ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রশ্নবিদ্ধ উচ্চশিক্ষা

প্রকাশিত: ২০:৪১, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

প্রশ্নবিদ্ধ উচ্চশিক্ষা

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ ছোট আয়তনের দেশ হলেও জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। জনশুমারি ২০২২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। ২০১১ সালে এই হার ছিল ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে ব্যাপকভাবে। তবে এই শিক্ষা কি শুধু পুঁথিগত বিদ্যার মাঝেই আটকে আছে, নাকি সত্যিকারের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ছে- সেটি একটি প্রশ্ন! দেশে দিন দিন বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। রয়েছে ছদ্মবেশী, মৌসুমি লেখাপড়া ও কাজ না জানা বিভিন্ন ধরনের বেকার।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী রয়েছে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিপুল সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছরই লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জন করে বের হচ্ছে। যাদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ থাকে কর্মহীন। তারা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় না। অনেকে আবার হতাশায় বিভিন্ন অনৈতিক কাজেও লিপ্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্যানুসারে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৪ কোটি ৫৯ লাখ। আইএলও-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশি তরুণদের বেকারত্বের হার ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ গড়ে ৪০ লাখের বেশি যুবক বেকার। যদিও বলা হয় যে, জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্বের হার মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন কর্মমুখী হচ্ছে না? দেশের অধিকাংশ চাকরিজীবীর কাজের সঙ্গে পড়ালেখার কোনো মিল প্রায় নেই। এজন্য প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো দরকার ব্যাপকভাবে। গৎবাঁধা শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে যুগোপযোগী কাজের সঙ্গে পড়ালেখাকে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্প্রতি কানাডিয়ান ভার্সিটির প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গ্র্যাজুয়েট তৈরির কারখানা খুলে বসেছে। অনেকটা গুদাম থেকে মাল বের করার মতো। শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখল বা কর্মসংস্থানের জন্য কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করল, তার কোনো বালাই নেই। ফলে, উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু সংখ্যক অসাধু লোকের কর্মকা-ের জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কতিপয় শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিকে ঐচ্ছিক দায়িত্ব মনে করেন। বৈকালিক কোর্স বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়াকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। ছাত্র, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে এটি খুবই বেমানান।’ নানা রকম অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা হচ্ছে হরহামেশাই। এসবের জরুরি অবসান বাঞ্ছনীয়। 
শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা সময়ের দাবি। শিক্ষিত বিত্তবানরা বিদেশে পাড়ি জমালেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের টিকে থাকতে হয় দেশের প্রতিযোগিতামূলক শ্রম বাজারে। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপুল পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পাঠদানে শিক্ষকদেরও উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।

সৎভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারলে কোনো কাজই ছোট নয়- সেই নীতিবোধও তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে মৌসুমি বেকারত্ব, যারা ঋতুভিত্তিক কাজ করে এবং বাণিজ্যচক্রজনিত বেকারত্ব, যা অর্থনীতির উত্থান-পতনের কারণে সৃষ্টি হয়- সেসব বেকারের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস করা সম্ভব হতে পারে।

×