকারি উৎস থেকে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মাফিক সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

কতিপয় ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির আশ্রয় কিংবা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে সুস্পষ্টভাবে গত জানুয়ারিতে বলেছেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির কোনো স্থান ছিল না এবং থাকবে না। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, এসব প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। এই প্রেক্ষিতে মনে রাখা প্রয়োজন দেশের বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্প বা কার্যক্রমের মান উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে বা যতটুকু দৃষ্টি দেওয়া সুষ্ঠুতর তত্ত্বাবধানের চেষ্টা প্রযুক্ত হচ্ছে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই মাত্রা বা পর্যায় থেকে নিম্নতর বা শিথিলতর কোনো তৎপরতা জনগণ কিংবা ওয়াকিবহাল মহলের দৃষ্টিগোচর হয়নি।

বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক মেগা প্রকল্পসমূহ গ্রহণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে টেনেসি উপত্যকা কর্তৃপক্ষের অভিজ্ঞতার আলোকে ৩টি কথা মনে রাখা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য সঙ্গত হবে। এক, যেসব ক্ষেত্রে সম্ভব সমীচীন সেসব ক্ষেত্রে আগামীর মেগা প্রকল্প অর্থায়নে সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বেসরকারি বা ব্যক্তি উৎস থেকে অর্থায়ন করা যথার্থ তত্ত্বাবধান, মিতব্যয় নিপুণতা বাড়ানোর সূত্র অনুগামী হবে। বেসরকারি বা ব্যক্তি উৎসকে এইভাবে উদ্দেশ্যে যদি সরকারের মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা যায় তাহলে আগামীতে অধিকতর মেগা প্রকল্প গ্রহণ বাস্তবায়ন এবং ফলত দ্রুততর অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। দুই, মেগা প্রকল্পসমূহ স্থাপন বাস্তবায়নের পর এসব ব্যক্তি উদ্যোগের সূত্র অনুযায়ী মিতব্যয়ী নিপুণ ব্যবস্থাপনীয় সংগঠন বা সংস্থার হিসেবে পরিচালিত করতে হবে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সরকার কর্তৃক স্থাপিত মেগা প্রকল্পসমূহের ব্যবস্থাপনা এদিক দিয়ে অধিকতর সচেতনতাভিত্তিক কার্যক্রমের দাবিদার হয়ে আছে। তিন, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পসমূহের সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ সেগুলোকে নতুনতর ক্ষেত্রে বিনিয়োগবাহী উৎপাদন প্রত্যাশী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারি অর্থায়নের বাইরে বেসরকারি উৎস থেকে বিনিয়োগ আহরণে মনোযোগী হতে হবে।

লেখক : সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী

×