ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

১৫২ উপজেলা নির্বাচন ॥ ১৭ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের তফসিল

বেশ কিছু এলাকায় বিএনপির নেতারাও প্রার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:১৭, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

বেশ কিছু এলাকায় বিএনপির নেতারাও প্রার্থী

উপজেলা নির্বাচন

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ১৫২ উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সোমবার শেষ হয়েছে। প্রতিটি উপজেলাতেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার ছড়াছড়ি হলেও বেশ কিছু উপজেলায় নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপির কিছু নেতাও প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের লম্বা ছুটিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশ না মেনে নিজের পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে অনেক এমপি-মন্ত্রী-নেতার প্রকাশ্য কিংবা গোপনে সক্রিয় থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের তফসিল আগামী ১৭ এপ্রিল ঘোষণা করা হতে পারে। আগামীকাল বুধবার কমিশনের ৩১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সভাপতিত্ব করবেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার আলোচ্য সূচিতে উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের তফসিলের বিষয়টি রাখা হয়েছে। বৈঠকে কমিশন যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।
এদিকে, সোমবার প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হয়েছে। শেষদিনে ১৫২ উপজেলায় বিপুলসংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে গড়ে প্রতিটি উপজেলাতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা চারজনের অধিক। কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে থাকলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে এমন আশায় অনেক উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের এখন অনেকদিন বাকি। তবে এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের দীর্ঘ ছুটির সুযোগে নিজ পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয়া দেখা গেছে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের। অধিকাংশ স্থানেই গোপনে নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা নিয়েছেন এসব নেতা। এবার দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে না, প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে দলটি। দলের ভেতর থেকে একক প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের দাবি উঠলেও বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা এড়াতে ভোটে হস্তক্ষেপ না করতে দলীয় নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নির্দেশনা দেয় আওয়ামী লীগ। 
কিন্তু তা উপেক্ষা করেই নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানারে নিজ পছন্দের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব নেতাকে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তফসিল ঘোষিত উপজেলাগুলোয় এই সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে। এ নিয়ে অনেক উপজেলাতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা গেছে। 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল সোমবার। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামীকাল বুধবার। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ১৩ এপ্রিল আর ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ মে। 
এই ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, মনোনয়নপত্র সব অনলাইনে দাখিল করেছেন প্রার্থীরা। জামানতের টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই এবার হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর দ্বিতীয় ধাপের ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২১ মে। চার ধাপের উপজেলা ভোটের পরবর্তী দুই ধাপের নির্বাচন ২৯ মে ও ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের রিপোর্টারদের পাঠানো রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি উপজেলাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার ছড়াছড়ি। কোনো কোনো উপজেলাতে এই সংখ্যা হাফ ডজন ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রের কোনো চাপ না থাকা বা বহিষ্কারের সম্ভাবনা না থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতারাও পাল্লা দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা নির্বাচনে।
একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের লম্বা ছুটির সুযোগে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। জাতীয় নির্বাচনের পরে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের উপজেলা চেয়ারম্যান, সাধারণ ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্নভাবে সক্রিয় থেকেছেন অধিকাংশ নেতা, মন্ত্রী-এমপি।

নির্বাচনী সংঘাত, সহিংসতা ও দলে বিভক্তি দেখা দিতে পারে আশঙ্কায় কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগ কড়া নির্দেশনা জারি করলেও সুকৌশলে মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তৎপরতা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঈদের আগে-পরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, এমপি ও মন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকায় বেশ সক্রিয় দেখা যায়। রোজায় ইফতার আয়োজন, ঈদ উপলক্ষে অসহায়দের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ, ঈদ ও নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়সহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা।

এসবের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন, উৎসাহ ও কাজ করার বিস্তর অভিযোগ নিজ দলেরই অন্য প্রার্থীদের। আনুষ্ঠানিকভাবে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট না চাইলেও মন্ত্রী-এমপি- নেতারা তাদের বিশাল সমর্থকদের নানা মাধ্যমে কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে তা জানিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

×