ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

অন্যজনের লাশ দাফন

বগুড়ায় নিহত এক জঙ্গীর পরিচয় মেলেনি

প্রকাশিত: ০৪:২৫, ৭ এপ্রিল ২০১৬

বগুড়ায় নিহত এক জঙ্গীর পরিচয় মেলেনি

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ার গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত আরেকজনের পরিচয় মেলেনি। তার লাশ এখনও মর্গে আছে। লাশ দাবি করে কেউ নিতেও আসেনি। এদিকে পরিচয় পাওয়া নিহত জঙ্গী তরিকুলের লাশ পোস্টমর্টেম শেষে মঙ্গলবার রাতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তরিকুলের লাশ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের জামুয়া গ্রামে দাফন হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় নিহত দুই ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দায়ী, বাড়ির ভাড়াটিয়া মিজানুর ও পরিবার এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে বিস্ফোরক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী দমন আইনে ৩টি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানায়, বাড়ির ভাড়াটিয়া অটোরিক্সা চালক পরিচয় দেয়া মিজানুরকে খুঁজে বের করতে দেশের সকল থানায় জরুরী মেসেজ পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। নিহতের বাবা আবু বকর সিদ্দিকী, বড়ভাই সানাউল্লাহ, লিয়াকত হোসেন, বরকতউল্লাহ, বোন সাকেরা খাতুন ও ভাবি মেহবুবা আক্তারকে সিরাজগঞ্জের জামুয়া গ্রাম থেকে বগুড়ায় এনে লাশ শনাক্ত করিয়ে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নিহতের বড়ভাই সানাউল্লাহ ইসলামী ব্যাংক সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া শাখার প্রিন্সিপ্যাল অফিসার, আরেক ভাই লিয়াকত আলী জামুয়া সরকারী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। এই স্কুলেরই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকীর ছোট ছেলে নিহত তরিকুল। তরিকুলের এক ভাই কুদরুতুল্লাহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির এহসার সদস্য ছিল। ২ হাজার ৫ সালে সারাদেশে একসঙ্গে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের পর মহাস্থানের এক মাদ্রাসায় জঙ্গীদের অন্তর্দ্বন্দ্বে সে নিহত হয়। বগুড়ার শেরপুরের গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের পর যে পাসপোর্ট পাওয়া যায় তা কুদরুতুল্লাহর। এই পাসপোর্ট কিভাবে তরিকুলের কাছে ছিল এবং এই পাসপোর্টের কি ব্যবহার ছিল তা জানার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা। তরিকুল ২ হাজার ৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরাজগঞ্জ কোর্ট চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের সময় ধরা পড়ে। ঘটনায় তিন বছর জেল খেটেছে। গত কোরবানি ঈদের পর থেকে তার কোন খোঁজ ছিল না। খোঁজ পেতে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ বর্তমানে তরিকুল ও তার পরিবারের নানা পয়েন্টে নিয়ে খোঁজখবর করছে। তরিকুলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শিয়ালকোট ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামে। বছর ১০-১২ আগে এই বাড়িতে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া জঙ্গী শায়খ আব্দুর রহমানের যাওয়া-আসা ছিল। তিনি (শায়খ) দুই ছেলেকে এই বাড়িতে জায়গীর রাখেন। তাদের সঙ্গেই তরিকুল ও বড়ভাই কুদরুতুল্লাহ জেএমবিতে যোগ দেয়। তরিকুল জেএমবির পরিচয় লুকিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক পর্যায়ে তরিকুলকে বহিষ্কার করে। তরিকুল বিয়ে করার পর স্ত্রীকে তালাক দেয়। বগুড়ার শেরপুরের গ্রামে সিএনজি অটোরিক্সা চালকের ছদ্মাবরণে মিজানুর যখন বাড়ি ভাড়া নেয় তখন তরিকুলকেই ভগ্নিপতির পরিচয় দিয়েছিল। তরিকুল নিজেকে সবজি ব্যবসায়ীর পরিচয় দিত। প্রায় ৬ মাস আগে বাড়ি ভাড়া নেয়ার পর এই বাড়িতে খুবই গোপনে জঙ্গীদের যাওয়া-আসা শুরু হয়। ঘটনার তিন দিন আগে মিজানুর যখন পরিবার নিয়ে নওগাঁ রওনা হয় তখন তরিকুল ও আরও একজন সেই বাড়িতে রেখে যায়। বিস্ফোরণের আগের তিন দিনে কত লোক এই বাড়িতে যাওয়া আসা করেছে তারও খোঁজ করা হচ্ছে। নিহতের আরেকজনের পরিচয় পেতে পুলিশ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছে সিরাজগঞ্জের তরিকুলদের বাড়িতে যে দুইজন জায়গীর ছিল তাদের একজন হতে পারে অপর নিহত ব্যক্তি।