ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

আয়কর প্রদানে গতি

-

প্রকাশিত: ২০:২৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আয়কর প্রদানে গতি

সম্পাদকীয়

রাজধানীতে ‘এনবিআর ভবন’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী  শেখ  হাসিনা কর প্রদান ও কর আদায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিমত প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে আবারও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের নীতি অনুযায়ী গ্যাস, বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া আর সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী খোলাখুলিই বলেন, আমাদের দেশে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা এখনো অনেক কম। অনেকে একে ঝামেলা মনে করেন। এজন্য সচেতনতার অভাবই দায়ী। তাই কর আদায়ে কোনো জোর-জুলুম না খাটানোর পরামর্শ দেন তিনি।

মানুষকে কোনো ভয়-ভীতির পরিস্থিতিতে না ফেলে উদ্বুদ্ধ করতে হবে আয়কর প্রদানে। জনগণকে জানাতে হবে আপনি যে কর দেন সেটা কিন্তু আপনার কাজেই লাগে। আজকে রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ বা এই যে পোর্ট, কৃষি, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই যেগুলো সরকার করে দিচ্ছে- সব শুভ ফল ভোগ করছে জনগণ। আর যারা এই শুভ ফল ভোগ করছে তাদের তো কিছু দিতে হবে, রাষ্ট্র তো আর এমনি এমনি দিতে পারে না। যেহেতু অন্য দেশের কাছে দান-অনুদান চাওয়ার সংস্কৃতি পরিত্যাগ করেছে বর্তমান সরকার, তাই যথাযথ কর আদায় অত্যাবশ্যক।

সরকারপ্রধান সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, যাদের কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে- সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল সিস্টেম হয়ে গেলে এই ফাঁকিটা আর দিতে পারবে না। পাশাপাশি মানুষ যাতে কর ফাঁকি না দেয় সেজন্য করের পরিমাণও এমন রাখতে হবে যেন প্রতিটা মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে পারে। তাই মানুষকে জানাতে হবে, ব্যাপক প্রচার করাও দরকার।
কর বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য আয়করমেলা বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখে আসছে। ২০১০ সাল থেকে করোনার সংক্রমণ শুরুর আগ পর্যন্ত  প্রতিবছর কর মেলা আয়োজন করে আসছে এনবিআর। এরই মধ্যে এই কর মেলা সাধারণ করদাতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে করোনার কারণে ক’বছর মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে করদাতাদের সুবিধার্থে দেশের সকল কর অঞ্চল অর্থাৎ ৪০টি অঞ্চলে নভেম্বরজুড়ে মিনি করমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আয়করমেলার আদলে কর অফিসে করদাতারা পাবেন ‘ওয়ানস্টপ’ সেবা। এছাড়া নতুন সেবা হিসেবে ‘এ চালান’ বা স্বয়ংক্রিয় চালানও দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি অনলাইনে বিকাশ, রকেট, নগদ, ইউক্যাশ ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর দেওয়ার সুবিধা পাবেন করদাতারা। করদাতারা আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ সব ধরনের সেবা নিতে পারবেন। করদাতাদের তথ্য সরবরাহ করার জন্য কর অঞ্চলগুলো ছাড়াও সচিবালয়, অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অস্থায়ীভাবে কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করা হবে। এসব কেন্দ্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ অন্যান্য করসেবা ও কর সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। আয়কর প্রদানে গতি আনা সম্ভব হলে মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করে দেশ আরও এগিয়ে যাবে- এমনটাই প্রত্যাশা।

×