ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

বেইলি রোডে বিভীষিকা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৪১, ১ মার্চ ২০২৪

বেইলি রোডে বিভীষিকা

বেইলি রোডের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে মৃতদের স্বজনদের আহাজারি

রাজধানীর বেইলি রোডে বৃহস্পতিবার রাতটি ছিল বিভীষিকাময়। ভয়াবহ আগুন কেড়ে নেয় ৪৬ প্রাণ। এখনো হাসপাতালে ধুঁকছে বহু দগ্ধ মানুষ। বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ ভবনে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত নিচতলার খাবারের একটি দোকান থেকে। সেখান থেকে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬-এ। এর মধ্যে ৪১ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৪১ জনের মরদেহ। বাকি পাঁচজনের মরদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আগুন আতঙ্কে নিরাপদ মনে করে দ্বিতীয় তলার কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আশ্রয় নেন অনেকে।

পরে সেখানেই আগুনে পুড়ে ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। তবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার চেয়ে বেশিরভাগই ধোঁয়ার কারণে দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবন কর্তৃপক্ষ পাঁচতলা পর্যন্ত অনুমোদন নিলেও আরও দুইতলা বেশি ব্যবহার করে আসছিল। মূলত অফিস করার অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন ফ্লোরে গড়ে তোলে রেস্টুরেন্ট। ফলে ভবনটিতে রেস্টুরেন্ট বেশি থাকায় এবং প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নোটিস দিলেও সেটি তোয়াক্কা করেনি ভবন কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটিতে ভোক্তাদের সবসময় ভিড় থাকলেও বৃহস্পতিবার লিপ ইয়ার উপলক্ষে বিশেষ ছাড় দেয় কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট। এতে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভবনে ভোক্তাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস রাজউক। অগ্নিকান্ডে নিহতের ঘটনায় গভীর শোক দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী। চলছে সর্বমহলে শোকের মাতম। এদিকে রাতে রেস্টুরেন্টের দুজন মালিক কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)   

৭ম তলা ভবনটির নিচতলায় স্যামসাং গেজেট অ্যান্ড গিয়ার নামে দুটি ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম বিক্রির দোকান এবং শেখলিক নামের একটি জুসবার (ফলের রস বিক্রির দোকান) চুমুক নামের একটি চা-কফি বিক্রির দোকান ছিল। দ্বিতীয়তলায় কাচ্চি ভাই নামের একটি রেস্তোরাঁ, তৃতীয় তলায় ইলিয়ন নামের একটি পোশাকের ব্র্যান্ডের দোকান, চতুর্থতলায় খানাস ফুকো নামের দুটি রেস্তোরাঁ, পঞ্চম তলায় পিৎজা ইন নামের একটি রেস্তোরাঁ, ষষ্ঠ তলায় জেসটি স্ট্রিট ওভেন নামের দুটি রেস্তোরাঁ এবং ছাদের একাংশে অ্যামব্রোশিয়া হাক্কাঢাকা নামের একটি রেস্তোরাঁ ছিল। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ছিল আন্ডারগ্রাউন্ড। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিচতলার চুমুক চা-কফির দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। অগ্নিকান্ডে শুরুতেই অনেকে ভিডিও ধারণ করেন। সেসব ভিডিও থেকেও প্রতীয়মান যে, নিচতলার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। ্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেনও জানিয়েছেন, নিচতলার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। 

আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছে, ভবনটির নিচতলায় শেখলিক নামের জুসবার থেকে আগুনের সূত্রপাত। জুসবারটি মাত্র কয়েকদিন আগে করা হয়েছে। তবে ভবনটির পাঁচতলা পর্যন্ত অনুমোদন ছিল। কিন্তু ভবন কর্তৃপক্ষ উপরের বাকি দুইতলাও ব্যবহার করে আসছিল। এমনকি ভবনটিতে অফিস করার অনুমতি ছিল। কিন্তু অফিস না করে এখানে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টসহ দোকান করা হয়েছে। ভবনটিকে ইতিপূর্বে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নোটিসও দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার করেনি ভবন কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী জানান, ভবনটিতে একটি মাত্র সিঁড়ি আছে। ধোঁয়ার কারণে মানুষ যেখানে অচেতন হয়ে পড়েছিল। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছি, আমরা আসলে দেখতে চাই কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না। ফায়ার সেইফটি প্ল্যান ছিল কি না আমরা তদন্তে দেখতে চাই। ছাড়া ভবন নির্মাণ করতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছিল কি না তাও আমরা তদন্ত করে দেখব। এই ভবনটিকে ইতিপূর্বে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছিল। আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল নিচতলা থেকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

অভিজাত এলাকা নামে খ্যাত বেইলি রোড। বিশেষ করে এই এলাকায় অনেকগুলো খাবারের রেস্টুরেন্ট থাকায় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় সবসময়ই থাকে। ভবনটিতেও একাধিক রেস্টুরেন্ট থাকায় ভোক্তাদের ভিড় লেগেই থাকত। এসব রেস্টুরেন্ট থেকে কেউ সরাসরি আবার কেউ অনলাইনে অর্ডার করে খাবার নিতেন। ডেলিভারিম্যান রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার সংগ্রহ করে ভোক্তাদের ঠিকানায় পৌঁছে দিতেন। তবে বৃহস্পতিবার লিপ ইয়ার উপলক্ষে খাবারের ওপর বিশেষ ছাড় দেয় দ্বিতীয়তলার কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট। কারণে সেখানে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভোক্তাদের উপস্থিতি ছিল বেশি। ভবনটির অন্যান্য ফ্লোরেও অবস্থিত রেস্টুরেন্টেও ছিল ভিড়। কেউ এসেছেন রেস্টুরেন্টে খেতে, কেউ এসেছেন বন্ধুর সঙ্গে আবার পুরো পরিবার নিয়েও এসেছেন অনেকে। তখন যে যার মতো ব্যস্ত। ঠিক সময় বিকট শব্দে নিচতলায় আগুন ধরে যায়। অনেকে আতঙ্কে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। আবার অনেকে দ্বিতীয়তলায় কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের উত্তর-পশ্চিম কর্নারে একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে আগুনের তীব্রতায় সেখান থেকে আর অন্যত্র যেতে পারেননি তারা। একটা পর্যায়ে আগুনে এবং ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তারা।

ওই কক্ষ থেকে কোনোভাবে বেঁচে ফেরা বেশ কয়েকজন এবং ভবনটি পরিদর্শনে যাওয়া একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যখন নিচতলা থেকে আগুন ওপরের ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। চতুর্দিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তখন দ্বিতীয়তলায় থাকা লোকজন কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। ওই কক্ষে চারটি এসি ছিল। এসি চালু থাকার কারণে কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল, ভেতরে ধোঁয়া ঢুকতে পারেনি। এসি ধোঁয়া টেনে নেয়। কারণে ওই কক্ষে ধোঁয়া না দেখে এবং নিরাপদ মনে করে অনেকেই সেই কক্ষে আশ্রয় নেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে গেলে সেখান থেকে আর অন্যত্র তারা যেতে পারেননি। একটা পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এসি বন্ধ হয়ে যায়। এতে এসি থেকে আরও বেশি ধোঁয়া ওই কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে আগুনে পুড়ে ওই কক্ষের প্রায় সবাই মারা যান।

ইলেক্ট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) এর সাধারণ সম্পাদক জাকির উদ্দিন আহমেদ ভবনটি পরিদর্শন শেষে জানান, ২০২১ সালে জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকা-ের সময়ও ভবনে আটকাপড়া অনেকে নিরাপদ মনে করে কারখানার একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে সেখানে পুড়েই অঙ্গার হন সবাই। সচেতনতার অভাবে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে এই ভবনে অগ্নিকা-ের ঘটনায়। তারা যদি আগেই সেখান থেকে সরে যেতেন, হয়তো আহত হতেন কিংবা কিছুটা দগ্ধ হতেন। কিন্তু এভাবে তিলে তিলে পুড়ে বা ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতেন না। তিনি জানান, ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ফায়ার এলার্ম, ফায়ার হাইড্রেন্ট ফায়ার এক্সটিংগুইশার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র) থাকা আবশ্যক। কিন্তু এই ভবনে শুধু একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার পাওয়া গেছে। তাও অনেকগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। মুখে স্কচটেপ আটকানো ছিল। তার মানে, ভবনের অনেকেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করতে জানত না।

প্রিয়জন হারা স্বজনদের শোকের মাতম বৃহস্পতিবার রাতে অগ্নিকান্ডে খবরে বেইলি রোডে ছুটে আসেন সেখানে কাজ করা স্টাফদের স্বজনরা। আবার যারা খেতে এসেছেন কিংবা কেনাকাটা করতে এসেছেন, তাদের স্বজনরাও ছুটে আসেন। প্রিয়জনকে না পেয়ে রাত থেকে ছোটাছুটি করতে থাকেন হাসপাতালে আবার ওই ভবনের সামনে। একটা পর্যায়ে অনেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এবং বার্ন ইনস্টিটিউটে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শনাক্তকৃত লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৪৬ জনের মধ্যে ৪১ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সময় প্রিয়জনের লাশ নিতে এসে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

দেখা যায়, একেকটি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের ভেতরে ঢুকছে, আর সাইরেন বাজিয়ে লাশ নিয়ে বের হচ্ছে। স্বজনরা লাশ ঘিরে কান্নাকাটি করছেন।

ছেলে কেএম মিনহাজ উদ্দিনের খবর না পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার বাবা ওয়ালিউল্লাহ, ভাই মেহেদিসহ অন্যান্য স্বজন। তারা জানান, মিনহাজ তার এক বন্ধু আমিনকে নিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আমিন লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পেলেও মিনহাজের খোঁজ মিলছে না। জরুরি বিভাগে মিনহাজের মা হাউমাউ করে কাঁদছেন আর বলছেন, আমার ছেলেটারে একবার দেখা। যাকেই দেখছেন, তাকেই তিনি জড়িয়ে ধরে কথা বলছেন। তাকে বোঝানোর ভাষা যেন কারও জানা নেই। স্বজনদের সান্ত¦ানায়ও কাজ হচ্ছে না। তবে আগুনে পুড়ে নিহতদের একজনের মধ্যে মিনহাজকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্ধু মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, মিনহাজের একটি দাঁত উঁচু-নিচু। দাঁত দেখে এবং তার হাতের ঘড়ি দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নুর (এনডিসি) জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি পাঁচ লাশ পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এসব লাশের বিপরীতে দুজন দাবিদার এসেছেন। সেগুলো শনাক্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারিভাবে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক পরিবার অনুদানের টাকা নেননি। 

ধোঁয়া আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল এবং শেখ হাসিনা বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন ১২ জন। এর মধ্যে দুজন ঢাকা মেডিক্যালে এবং ১০ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যালে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এই অগ্নিকান্ডে ঘটনায় পুরো ভবনটিতে বদ্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থায় সেখানে অতিরিক্ত ধোঁয়া তাপে কেউই শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তাই যতজন মারা গিয়েছেন, সবারই শ্বাসনালি পুড়ে মারা গিয়েছে। যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তারা কেউই শঙ্কামুক্ত নন। আহত সবার চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করবে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক প্রবীর চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণকার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং’, সহজ ভাষায় যাকে বিষাক্ত ধোঁয়া বলা যায়।

আটক তিন ঘটনায় ভবনের নিচতলার চুমুক রেস্টুরেন্টের দুজন মালিক কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আটকরা হলেন- চায়ের চুমুকের মালিক আনোয়ারুল হক শাকিল আহমেদ রিমন এবং কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার জিসান। শুক্রবার রাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সার্বিক পরিস্থিতিসংক্রান্ত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) . . মহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা, দায়, আগুনের কারণ জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাদের আটক করা হয়েছে।

ভুতুড়ে পরিবেশ গ্রিন কজি কটেজ পুরো ভবনটির বাইরের অংশ কাঁচের। ভেতরে রেস্টুরেন্টের লাল-নীল বাতি, যা বাইরে থেকেও চমক দেখাত। সুন্দর সুন্দর সাইনবোর্ড। এমন সাজানো-গোছানো ছিল বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ ভবনটি। বৃহস্পতিবার রাতে লাগা আগুনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো ভবনের চেহারা পাল্টে গেছে। বাইরের কাঁচের দেওয়াল ভাঙাচোরা। বিভিন্ন ফ্লোরের চেয়ার, টেবিল, আসবাবপত্র বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। ভবনের দেওয়াল ঘেঁষে ধোঁয়ায় আর পোড়া ক্ষত। পুড়ে গেছে সাইনবোর্ড। প্রতিটি ফ্লোরে গহিন অন্ধকার। যেন এক ভুতুড়ে পরিবেশ। 

দুপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এসে ্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন বলেন, আগুন শুরু হয়েছিল নিচতলার ছোট একটি দোকান থেকে, সিলিন্ডার থেকে। প্রাথমিকভাবে এক্সটিংগুইশার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র) দিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। আরও অনেক সিলিন্ডার ছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত হওয়াতে আগুন খুব দ্রুত আকারে ছড়িয়ে যায়। যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগই ধোঁয়ার কারণে দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

তদন্ত কমিটি গঠন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি আগামী সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে, তিনি ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন মেনটেন্যান্স শাখার পরিচালক।

×